দুঙ্গা… এবার কিন্তু কলম্বিয়া !

না . দেড় পেইজের লম্বা ম্যাচ এনালাইসিস বা স্ট্রেংথ উইকনেস এনালাইসিসে আমি যাবো না । যাবো না কলম্বিয়ার সাথে বিশ্বকাপ ম্যাচে মারাত্নক ইনজুরির শিকার হয়ে নেইমারের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গিয়েছিলো সেটা নিয়ে আবেগের কথা শোনাতে । শুধুমাত্র গত ম্যাচটায় ঢুলুঢুলু চোখে ম্যাচ দেখতে বসে যেই কয়েকটা ব্যাপার চোখে হালকাপাতলা হলেও পড়েছে সেগুলো নিয়ে একটু একটু কথা বলতে চাই ।

প্রথমত, দুঙ্গাকে মনে রাখতে হবে এটা কিন্তু কলম্বিয়া । যারা পেরুর চাইতে টেকনিকালি , ট্যাকটিকালি এবং রিসোর্সের দিক দিয়েও অনেক সমৃদ্ধ দল । এমনকি ফিজিক্যালিও। ডেভিড লুইজ গত ম্যাচে একটা ফুল চান্স দিয়ে দিয়েছিলো পেরুকে । সেটাই কনভার্ট করে তারা ব্রাজিলকে ৯০ মিনিট টেনশন দিয়েছে । কলম্বিয়ার কিন্তু ফুল চান্সটা লাগবে না । কার্লোস বাক্কা-ফ্যালকাও-হামেসরা ডেভিড লুইজ বা আলভেজ হাফ চান্স দিলেই স্কোরলাইন বদলে দিতে পারবে ।

সেজন্যেই বলছি, রিসোর্সের দিক দিয়ে পেরু কিন্তু চিলির কাছাকাছি মানেরও ছিলো না ।
মিস্টার দুঙ্গা ! টীম জেনারেল আপনি ! দলের “দারুন” কল্যাণের স্বার্থে হয়তো আজও সিলভাকে বেঞ্চে রাখার ডিসিশনটা আপনিই নিবেন ।

CHgJTXdWgAAL4n4

দ্বিতীয়ত, এক নেইমার আপনাকে ডেইলি পার করবে না । আপনার আগের স্পেলের সবচাইতে ভালো দিক ছিলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক না হয়ে টীমগেইমে জোর দেওয়া । গোল বের করতে হলে নেইমারের সাথে আরো ক্রিয়েটিভিটি লাগবে বস ! তারদেল্লিকে আপনি ফিরমিনোর চাইতে প্রাধান্য দেন তার অফ দ্যা বল ডিফেন্সিভ মুভমেন্ট ভালো হওয়ায় । ফ্রেডকে সামনের দিকে কৌতিনহোর ইনজুরিতে খেলিয়ে দিয়েছেন তাতে সমস্যা নেই । ফলাফলটা নিজের চোখে দেখেছেন , উইলিয়ান-ফ্রেড-তারদেল্লি-নেইমার … এক নেইমার ছাড়া সবাই চমকহীন । গোলের জন্যে হাঁসফাঁস করতে হয়েছে । পিছন থেকে প্লে মেকিং, এটাকিং থার্ডে পাস দেওয়ার কাজ, আবার গোল করার কাজ – সব নেইমারকে একলাই করতে হয়েছে ।
তবে আশা করব , ফুল ফিট কৌতিনহো স্টার্ট করে আমাদের এটাকের ফিয়ারফ্যাক্টর বাড়িয়ে দেবে । গোল করবার আরো বেশি বেশি সুযোগ ক্রিয়েট হবে । ব্যবধান গড়ে দেবার মত খেলোয়াড় বাড়বে ।

কৌতিনিয়োর অপেক্ষা
কৌতিনিয়োর অপেক্ষা

ফার্নান্দিনহো ম্যাচজুড়ে ভ্যানিশিং ম্যান । সবাই জানে, টানা ৭ ম্যাচ একটা স্কোয়াড নিয়ে খেলার পরে সেই স্কোয়াডের ৩ জন মেইনম্যান দলের বাইরে চলে গেলে কাজটা কোচের জন্যে কতোটা কঠিন। তবে ব্যর্থতার পরে সবাই বুঝতে চাই না । আর মানুষটা কার্লোস দুঙ্গা বলেই কাগজে কলমে ছোট দল নিয়েও অনেক বড় কিছু পেয়ে যাবার স্বপ্নটা আমরা দেখে ফেলি । এত এত কথা বলার পরেও বলবো, ব্রাজিল প্রথম ম্যাচ পার পেয়ে গেছে স্রেফ আপনার ট্যাকটিকাল মাস্টার স্ট্রোকের কল্যাণে । আপনার ফুটবল মাথাটার কারণেই নেইমারের মাঠের মুভমেন্ট অনেক বেশি আনপ্রেডিক্টেবল । আপনার টাচের কারণেই প্রায় হাফ টীম নিয়েও আমরা ফাইট করার স্বপ্ন বাদ দিয়ে দেই না ।

দুঙ্গাই ভরসা
দুঙ্গাই ভরসা

অনুরোধ একটাই !
কারো সাথে ব্যক্তিগত রোষ থাকলে তা মিটিয়ে দলের স্বার্থে সবচাইতে ভালো সিদ্ধান্তটা নিন । ব্রাজিলের “বেকেনবাওয়ার” কেউ হতে পারলে তা কেবল আপনিই !

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

five × three =