কোপা আমেরিকা টিম প্রিভিউ : ব্রাজিল

আপনি ফুটবলের একদম নিয়মিত ফলোয়ার না হলে আপনার জন্যে ব্রাজিলকে নিয়ে আপনার জন্যে দু টুকরো সংবাদ ।
১) ব্রাজিলের মেইনম্যান নেইমার খেলছেন অলিম্পিকে । সে জন্যে কোপায় দেখা যাচ্ছে না তাকে ।
২) আর স্কোয়াড ঘোষণার পর থেকে ব্রাজিল প্রতি সপ্তাহে বদলাচ্ছে চোটের কারণে । বায়ার্নের ডগলাস কস্তার চোটে ডাক পেলেন কাকা । দেড় সপ্তাহ পরে দেখা গেলো সেই কাকা আবার চোটে পড়েছেন । এতে কপাল খুলেছে ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডার পাওলো হেনরিক গানসোর ।

দলের স্কোয়াড কেমন হতে পারে সে হিসাবে যাওয়ার আগে দুঙ্গার একগুঁয়েমির কারণে আর চোটের কারণে ভগ্নশক্তির ব্রাজিল স্কোয়াডে একবার চোখে বুলিয়ে নেই চলুনঃ
গোলকিপারঃ এলিসন, দিয়াগো আলভেজ, মার্সেলো গ্রহে
ডিফেন্ডারঃ দানি আল্ভেজ, ফ্যাবিনহো, ফেলিপে লুইস, জীল, মার্কুইনহোস, রদ্রিগো কাইয়ো, ডগলাস সান্তোস, মিরান্ডা
মিডফিল্ডার ও ফরোয়ার্ডঃ ক্যাসেমিরো, এলিয়াস,লুইজ গুস্তাভো, রেনাতো অগাস্টো, পাওলো হেনরিক গানসো, লুকাস মৌরা, হাল্ক, ফেলিপে কৌতিনিয়ো, উইলিয়ান, হোনাস অলভিয়েরা, গ্যাব্রিয়েল বারবোসা এবং লুকাস লিমা ।

 

ব্রাজিল সম্ভাব্য স্টার্টিং লাইনআপ
ব্রাজিল সম্ভাব্য স্টার্টিং লাইনআপ

কোপার আগে খেলা একমাত্র ম্যাচটাতে ব্রাজিল বস কার্লোস দুঙ্গা দলে খুব একটা পরিবর্তনের আভাস দেন নি এত কিছুর পরেও । এত কিছু মানে হলো, ব্রাজিলের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় মিডিয়ার খবর এসেছে কোপা না জিতলেই দুঙ্গার চেয়ারে বসছেন ব্রাজিলিয়ান লিগের বর্ষীয়ান কোচ তিতে । ব্যাকফোরে একমাত্র চমক মার্সেলোকে ২৩ জনের দলেই না রাখা । তার জায়গায় চান্স পাওয়া মিনেইরোর ডগলাস সান্তোস পানামার ম্যাচটা স্টার্ট করলেও মূল টুর্নামেন্টে স্টার্ট সম্ভবত এটলেটিকো মাদ্রিদের লুইসই করবেন । সেন্টারব্যাক ডুয়ো মিরান্ডা আর জিল আমার কাছে ব্রাজিলের সম্ভব সেরা সেন্টারব্যাক ডুয়োর (থিয়াগো সিলভা-মার্কুইনহোস) চাইতে নির্ভরতায় আর প্রোফাইলে অনেক নিচের দিকে । হোয়াও মিরান্ডা তার সেরাটুকু ছোট মাদ্রিদকেই দিয়ে ফেলেছেন । তার পাশে থাকা জীলকে দুই এক ম্যাচ দেখে চপলতা কিংবা একিউরেসির দিক দিয়ে পাঁচ তারার ব্রাজিল দলের ২৩ জনের দলে সুযোগ পাবার মতোই মনে হয় নি । স্লো মিরান্ডা আর ক্লিশে জীলকে নিয়ে ব্রাজিল ব্যাক লাইন নিকট অতীতের সবচেয়ে লো প্রোফাইল আর সবচেয়ে কম নির্ভরযোগ্য। দানিলোর জঘন্য ফর্মের কারণে দানি আলভেজকে মন্দের ভালো হিসেবে নিতেই হচ্ছে কোচকে ।

ক্যাসেমিরো ২৩ জনের দলে ঢুকেই গুস্তাভোকে বেঞ্চ ওয়ার্মার বানিয়ে সম্ভবত ফার্স্ট টীমে ঢুকে যাচ্ছেন জিদানের হাতে বদলে যাওয়া রিয়াল মাদ্রিদের ট্রাম্পকার্ড হিসেবে । ক্যাসেমিরোকে ফেরানোটাকে ফুটবল বোঝা যে কোন ব্রাজিল ভক্ত বলবেন দুঙ্গার এই টার্মে বাধ্য হয়ে নেওয়া অল্প কয়েকটা ভালো সিদ্ধান্তের একটা । তবে খুশি হবার সুযোগ কম । কারণ ক্যাসেমিরো সামনে মিডফিল্ডে পাচ্ছেন দুঙ্গার স্বপ্নের একাদশের দুই লিজেন্ড “এলিয়াস” এবং রেনাতো অগাস্টোকে । তবে দুঙ্গার এই দুই অটো চয়েস ক্লিক না করলে দুঙ্গার সাথে খুব সম্ভবত ব্রাজিল ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাচ্ছে এদের দুজনেরও ।

বেনেফিকার হয়ে গোলের ফোয়ারা ছোটানো হোনাস অলিভিয়েরা থাকছেন নাম্বার নাইন হিসেবে । আর তার দুপাশে চেলসি ও লিভারপুলের বর্ষসেরা খেলোয়াড় উইলিয়ান ও কৌতিনিয়ো । তবে গত এক বছরের ব্রাজিলের তুলনায় এবার দুঙ্গার বেঞ্চটা একটু হলেও বেশি সৃজনশীলতা দেখানোর ক্ষমতা রাখে । লুকাস মৌরা এই জেনারেশনের সবচেয়ে ক্ষিপ্র উইঙ্গারদের একজন । আর তার সাথে সদ্য ডাক পাওয়া গানসোকে গত কয়েক সপ্তাহে নিজের অতীতের সেরা সময়ের কাছাকাছি যাওয়ার মত মনে হয়েছে বেশ কয়েকবার । ভালো বলছি সে অর্থেঃ লুকাস মৌরা বা গানসো চীনা লিগ বা ত্রিশোর্ধ্ব যে কোন খেলোয়াড়ের চাইতে ডেড মিনিটগুলোতে বেঞ্চ থেকে এসে অনেক ভালো কিছু করার এক্স ফ্যাক্টরটা নিজেদের মধ্যে রাখেন। দুঙ্গার টিপিক্যাল হার্ড ওয়ার্কার উইঙ্গার বা মিডি কিন্তু লুকাস মৌরা বা পি এইচ গানসো নন । বরং তাদের মধ্যে “ব্রাজিল” বলতে মানুষ আসলে যা দেখতে চায় সে ব্যাপারটা বেশ ভালোভাবে আছে। শ্লথ-ক্রিয়েটিভ টাইপের কাউকে অনেকদিন ব্রাজিলের ফার্স্ট টীমে দেখি না । অপেক্ষায় থাকবো গানসোর জন্যে । বেশ করে অপেক্ষায় থাকবো !

অতীতের তুলনায় ক্রি্যেটিভ ব্রাজিলের বেঞ্চ
অতীতের তুলনায় ক্রি্যেটিভ ব্রাজিলের বেঞ্চ

২০১৪ বিশ্বকাপের স্কোলারির দলের হাল্কের চেয়ে এই হাল্ক অনেক ভালো একজন স্কোরার আর আগের চেয়ে অনেক কম সুযোগ পেয়েও ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেবার ক্ষমতা রাখেন । লুকাস লিমার স্টার্টার হবার কথা ! কিন্তু আদতে নাম্বার টেন দিলেও গ্রুপ পর্বে খুব খারাপ রেজাল্ট না আসলে লুকাস লিমার দিকে তাকাবেন না দুঙ্গা । তবে খারাপ দিনটাতে ব্রাজিল যেদিন নক আউট হয়ে যাবে, সেদিন লুকাস লিমাকে ১০ মিনিটের জন্যে নামিয়েও লাভ হবে না। লুকাস লিমা রেনাতো অগাস্টো বা এলিয়াসের চেয়ে পাসিং এ অনেক বেশি সূক্ষ্ম আর মাঠে নিজের মুভমেন্টে অনেক বেশি ফ্রেশ । একটা গোল দেখে নতুন সেনসেশন গ্যাব্রিয়েল বারবোসাকে জাজ করার বোকা আমি না । কোন ম্যাচেই দুঙ্গা এই রাইজিং স্টারকে ১০ মিনিটের বেশি প্লেয়িং টাইম দিবে বলে আমার মনে হয় না । গ্যাবিগোলের ব্যাপারটা সামনের সময়ের হাতে তুলে দিলাম ।

নতুন সেনসেশন গ্যাবিগোল
নতুন সেনসেশন গ্যাবিগোল

অলস হয়ে অপেক্ষা করছি । অপেক্ষা করে বসে আছি ।
হারলে দুঙ্গা স্যাকড হবে আর অত্যাচার থেকে মুক্তি পাবো এই আশা ! ‘
দৈববলে জিতে গেলে দুঙ্গা নিজের ভুল শুধরে শক্তিশালী ব্রাজিল উপহার দেবেন এই আশা!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × four =