কর্তোয়ার ডেপুটি এবার হচ্ছেন ক্যাবায়েরো

ক্লাবের ডেবুটি গোলরক্ষককে ১০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে বেচে দিয়ে তাকে একটা ফ্রি গোলরক্ষকের মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত করাটা কেবল মনেহয় চেলসিরই সাজে। স্কোয়াড প্লেয়ারদের চড়া মূল্যে বিক্রি করতে অভ্যস্ত চেলসি এবারও নিজেদের ব্যাকআপ গোলরক্ষকের পজিশানের ক্ষেত্রে এই কাজটাই করলো। গত দুই মৌসুমের ব্যাকআপ গোলরক্ষক বসনিয়ান গোলরক্ষক আসমির বেগোভিচকে আরেক ইংলিশ ক্লাব বোর্নমাথের কাছে ১০ মিলিয়ন পাউন্ডফে বিক্রি করে প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটির আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক উইলি ক্যাবায়েরোকে নিয়ে এলো একদম ফ্রি তে, কেননা এই মৌসুমেই সিটির সাথে ক্যাবায়েরোর চুক্তি শেষ, ফলে যেকোন ক্লাবেই ক্যাবায়েরো ফ্রি তে যোগদান করতে পারতেন। ঝোঁপ বুঝে সেই কোপটাই মারলেন চেলসি কোচ আন্তোনিও কন্তে। ব্যাকআপ গোলরক্ষকের জায়গাটা পূর্ণ করলেন বেগোভিচের প্রায় সমকক্ষ (কিংবা তার থেকেও ভালো) একটা গোলরক্ষক দিয়ে, দশ মিলিয়ন পাউন্ড লাভ করার মাধ্যমে!

বোকা জুনিওর্সে ক্যারিয়ার শুরু করা ক্যাবায়েরো খেলেছেন স্প্যানিশ লিগের ক্লাব মালাগা ও এলচেতেও। মালাগাতেই তার সুপারস্টারডমের শুরু, যেখানে তার ফর্ম দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকে তিন বছর আগে কিনে নেয় ম্যানচেস্টার সিটি, কোচ ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির অধীনে ছিল তখন যারা। জ্যো হার্ট কিংবা ক্লদিও ব্রাভোদের তোপে কখনই সিটির “নাম্বার ওয়ান” গোলরক্ষক হতে পারেননি তিনি, তিনটা বছর মূলত পালন করেছেন ব্যাকআপ গোলরক্ষকের ভূমিকাই, এবার চেলসিতে এসেও ঐ একই ভূমিকা পালন করতে হবে, বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়ার ডেপুটি হয়ে থাকতে হবে তাকে।

৩৫ বয়সী এই গোলরক্ষক পেনাল্টি সেইভ করার ব্যাপারে বেশ পটু। ২০১৬ সালের লিগ কাপ ফাইনালে লিভারপুলের তিন-তিনজন খেলোয়াড়ের স্পটকিক রুখে দিয়ে একরকম একাই সিটিকে জিতিয়েছিলেন লিগ কাপ। আবার গত মৌসুমে চেলসির বিরুদ্ধে লিগের এক ম্যাচে ইডেন হ্যাজার্ডের একটা পেনাল্টিও রুখে দিয়েছিলেন তিনি। সিটির বর্তমান কোচ পেপ গার্দিওলার অধীনে বেশ কিছু ম্যাচ সিটির নাম্বার ওয়ান গোলরক্ষক হিসেবে খেলেছিলেন তিনি, জ্যো হার্টের বদলে, কিন্তু বার্সেলোনা থেকে ক্লদিও ব্রাভো আসার পর আবারো তাকে ডেপুটি গোলরক্ষক হিসেবে বেঞ্চে বসে থাকা শুরু করতে হয়। তবে ব্রাভোর বিশাল বিশাল কিছু ভুলের কারণে আবারো ব্রাভোকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখে ক্যাবায়েরোকে খেলানো শুরু করেন গার্দিওলা।

ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে গোটা তেইশেক ম্যাচ খেলেছেন এই তিন বছরে ক্যাবায়েরো, শতকরা ৭০.২৭ সফল সেইভ করেছেন, মোট সেইভ সংখ্যা তার ৫২টি, পুরো সিটি ক্যারিয়ারে। সফল পাস দেওয়ার হার সত্তরের থেকে কিছু বেশী, সফল পাস দিয়েছেন সাড়ে পাঁচশ’র মত। এই তেইশ ম্যাচের মধ্যে কোন গোল খাননি এরকম ম্যাচ ছিল ৭টি, বাকী ম্যাচগুলোতে মোট গোল খেয়েছেন ২২টার মত। পর্তুগিজ অভিজ্ঞ গোলরক্ষক এদুয়ার্দোর সাথে ক্যাবায়েরোও চেলসিতে কর্তোয়ার ডেপুটির ভূমিকা পালন করবেন এখন থেকে। ফ্রি তে কি এর থেকে ভালো কাউকে পেতে পারতেন কন্তে? মনে হয় না!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

five × 2 =