নতুন ব্রাজিল … আবেগ ? আকাশছোঁয়া !

7up+Upper 10 খাওয়া সেলেসাওরা বিশ্বকাপের পরিবর্তী ১০ টি ম্যাচের ১০ টিতে জিতে নেয়। মানে পুরো ১০ এ ১০.
.
কিন্তু ওগুলা ছিলো প্রীতি ম্যাচ। আর আজকে রাত্রে আর কিছুক্ষন পরেই ২০১৫ এর কোপার প্রথম ম্যাচে পেরুর বিরুদ্ধে নামবে সেলেসাওরা..
.
প্রীতি ম্যাচের তুলনায় একটা প্রতিযোগীতামূলক টুর্নামেন্ট কি পরিমানে গুরুত্বপুর্ন আর জিতার জন্য যে কি পরিমান খাটতে হয় তা আমরা সবাই জানি। মানে, জিতা ছাড়া কোন বিকল্প নাই। একটা আন্ডার ডগ দল হয়ে যায় টুর্নামেন্টের সেরা দল আর সেই সাথে একটা সেরা দল টুর্নামেন্টের আন্ডার ডগ দলে পরিনত হয়..
.
কোপা আমেরিকা। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে পুরানো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। কালের বিবর্তনে এর গুরত্ব বেড়েছে অনেক। পেয়েছে আধুনিক ফুটবলের ছোয়া। যেখানে দেখ যায় ফুটবল নিয়ে ছন্দের খেলা, নান্দনিক খেলা..! যেখানে খেলে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে সাফল্যমন্ডিত দল ব্রাসিল। যাদের পায়ে সৃষ্টিকর্তা দিয়েছেন অসাধারন শিল্পের তকমা..!
.
ব্রাসিল। নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভাসে নীল-হলুদ জার্সির এক মায়াময়ী, ছন্দময়ী দল। চোখের সামনে ভাসে লিওনিডাসের বাই-সাইকেল কিক, কালো মানিকের বিশ্বকাপ নিয়ে উচ্ছ্বাস, গারিঞ্চার বাঁকা পায়ের জাদু, রিভেলিনোর চোখ জুড়ানো এলাস্টিকো, গিলমার দস সান্তোসের অসাধারন সেইভ, সাদা পেলের ঝকঝকে ক্যারিয়ার, সক্রেটিসের ছান্দিক ছোট পাস, দলের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসা রোমারিওর বিশ্বকাপে চুমু, টেকো মাথার রোনালদোর সেলেব্রেশন, পারফেক্ট টেন রিভালদো, রবার্তো কার্লোসের বুলেট গতির ফ্রীকিক, ঝাঁকড়া চুলের রোনালদিনহোর শিল্পকর্ম, কাকার দুরন্ত গতি, আর নেইমারকে নিয়ে নতুন ভাবে স্বপ্ন দেখা সেই সাথে ৫০ সালে হাতের কাছ থেকে ছুটে যাওয়া বিশ্বকাপ, টানা ২৪ বছরের বিশ্বকাপ খরা, ৯৮ এর ফাইনালে ৩-০ এ হারা, এবং সেভেন আপ-আপার টেন খাওয়া এক অমায়িক ব্রাসিলের।
.
২০০৩, ২০০৭ টানা দুই কোপা আমেরিকা জয়ের পর ব্রাসিল ২০১১ তে একদম নতুন ভাবে নিজেদের সাজিয়ে নিয়ে বিশ্রীভাবে কোপা থেকে বাদ হয়। ছোট নেইমার, গানসো, হাল্ক, অস্কার, ফ্রেড, পাতোদের নিয়ে দল গড়ে মানো মেনেজেস। ২০১০ বিশ্বকাপে কোয়াটারের হারার পর দুঙ্গার বরখাস্ত, অনেক প্লেয়ারের ফর্মহীনতায় ধুকতে থাকে ব্রাসিল। মানো মেনেজেসকে নতুনভাবে কোচের দায়ীত্ব দেওয়ায় পুরো নতুন প্লেয়ারদের নিয়ে দল গঠন করে কোপা আমেরিকার জন্য। প্রত্যেকটা প্লেয়ার ছিলো অনভিজ্ঞ। যার ফলশ্রুতিতে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ভেনেজুয়েলার সাথে গোলশুন্য ড্র, প্যারাগুয়ের সাথে ২-১ এর হার, ইকুয়েডরের সাথে ৪-১ এ জয় আর কোয়াটারে প্যারাগুয়ের সাথে একটিও পেনাল্টি নিতে না পারায় ব্রাসিল ছিটকে যায় কোপা-২০১১ থেকে..
.
১১ এর কোপার পর দলে আসতে থাকে বিভিন্ন উদীয়মান খেলোয়াড় রা। ব্রাসিল ব্যস্ত থাকে নিজেদের প্রস্তুত করতে..!
.
এখন ২০১৫ কোপা আমেরিকা। দলে আছে অনেক প্রতিভাবান, সেরা সেরা প্লেয়ার। তন্মধ্যে নেইমার, কৌটিনহো, সিলভা, লুইজ, ফারমিনো, আলভেজ, জেফারসানের মত প্লেয়ার রা সেরা..!
.
বিশ্বকাপের পরবর্তী এই দলটা ১০ টা ম্যাচ খেলেছে এবং ১০ এ ১০..! কিন্তু অপরদিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানীর বিশ্বকাপ পরবর্তী ২ ম্যাচে হার, আর্জেন্টিনার ১, কলম্বিয়া ১, চিলির ১ ম্যাচে হার..
.
ব্রাসিলের একেকটা প্লেয়ার আছে দারুন ছন্দে। ২য় মেয়াদী দুঙ্গা কোচ হয়ে আসার পর লুইজ স্কোলারীর ফরমেশন ৪-২-৩-১ পাল্টে করে দেন ৪-২-২-২। বাদ দেন আলভেজ, রামিরেস, মার্সেলোকে। দলে আনেন মিরান্ডা, দানিলো, লুইজ, কৌটিনহো, ফারমিনো তারদেল্লী, রিভেইরো, রবিনহোর মত প্লেয়ারদের। ডিফেন্সিভ আর একগুয়ে মাইন্ডের জেনারেল দুঙ্গা এই প্লেয়ারের নিয়ে বেশ ভালোই সাফল্য পেয়েছেন। ১০ টি ম্যাচের মধ্যে ১০ টিতেই করেছেন একাদশ চেঞ্জ, সাথে ৬-৭ বার করে সাবস্টিউট ত আছেই। দলের ভালোর জন্যই তিনি এসব করেছেন, যার জন্য সিলভার মত প্লেয়ারকে স্টার্ট করা না তিনি, এটাকিং মিডি ফারমিনো খেলান ফলস নাইনে। সম্পুর্ন নিজের পছন্দভাবে একাদশ সাজিয়েছেন। ফলশ্রুতিটাও চোখে পড়ার মত। সবগুলোতেই জয়। তাইতো তার প্রতি আস্থা রেখে এবারের কোপা আমেরিকার জয়ের আত্মবিশ্বাস পাচ্ছি আমরা সেলেসাও সাপোর্টার রা..
.
মুদ্রার ওইপিঠ ও দেখা উচিত। উড়তে থাকা ব্রাসিলের ডিএম এর প্রান লুইজ গুস্তাবো, এটাকিং মিডি অস্কার, রাইট ব্যাক দানিলো, ল্যাফট ব্যাক মার্সেলোর অপ্রত্যাশিত ইঞ্জুরিতে হতাশ হয়ে পড়েছে সেলেসাওরা..! যার ফলে ডাক পেয়েছে যথাক্রমে ফ্রেড, কৌটিনহো, আলভেজ, গেফারসান মত প্লেয়াররা..!
.
দেখা যাক কি হয়, কি হতে পারে দুঙ্গার আজকের একাদশ..?
.
দুঙ্গা অবশ্যই সিলভাকে শুরুতে খেলাবেন না। মিরান্ডা আর লুইজ স্টার্ট করবে। ল্যাফটে ফিলিপে থাকবে। আলভেজ যতই চান্স পাক, ৯৬% শিউর আমি রাইটে ফ্যাবিনহো স্টার্ট করবে। ডিএম এ উনি ফ্রেড কে আর হয় ফার্নান্দিনহো, তা না হলে এলিয়াসকে দিয়ে স্টার্ট করাবেন। মনে হয় না ফার্মিনো মুল একাদশে থাকবে। উলিয়ানের সাথে এটাকিং মিড মনে হয় কৌটিনহো সামলাবে। নেইমার ত আছেই। তারদেল্লি ই থাকবে..!
.
আজকের ম্যাচে অবশ্যই ব্রাসিল ফেবারিট। তবে পেরুও কম না। আর্জেন্টিনার গত ম্যাচের কিছু ভুলের জন্য ড্র হয়েছে তাদের ম্যাচ। আশা করি দুঙ্গা এই ভুল করবেন না। ১০ টি প্রীতি ম্যাচে আমরা যেমন কম গোল খেয়ে দারুন ভাবে জিতেছি, আশা করি এবারের কোপায় আমরা এভাবেই এগিয়ে যাবো এবং শিরোপা পুনরুদ্ধার করে বিশ্বকাপের দুঃখ ঘুচবো..!
.
পেরু একটু দুর্বল, কিন্তু কোন দলকেই ছোটভাবে নেওয়া উচিত না সেলেসাওদের যা দুঙ্গা বেশ ভালো ভাবেই জানেন।
.
পরিসংখ্যান টা ব্রাসিলের হয়েই জোরে কথা বলছে।
.
পেরুর সাথে ৪০ বারের দেখায় ২৮ জয়, ৯ হার আর ৩ ড্র। ব্রাসিল শিবির গোল দিয়েছে ৮৬ টি, আর খেয়েছে ২৮ টি গোল..!
.
শেষ তিনবারের মোকাবেলায় ব্রাসিলের জয় ২ টিতে আর ড্র একটিতে।
.
সর্বোচ্চ জয় ব্রাসিলের ৭-০ এ ১৯৯৭ এর কোপায় (যেটার চ্যাম্পিয়ন ব্রাসিল) আর সর্বোচ্চ হার ব্রাসিলের ৩-১ এ ১৯৭৫ এর কোপায়..!
.
অঘটন কিছু না ঘটলে জয় ছাড়া ব্রাসিলের কিছুই দেখছিনা..
.
এত ধৈর্য্য নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ..
.
‪#‎গ্রান্দে_ব্রাসিল‬
‪#‎ফোর্সা_সেলেসাও‬
‪#‎AHM80‬

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

4 × three =