দরকার শুধু একটু বদলের

-আপনি কি এখানে বিশ্বসেরা হতে এসেছেন ?
-না। বিশ্বসেরা এই ক্লাবেই আছেন , আমি তাকে সাহায্য করতে চাই ।
শোনেন, নেইমার বার্সাতে আসার পরে এমনই এক টোপ মিডিয়া নেইমারের সামনে ফেলে। ভালো রকমের ঝানু হওয়াতে নেইমার টোপ গেলে নাই । রাইজিং স্টার আর সাথে সাথে মাল্টিমিলিয়নের ট্রান্সফার আর তাও এই দশকের সবচেয়ে সফল ক্লাবে।
সাংবাদিকরা ধরেই নিয়েছিলো, নেইমার বলবে, “হ্যাঁ। এই ক্লাবের হয়ে আমি বিশ্বসেরা হতে চাই …”
কিন্তু পরের দিনের শিরোনামটা এমন হত, “মেসিকে নিজের জায়গা থেকে সরিয়ে বিশ্বসেরা হতে চান নেইমার …”
আর তাকে হয়তো এখনো পর্যন্ত ট্রলের স্বীকার হতে হত তার সেই স্টেটমেন্টের জন্যে । গ্যাব্রিয়েল জেসুসের ব্যাপারটাও খুব আলাদা কিছু না । কিন্তু ডিফারেন্সটা হলো, সে নেইমারের মত মিডিয়াটা অত ভালো সামলায় না ।
তার খুব বেশি লাইভ ম্যাচ আমি দেখি নাই । অনেকটা ইউটিউব দেখে তালি দেওয়া লোকই আমি । গত অনুর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপের ম্যাচের পরে এই অলিম্পিকেই যা দেখছি । ‘পালমেইরাসের খেলা দেখি’ – এই টাইপের কথা বলে নিজেকে জাহির করার লোক আমি না ।
তবে যতোটুকু দেখেছি আগে-পরে আমার মনে হয়েছে ওকে আরেকটু নিচে থেকে খেলতে দেওয়া উচিত । ও সহজাত ড্রিবলার আর দেখে মনে হয়েছে আসলে বল নিয়ে খেলতে ভালোবাসে। সহজাত টার্গেট ম্যান তাকে আমার মনেই হচ্ছে না । যতো গোলই করুক ! আর ওর জায়গাটা বারবোসা ডিজার্ভ করে । অল্প জায়গা থেকে হাতিঘোড়া করে দেখানোর জন্যে জেসুসের চেয়ে বারবোসাকে আমার কাছে ভালো অপশন মনে হয়েছে । অনেক একিউরেট আর সাথে সাথে যথেষ্ট ডেডলি । গোলের জন্যে একটা সহজাত ক্ষুধা তার মুভমেন্টে পাওয়া যায় । যে রকম টার্গেট ম্যান ব্রাজিল আসলে খুঁজছিলো ।
অনুর্ধ্ব ২৩ টুর্নামেন্ট নিয়ে তেমন কিছু বলার স্কোপ কখনোই ছিলো না । কিন্তু আমি-আপনি-আমরা সবাই বাঙালি । বলনটা আমাদের রক্তে ! সাকিবের বৌ এর ঘোমটা আর এরশাদের দ্বিতীয় বিবাহের মত এই জেসুসের ব্যাপারেও আমরা বলতে কার্পণ্য করি নাই ।
কাল গোল করলে লাফাতেও কার্পণ্য হবে না …

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four + 17 =