প্রতিটা ম্যাচই এখন ফাইনাল

টেবিলের ৯ দলের সাথে ১৮টা ম্যাচ । সব মিলিয়ে ৫৪ পয়েন্টের খেলা । তার মধ্যে সব দল খেলে ফেলেছে ১২ পয়েন্টের খেলা । টেবিলে আমরা ৩ নাম্বারে ১০ দলের মধ্যে । টেবিলের সেরা চারটা দল কোয়ালিফাই করবে সরাসরি কোয়ালিফাইং রাউন্ড শেষে ।

দক্ষিণ আমেরিকার কোয়ালিফাইং রাউন্ডটা এখনো কতোটা সাসপেন্সের জায়গাতে আছে সেটা বোঝা যাবে টেবিলের দিকে একটাবার তাকালেই। টেবিল আপনাকে বলবে, কলম্বিয়া ৭ নাম্বারে থেকে ধুঁকছে আর আমাদের ব্রাজিল ৩ নম্বরে থেকে ভালো জায়গায় আছি । কিন্তু এই দুটো দলের মধ্যে পয়েন্টের ফাড়াক মাত্র ৩ পয়েন্টের (একটা ম্যাচের পয়েন্ট), আমাদের ৪ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট আর ওদের পয়েন্ট ৪ ম্যাচে ৪ ।

পুরো কোয়ালিফাইং রাউন্ড শেষেও এই চিত্রের খুব একটা পরিবর্তন হবার সুযোগ কম । ২০১০ সালের বিশ্বকাপের জন্যে আমরা সর্বশেষ বিশ্বকাপের কোয়ালিফাইং রাউন্ড খেলেছিলাম । সেবার ১৮ ম্যাচে ব্রাজিল পায় ৩৪ পয়েন্ট (এর মধ্যে আছে ৭টা ড্র আর ২টা হার)। বাকি ৯টা ম্যাচ আমরা সেবার জিতি। শতকরাতে হিসাব করলে ৫০% । এই ৫০% ম্যাচ জিতেও কিন্তু সেবারের ব্রাজিল সবার উপরে থেকে কোয়ালিফাইং রাউন্ড শেষ করেছে । এরকম হবার কারণটা সোজাসাপটা। বলিভিয়া কিংবা পেরুর লেভেলের দলগুলোও নিজেদের হোমে নানারকম কারণে দুর্দান্ত হয়ে যায় । সেবারও প্যারাগুয়ের কাছে আমরা ২-০ গোলে হেরেছিলাম । তো সবমিলিয়ে নিজেদের হোমে বেশি ম্যাচ জেতা আর এওয়ে ম্যাচে কম হারা দলগুলোই ভালো করে ফেলে । পেরু কিংবা বলিভিয়া এওয়েতে যেয়ে শেষমেষ আর কুলিয়ে উঠে না । ন্যূনতম প্রতিরোধটাও তাদের দিক থেকে আসে না ।

সেই হিসেবটা মাথাতে রাখলে হোমের ম্যাচে ৮০% এর উপরে জেতার স্ট্যাট আর এওয়েতে ২০% এর নিচে হারার রেকর্ড রাখতে পারলেই সেইফ জোনে থাকার কথা । উরুগুয়ের সাথে খেলাটা হোম ম্যাচ ব্রাজিলের । সেদিক বিবেচনাতে রাখলে এটা মাস্ট উইন গেইম । লুইস সুয়ারেজের লেভেলের একজন কিলার ফিরছেন এই ম্যাচ দিয়ে । একদিক দিয়ে সুয়ারেজ ফিরছেন আর অন্যদিক দিয়ে গোদিন চোটের কারণে বাইরে । সবকিছু মিলিয়ে ব্রাজিলের পক্ষে ৬০-৪০ গেইম এইটা । তবে এই সিজনে সুয়ারেজ সব কম্পিটিশন মিলিয়ে বার্সার হয়ে ৩৫টার বেশি গোল করে ফেলেছে এটাও মাথাতে রাখি আমরা ।

আমাদের দল নিয়ে কিছু বলার নেই । আমাদের এত ইতিহাস এত ঐতিহ্য তাই মাঝে মাঝে দুষ্টামি করে আমাদের কোচ অনেক ভালো প্লেয়ারকেই একাদশে বিবেচনা করেন না । এটা একান্তই তার উচ্চবিচার। সবকিছু এক করলে উরুগুয়ে ম্যাচে জয় আর প্যারাগুয়ে ম্যাচটায় ড্র হলেই দুঙ্গার পাশমার্ক ।

একাদশ নিয়ে গোঁয়ার্তুমি দেখতে দেখতে সয়ে গেছে । আপাতত হাজার মাইল দূরে বসে আমি শুধু আমার প্রিয় দলটাকে সাপোর্টই করে যেতে পারি ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

seventeen − five =