ক্লাব ফুটবলের জয় হোক

ফুটবল এক আজব খেলা বটে! ফুটবলের প্রতি টান কম, যাবতীয় সব আনন্দ ক্রিকেটে। নব্বই মিনিটের ফুটবলের চেয়ে পাঁচ দিনের টেস্টে বেশী রোমাঞ্চ অনুভব করি।

মোটামুটি কাদাজলে ফুটবল নিয়ে লাফালাফি করলেও টিভিতে ফুটবল প্রথম দেখি সম্ভবত ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ম্যাচ! বাংলাদেশের অবস্থা এমন যে পরিবারের লোকজন যে দল সমর্থন করবে পরের প্রজন্মও তাই সমর্থন করবে, মোটামুটি তেমনি আমিও ব্রাজিল সমর্থন শুরু করি। ভালোই লাগতো খেলা। রোনালদো ও রিভালদোরে মনে করতাম চাচাত ভাই, রোনালদিনহো আর কাকারে চিনতাম। ডিফেন্ডার বলে কিছু আছে জানতাম না কারণ এলাকাজুড়ে ফুটবল হতো ১-১০ ফরমেশনে!

ক্লাস ফাইভ থেকে পত্রিকা পড়ি, নজরে আসলো ক্লাব ফুটবল! ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল, বার্সা মোটামুটি কিছু ফুটবলারের নাম চিনলাম পত্রিকা থেকে। হাইস্কুলে উঠার পরে বাড়ি ছাড়লাম, আমি তখন মুক্ত বাচ্চা পাখি, নিজের মতো করে উড়ি। যাবতীয় সব ক্রিকেট নিয়ে ভালোই আগ্রহ ছিলো সাথে যোগ দিলো ক্লাব ফুটবল। সুযোগ পেলেই দেখতাম, সব খোঁজখবর রাখতাম। কোন এক অজানা কারণে সমর্থন করলাম মাদ্রিদরে, বেশ লাগতো খেলা। কাকা, রোনালদো, মরিনহো এসে জোর হাওয়া লাগায় সমর্থনের পালে। রাত জেগে সব ম্যাচ দেখা সম্ভব ছিলোনা তবুও মাদ্রিদের ম্যাচের খোঁজখবর রাখতাম সবসময়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সার হারে তখন থেকেই আনন্দ পেতাম, কিন্তু শেষে সব ট্রফি জিততো বার্সাই। তবুও সামনের মৌসুমে হবে বলে চালাই নিতাম।

ক্লাস টেনের শেষে এসে মনে হলো আরে আমাদেরই তো একটা জাতীয় দল আছে, ব্রাজিলের প্রতি এতো আবেগ দেখাতে যামু কেন? তখন নিজের চিজ আর অপরের চিজের পার্থক্য বুঝলাম। আমারডা যত খারাপই হোক, নিজের তো! তাই ভালোবাসা এসে যেতো বাংলাদেশ ফুটবলের প্রতি। মোটামুটি দেশের লীগ, খেলোয়াড়দের চিনতাম আগে থেকেই এরপর থেকে ব্রাজিলের প্রতি আবেগ একদম কমে যায়। যেখানে আমাদের একটা জাতীয় দল আছে সেখানে অন্য জাতীয় দল কেন সমর্থন দিমু? তাই ব্রাজিল হালকাপাতলা সমর্থন দিলেও ফুটবলে যাবতীয় সব আবেগ রিয়াল মাদ্রিদের জন্য এবং অবশ্যই বাংলাদেশ ফুটবলের পরে।

ক্লাব ফুটবলের জয় হোক, ক্যাচালের আনন্দ হোক।

@রিফাত এমিল

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

18 − one =