শত্রুশিবির আর্সেনাল থেকে চেলসিতে চেম্বারলাইন

সেই ২০১১ সাল থেকে তরুণ প্রতিভা হিসেবে আর্সেনালের হয়ে খেলছেন ইংলিশ উইঙ্গার অ্যালেক্স-অক্সলেড চেম্বারলাইন। প্রতিভা অফুরন্ত থাকা সত্বেও এত বছরে আর্সেনালের মূল খেলোয়াড় হিসেবে কখনই প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি নিজেকে। কখনো মেসুত ওজিল, কখনো থিও ওয়ালকট, কখনো অ্যালেক্সিস স্যানচেজের কাছে জায়গা হারাতে হয়েছে মূল একাদশ থেকে। একজন আদর্শ স্কোয়াড প্লেয়ার হয়েই ছিলেন তিনি। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যেই কি না, আর্সেনাল থেকে শত্রুশিবির চেলসিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন তিনি। ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে আর্সেন ওয়েঙ্গারের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে আন্তোনিও কন্তের ছায়াতলে যাচ্ছেন আর্সেনাল সমর্থকদের প্রিয় অক্স।

চেম্বারলাইনের চুক্তিতে আর মাত্র এক বছর বাকী ছিল, আর্সেনাল তাঁর চুক্তি বাড়াতে চাইলেও বাড়াতে চাননি চেম্বারলাইন নিজে। ফলে লিভারপুল ও চেলসির মত ক্লাব তাঁর জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠে। মূলত চেলসি, আন্তোনিও কন্তে তাঁর প্রিয় ৩-৪-৩ ফর্মেশানে নাইজেরিয়ান উইঙ্গার ভিক্টর মোসেসের চেয়ে কার্যকরী উইঙ্গার খুঁজছিলেন বহুদিন ধরেই। সেখানেই চেম্বারলাইন এবার থেকে নিয়মিত খেলবেন বলে মনে করা হচ্ছে। আর্সেনালের হয়ে ১৩০টার বেশী ম্যাচ খেলে গত সাত বছরে মাত্র ৯টা গোল করেছেন চেম্বারলাইন, একজন উইঙ্গার হিসেবে যা অনেক কম। বলা হচ্ছে আর্সেনালের প্রস্তাবিত সাপ্তাহিক ১৮০,০০০ পাউন্ড বেতনের চুক্তি না সই করে চেলসির হয়ে সাপ্তাহিক ১৫০,০০০ পাউন্ড বেতনে খেলতে যাচ্ছেন তিনি।

২৪ বছর বয়সে এর মধ্যেই ইংল্যান্ডের হয়ে ২৫ ম্যাচ খেলা চেম্বারলাইনের সবচেয়ে বড় শক্তির দিক হয় তিনি যেকোন পজিশান খেলতে পারেন। কি রাইট উইংগার, কি লেফট উইংগার, কি সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার, কি সেকেন্ড স্ট্রাইকার, কি উইংব্যাক, এমনকি সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার – আর্সেনালের হয়ে সাত বছরে এসব পজিশানে খেলা হয়ে গেছে চেম্বারলাইনের, বোধকরি তাঁর এই শক্তির জায়গাটা তাঁর সবচেয়ে বড় দুর্বলতাও। কেননা একাধিক পজিশানে খেলা মানে কোন পজিশানেই সেরকম অবিসংবাদিতভাবে ভালো তিনি নন। বল পজেশানে রেখে খেলতে স্বচ্ছন্দ চেম্বারলাইন ৩-৫-২, ৩-৪-৩, ৪-২-৩-১ থেকে শুরু করে ৪-৩-২-১, ৪-৩-৩ কিংবা ৪-২-২ যেকোন ফর্মেশানেই খেলতে পারেন। তবে নিজে স্বীকার করেছেন তিনি স্টিভেন জেরার্ডের মত সেন্টার মিডফিল্ডেই খেলতে পছন্দ করেন। আর্সেন ওয়েঙ্গারও তাঁর ট্যাকটিক্যাল দক্ষতার জন্য গত মৌসুমের অনেক ম্যাচে তাঁকে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডেই খেলিয়েছেন।

তবে চেম্বারলাইনের আরেকটা নেতিবাচক দিক হল প্রায়ই ইনজুরিতে পড়েন তিনি। প্রচণ্ড গতিশীল এই খেলোয়াড় সাত বছরে আর্সেনালের হয়ে ইনজুরিতে পড়েছেন প্রচুর। উইঙ্গার হিসেবে খেলার সময়ে লিগে প্রতি ৯০ মিনিটে ২.৮টা করে সফল ড্রিবল করেছেন চেম্বারলাইন, প্রতি ম্যাচে গড়ে ০.৩টা করে গোলসহায়তা করা চেম্বারলাইন প্রতি ম্যাচে কি পাস দিয়েছেন ১.৩টা করে। প্রতি ম্যাচে প্রায় ৬০টা করে সফল পাস দিয়ে থাকেন।

পুরো দলবদলের বাজারে এবার হন্য হয়ে রাইট উইংব্যাক খোঁজা আন্তোনিও কন্তে কি চেম্বারলাইনের মধ্যে আসলেই সমাধান পেলেন? সময়ই বলে দেবে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

1 × 4 =