যেমন হতে পারে হলুদ ব্রাজিলের ভবিষ্যত ছক (২)

বর্তমান টিম নিয়ে অ্যানালাইটিক ধারাবাহিক এর লাস্ট এপিসোডে আজ থাকবে বর্তমানে সেলেসাও মিডফিল্ডার, উইঙ্গার আর স্ট্রাইকার দের নিয়ে
শুরুতেই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মানে ডিএম দের নিয়ে কথা বলবো, সাধারণত আমরা বর্তমানে দুই ডিএম নিয়ে নামি আর দুই ডিএম এর মধ্যে একটা পজিশনে লুইজ গুস্তাভোর জায়গা একদম পাক্কা।আসলে গুস্তাভোকে ব্রাজিল দলের লিবারো মানে থার্ড সিবিও বলা যায়,গুস্তাভো দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা এই কোপাতে আমরা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। আর,এই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় টিকে অধিনায়ক এর আর্মব্যান্ড দিলে আমার মতে বেস্ট হবে,১৯৯৪ এর দুঙ্গার মতই একজন জাঁদরেল অধিনায়ক গুস্তাভো হতে পারবে বলেই আমার বিশ্বাস।ইনশাআল্লাহ ইনজুরি না হলে ২০১৮ তেও লিবারো পজিশনে গুস্তাভোই থাকবে ।
এবার আসি ডিএম এর আরেকটা পজিশন মানে b2b মিডি পজিশন নিয়ে,এই পজিশনে পাওলিনহোকে হারানোর পর এখনো একটাও ভালো b2b ডিএম পেলাম না আর এটা আমাদের ভুগাচ্ছে বেশ এক্ষেত্রে আমার মতে ফার্নান্দিনহো কিংবা এলিয়াস কে আর ট্রাই না করানোই বেটার। ২০১৮ এর কথা মাথায় রেখে ক্যাসেমিরো, লুসি,রাফিনহা,রদ্রিগো কাইয়ো এদের এখুনি ট্রাই করা উচিত,তিনজনেরই যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে একজন যোগ্য b2b ডিএম হয়ে গুস্তাভোকে সাপোর্ট দেওয়ার,এদের মধ্যে লুসি আর রাফিনহাকে সিএম হিসেবেও ইউজ করা যেতে পারে। এছাড়া যুব দলের অধিনায়ক ড্যানিলোকেও নজরে রাখতে হবে এই পজিশনের জন্য।

এবার আসি প্লেমেকার পজিশনে,এই পজিশনে এই গ্রুপের অনেকেই অস্কার কে বহুত গালিগালাজ করেছিলেন এমনকি অস্কার ইনজুরড হওয়ার পর আলহামদুলিল্লাহ পর্যন্ত বলেছিলেন কোপা আমেরিকাতে আমাদের মিডফিল্ডের জবুথুবু অবস্থা দেখে ম্যাক্সিমাম পাবলিক এর শিক্ষা হলেও এখনো কিছু পাবলিকের শিক্ষা হয়নি,এদের কোনোদিন শিক্ষা হবে না যাই হউক আমি অস্কার আর নেইমারকে নিয়ে লিখতে গেলে শেষ করতে পারবো না,প্লেমেকার পজিশনে ইনশাআল্লাহ অস্কার ২০১৮ কেনো, ২০২২ পর্যন্ত থাকতে পারবে যদি ফর্ম ধরে রাখতে পারে।অস্কার আর নেইমির সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে এরা ক্লাবে যাই করুক NT তে এলে ঠিকই নিজেদের বেস্ট পারফর্মেন্স দিতে পারে,এমন আরো দুইটা প্লেয়ার আমাদের অ্যাটাকিং লাইনআপ এ থাকলে আর চিন্তা করা লাগতো না আর অস্কার এর সাবস্টিটিউট হিসেবে আপাতত কৌতিনহো আছে এছাড়া তালিস্কা কেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
রাইট উইং এ উইলিয়ান মোটামুটি ঠিকঠাক তবে উইলিয়ান কে কিছু ম্যাচে বসিয়ে ফেলিপ অ্যান্ডারসন কে সুযোগ দেওয়া উচিত, এই ছেলে ব্রাজিল দলে ভালো করবে বলেই আমার বিশ্বাস।আর,রাইট উইঙ্গার হিসেবে ডগলাস কস্তা কিংবা রিবেইরার মত প্লেয়ারদের ডেকে ব্লান্ডার না করাটাই বেটার।
লেফট উইং এ দলের সেরা খেলোয়াড় নেইমার আছে তবে নেইমির অনুপস্থিতিতেও যাতে দল না ভুগে এজন্যই ২৩ সদস্যের দলে লুকাস মোউরার মত খেলোয়াড়দের রাখতে হবে।
এবার আসি স্ট্রাইকার পজিশনে, এই পজিশন নিয়ে কোনো চিন্তাই করা লাগতো না যদি দিয়াগো কস্তা বেঈমানি না করতো, যাই হউক আশা করবো কস্তা যেভাবে হুট করে উঠে এসেছে এমন করে আরেকটা ক্লাসি স্ট্রাইকার দলে পাবো। তবে,আমাদের হাতে এখন যা আছে সেটা নিয়েও কাজ করতে হবে। ফলস নাইন হিসেবে আপাতত ফারমিনো অকে তবে পিউর নাইন হিসেবে আমার মতে পাতোকে আরেকটা চান্স দেওয়া উচিত।এই ছেলেটার যা প্রতিভা ছিল তাতে সে আগুয়েরোর চেয়ে হাই লেভেলের স্ট্রাইকার আজ হতে পারতো। ইনফ্যাক্ট পাতো হয়তো ফেনোমেনন লেভেলের ছিল না কিন্তু পাতো অবশ্যই আদ্রিয়ানোর লেভেলে ছিল কিন্তু ইনজুরি আর পাতোর খামখেয়ালি আজ পাতোকে সেই জায়গায় আসতে দেয়নি।তবে পাতোর বয়স এখনো ২০১৮ খেলার জন্য উপযোগী আর ইদানীং সে সাও পাওলোর হয়ে ভালো খেলছে আর এই মৌসুমে হয়তো ল্যাজিও তে আসবে।পাতো আরেকবার NT তে চান্স পেলে আশা করছি সেটার সদ্ব্যবহার করবে। আর,সিবিএফ ও দুঙ্গা কে একটা ক্লাসি স্ট্রাইকার খুঁজে বের করার জন্য কড়া নজর রাখতে হবে সব ধরনের লীগেই

আপাতত এটাই ছিল ব্রাজিল দল নিয়ে ফুল অ্যানালাইসিস, যারা এই পাঁচটা এপিসোডে পাশে ছিলেন তাদের ধন্যবাদ জানাই smile emoticon আর এই অ্যানালাইসিস এর ব্যাপারে লজিকাল কিছু বলার থাকলে বলবেন উল্টাপাল্টা কেউ কমেন্ট করলে আমি রিপ্লাই দিবো না
গ্রান্দে ব্রাজিল
ফোর্সা সেলেসাও

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

11 + fifteen =