চেলসিতে মন নেই কস্টার

২০১৪ সালে যখন চেলসিতে আসলেন, ব্লুজ দের স্ট্রাইকের মূলভার তাঁকেই দেওয়া হয়েছিল। চেলসি তখন তীব্র টার্গেটম্যানের সংকটে ভুগছিলো, ফার্নান্দো টরেসের ছিল না ফর্ম। এসওএস দিয়ে উড়িয়ে আনা হয়েছিল ক্লাব লিজেন্ড দিদিয়ের দ্রগবাকে কিছুদিনের জন্য। সেই অবস্থা থেকে চেলসিকে টেনে তুলে ইংলিশ লিগ শিরোপার স্বাদ পাইয়ে দিয়েছেন মরিনহো আর কস্টা। ডিয়েগো কস্টা বলতেই তখন থেকে ইংলিশ লিগপ্রেমীদের কাছে এরকমই একটা ধারণা হয়ে গিয়েছিল যে এমন এক স্ট্রাইকার, যিনি কিনা গোল করার গোল মাঠের মধ্যে যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন। একেবারে, যা ইচ্ছে তাই। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের সাথে খারাপ ব্যবহার বা মারামারি করে হোক, নিজের রেপুটেশান খারাপ করে হোক, কস্টা যেন একটা অদম্য ষাঁড়, গোল না পেলে যাকে কোনভাবেই থামানো যায়না। তাই গোল পেলেও কস্টার সম্বন্ধে কারোরই ধারণা তেমন একটা ভালো ছিল না।

(আরও পড়ুন – চিলির সর্বোচ্চ গোলদাতা চেলসির নজরে)

গত মৌসুমে চেলসিতে কোচ হয়ে এলেন আন্তোনিও কন্তে, এসেই কোন এক জাদুমন্ত্রবলে যেন কস্টাকে বশ মানালেন – অন্তত মৌসুমের প্রথম অংশটুকুতে। কস্টা হলেন আরেকটু ধীর-স্থির, আরেকটু ঠাণ্ডা, কিন্তু গোল করার ইচ্ছা ও জিগীষা, কোনটাই কিন্তু কমেনি এতে। কন্তে কোন না কোন ভাবে কস্টার মধ্যকার খারাপ অংশটাকে দমিয়ে ভালোটাই যেন বের করছিলেন। ফলাফল, ডিসেম্বর পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কস্টা করলেন ১৪ গোল।

সুখের সময় শেষ?

কিন্তু এবার আবারো এলো দৃশ্যপটে পরিবর্তন। যেই কন্তেই কস্টাকে বশ মানিয়েছিলেন, সেই গুরুর সাথে মতবিরোধ শুরু হল, ঘটনা চলে আসলো পত্রিকা-টয়াবলয়েডগুলোতে। খুবই দ্রুত বিশ্বের ফুটবল-বাজারে জায়গা করে নেওয়া চীনাদের লিগ চাইনিজ সুপার লিগের ক্লাব তিয়ানজিং কুয়ানজিং এর একটি বিশাল প্রস্তাবে মোটামুটী মাথা ঘুরে গেল কস্টার। ক্লাব ছাড়টে চাইলেন তিনি, কিন্তু কন্তে সরাসরি জানিয়ে দিলেন কস্টাকে ছাড়া হবেনা। এমনকি ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে মার্শেই থেকে কেনা বেলজিয়ান স্ট্রাইকার মিচি বাতশুয়ায়িকেও তুখোড় ফর্ম থাকা সত্বেও বসিয়ে রাখা হল (এবং হচ্ছে) ম্যাচের পর ম্যাচ। এদিকে মন উঠে গেছে কস্টার। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন সাবেক ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদেও ফেরত যাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন তিনি এই শীতকালীন দলবদলের বাজারে, কিন্তু কন্তে ছাড়েননি তাঁকে।

ফলে কস্টার মধ্যে ধারণা ঢুকে গেছে দুটো –

১. বেঞ্চে যেই থাকুক না কেন, ডিয়েগো কস্টাকে চেলসির একাদশের বাইরে কখনই রাখা হবেনা। মূল একাদশে তাঁর জায়গা একরকম নিশ্চিতই সবসময়।

২. লিগে যেহেতু হাতের নাগালে চলেই এসেছে, আর যেহেতু ম্যানেজারের সাথেই মতবিরোধ হচ্ছে বারবার, তাই নিজেদের মধ্যকার পাওয়ার স্ট্রাগলকে এভাবেই মাঠে ফুটীয়ে তুলবেন তিনি

ফলে ক্ষতি হচ্ছে চেলসির। হ্যাজার্ড, আলোনসো, মোজেস, কান্তে জন্য চেলসি লিগের শীর্ষে থাকলেও ডিয়েগো কস্টার ফর্মহীনতাটা যথেষ্টই চোখে পড়ছে। যে স্ট্রাইকার প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে ঘোল খাইয়ে ছাড়তেন, এখন সেই স্ট্রাইকারই পরিপক্ষ ডিফেন্সের একটু চাপেই ভেঙ্গে পড়ছেন, মাটিতে পড়ে যাচ্ছে ফাউলের শিকার হচ্ছেন। বক্সের মধ্যে সরাসরি দৌড়্গুলো দিতে যেন ভুলেই গেছেন, ডি-বক্সের মধ্যে নিজের ও সতীর্থদের জন্য স্পেইস ক্রিয়েট করাটা যেন তাঁর মাথাতেই নেই!

এদিকে কস্টা সরাসরি এবার জানিয়েই দিয়েছেন, চেলসিতে খেলতে পেরে তিনি খুশি হলেও, লন্ডনজীবন একেবারেই ভালো লাগছেনা তাঁর!

নতুন স্ট্রাইকার খোঁজার সময় বুঝি এসে গেল চেলসি কোচ আন্তোনিও কন্তের!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × one =