কোপার আগে সাম্বা-ডিফেন্সঃ যেভাবে জুড়ছে ব্রাজিলের ভাঙা ঘর !

বিশ্বকাপের পরে একদম চুপ মেরে গিয়েছিলাম । শকটা নিতে কষ্ট হয়েছিলো । ২০০৬ এ ঐরকম তারকাবহুল দলটা ফ্লপ খাবার পরে দুঙ্গাকে যখন চার্জ দেওয়া হয় , সেবারে দুঙ্গার চ্যালেঞ্জটা সাইকোলোজিকাল ছিলো না । আসল চ্যালেঞ্জটা ছিলো ট্যাকটিকাল । নতুন কাউকে খুঁজে বের করা । কারণ কার্লোস-দিনহোদের একটা সোনালি জেনারেশন আস্তে আস্তে ঝিমিয়ে যাচ্ছিলো ।

প্রথম মেয়াদে দুঙ্গার চ্যালেঞ্জ ছিলো ফ্যাবিয়ানোদের খুঁজে বের করা
প্রথম মেয়াদে দুঙ্গার চ্যালেঞ্জ ছিলো ফ্যাবিয়ানোদের খুঁজে বের করা

এবারে দুঙ্গার কাজটা অনেকটাই দলের মানসিকতাটা বদলে দেওয়া । দল রেডিই ছিলো । সবাই জানতো , এ বদলে ওকে নিলে ফলাফলটা ভাল আসবে । আর এই মিশনে দুঙ্গার আসলে চ্যালেঞ্জ ছিলো মিনেইরাজোর পরে দলের মানসিকতাটা বদলে দেওয়া । আর স্কোলারির দলে আশ্চর্যভাবে হলেও বাইরে বাইরে ঘোরা কিছু খেলোয়াড়দের এনে তাদেরকে জাস্ট পথটা দেখানো ।

মিনেইরাজোর পরে এই দলটার মানসিকতা বদলে দেওয়াটাই ছিলো চ্যালেঞ্জ
মিনেইরাজোর পরে এই দলটার মানসিকতা বদলে দেওয়াটাই ছিলো চ্যালেঞ্জ

তবে টানা আটটা জয় বা নেইমারের চলতি ফর্মের চাইতেও দুঙ্গার করা আশাব্যঞ্জক কাজের মধ্যে থাকবে ডিফেন্সের সম্ভাব্য সেরা কম্বিনেশনটা বের করে আনা । অন্তত, তার ফুটবল দর্শনের সাথে যেটা যায় । প্রথমে থিয়াগো সিলভার সাথে মাঠের বাইরের নানারকম অপ্রত্যাশিত ঘটনায় এ ব্যাপারে কালো মেঘ জমলেও দুঙ্গার বড় সাফল্য থিয়াগোর মত একজন মাস্টার সেন্টারব্যাককে দারুনভাবে আবার ব্রাজিল ন্যাশনাল টীমের মূলধারার অংশ করে নেওয়া । একটা কথা কি জানেন ? ডেভিড লুইজ বা দান্তে একটা দুইটা ম্যাচ একদম ছিঁড়ে খুঁড়ে ডিফেন্স করলেও আমি বিশ্বাস করি , বড় মঞ্চে সিলভা না থাকলে ডিফেন্সের লিডটা অমন করে নেবার পাওয়ারটা লুইজ রাখেন না ! লুইজ ভালো, তবে লুইজের সেরাটা বের করতে তার মাথার উপরে থিয়াগো সিলভার মত একজন লিডার লাগে । মিরান্ডা সেন্টারব্যাক হিসেবে লুইজের চাইতে সলিড ।দুঙ্গার ফুটবল ফিলোসোফি যতদূর দেখেছি , তাতে মনে হয় ফর্মে বড় উঠানামা না এলে থিয়াগো সিলভা- মিরান্ডা পার্টনারশিপই ব্রাজিল ন্যাশনাল টীমে সামনে অনেকদিন রাজ করবে ।

কিছুটা মারদাঙ্গা হলেও মিরান্ডা দুঙ্গার কাছে অপরিহার্য
কিছুটা মারদাঙ্গা হলেও মিরান্ডা দুঙ্গার কাছে অপরিহার্য

লেফটব্যাক হিসাবে মার্সেলোর বর্তমান ফর্ম ভালো । তারমত একজন এগ্রেসিভ স্বভাবের লেফটব্যাকের জায়গাটা দুঙ্গার দলে প্রথমে হয় নি । শুধু এই ব্যাপারটাই খেয়াল করুন, ফর্মে ঠিক উন্নতির ছাপ আসলে দুঙ্গার মতো একরোখা স্বভাবের একজন তার সিদ্ধান্ত বদলে সেই মার্সেলোকেই এমন কি কোপা আমেরিকার দলেও রেখে দেন ? ফেলিপে লুইস চেলসিতে মৌসুমের একটা বড় সময় কাটিয়েছেন বেঞ্চে- এটা তার জন্যে কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে । তবে , এখানে জেনে রাখবেন , ফেলিপে লুইস এখনো এক নম্বর চয়েজ । তবে আরো একটা সিজন এভাবে বেঞ্চে বেঞ্চে থাকলে আর মার্সেলো ওর ফ্লোটা রাখতে পারলে দুঙ্গার সিদ্ধান্ত বদলাতে কতক্ষণ ?

মার্সেলোর দারুন ফর্ম তাকে বেশিদিন দলের বাইরে রাখতে দেয় নি
মার্সেলোর দারুন ফর্ম তাকে বেশিদিন দলের বাইরে রাখতে দেয় নি

দ্যানিলো দুঙ্গার সবচেয়ে বড় আবিষ্কার ! আলভেজ-মাইকনদের ন্যাশনাল টীম ক্যারিয়ারটা শেষ হয়ে গেছে বলেই ধরে নিতে পারেন তার বড় ভক্ত হলে ! তবে , এই সময়টা দ্যানিলোর ক্যারয়ারে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সময় । রিয়াল মাদ্রিদের মত একটা ক্লাবে সাইন করিয়েছেন আর সাথে সাথে জাতীয় দলে নতুন কোচের অধীনে খেলেছেন প্রত্যেকটি ম্যাচ ! ভিডিও গেমসে যেমন লেভেল পার হয় , দ্যানিলোর ক্যারিয়ার লেভেল ওয়ান আর লেভেল টু শেষ করে এখন লেভেল থ্রিতে উঠবে উঠবে করছে । ব্যাকআপ ফ্যাবিনহো বা মারিও ফার্নান্দেজ যাকেই ডাকা হোক না কেনো , দুঙ্গার কাছে রাইটব্যাকের ব্যাপারে দ্যানিলো বাদে অন্যকোন বড় প্ল্যান আছে বলে আমার অন্তত মনে হয় না !

দ্যানিলোর মত কেউ কেউ নিজেকে নিয়ে গেছেন নতুন উচ্চতায়
দ্যানিলোর মত কেউ কেউ নিজেকে নিয়ে গেছেন নতুন উচ্চতায়

অত বড় বিপর্যয়ের পরে এমন একটা অস্থিতিশীল দলের জন্যে একটা পারফেক্ট ডিফেন্সিভ কম্বিনেশন বের করাতে আপনি দুঙ্গাকে আপনার ছোট সালামটা দিতেই পারেন । তবে আপনি ব্রাজিল সমর্থক ! বড় সালামটা কেবল রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে আপনার প্রিয় দলকে ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে দেখলেই দেবেন ।

আর্জেন্টিনার সাথেও জয় !
আর্জেন্টিনার সাথেও জয় !

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

ten − three =