খুঁত ভুলিয়ে দেওয়া আবেগের জয়

খেলার ৮৭ মিনিটের সময় টিভিস্ক্রিনে এক চিরচেনা মুখ। তবে যেখানে তাকে দেখানো হলো, সে জায়গাটা খুব চেনা নয় তার জন্যেও কিংবা তার ভক্তদের জন্যে। থিয়াগো সিলভাকে টাচলাইন থেকে সাবস্টিটিউট হয়ে নামতে দেখার অভিজ্ঞতা বিরল। তবে এমন দিনে নামলেন, যেদিন ব্রাজিল ফ্যানদের সবকিছুই ভালো লাগে । থিয়াগো সিলভার সাবস্টিটিউট হয়ে নামাটা তাই হয়ে থাকলে উত্তম আহারের পরে এক পশলা উন্নত ডেজার্ট। স্কোরবোর্ড ততক্ষণে ব্রাজিলের দিকে ৩-০ দেখাচ্ছে। তাতে পয়েন্ট টেবিলের হিসাব নিকাশে আর্জেন্টিনা আরো জটিল জায়গায়, আর কয়েক মাস আগেও হলুদ পাঁচ তারার জার্সিটা যাদের জন্যে দারুন ভারী ছিলো, সে ব্রাজিল দলটাই ১১ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে ল্যাটিন আমেরিকার টেবিলে প্রথম স্থানে। ১১ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ছয়ে আর্জেন্টিনা। এ অঞ্চল থেকে চারটি দল বিশ্বকাপ খেলবে সরাসরি আর পাঁচ নাম্বার দলটা প্লে অফ খেলে বিশ্বকাপে যাবার সুযোগ পাবে

মিডফিল্ডে নেই ক্যাসেমিরো; তার জায়গায় ফার্নান্দিনহো। তার সাথে রেনাটো অগাস্টো আর পাউলিনিয়ো চীনে খেলেও কোচের গুডবুকে আগে কাজ করার সুবাদে। রাইটব্যাক দানি আলভেজের গেরো মাঝে মাঝেই ফসকা হয়ে যায়। অনেক কিছু নিয়েই ব্রাজিল ফ্যানবেইজ ভয়ে ছিলো। আর আর্জেন্টিনার জন্যে ভয়ের চেয়ে চাপটা বেশি ছিলো। মিডফিল্ড অসাধারণ কিছু ডেলিভারি দিয়েছে এটা বললে ভুল হবে। ফার্নান্দিনহো ১০ মিনিটেই হলুদ কার্ড দেখে একটা নৈতিক লিড দিয়ে দেন আর্জেন্টিনাকে।

এরপরের গল্পটুকু শুধুই ব্রাজিলের। নেইমারকে ফোকাস করতে যেয়ে মাঝে মাঝেই কৌতিনিয়ো আর গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে ফ্রি স্পেস দিয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনা। আর সেটা কাজে লাগিয়েই প্রথমে বক্সের বাইরে থেকে কৌতিনিয়োর দারুন এক গোল এবং প্রথমার্ধেই জেসুসের দারুন এক পাসে নেইমারের ঠান্ডা মাথার ফিনিশ। সিনিয়র ক্যারিয়ারে ব্রাজিলের হয়ে এই গোলটি দিয়েই ৫০ গোল পুরো হলো নেইমারের। দলের ২য় গোলটায় জেসুস দেখালো, দিনকে দিন সে দারুন ম্যাচিউর হচ্ছে। ওর প্রথম এক দুই ম্যাচে এই একই জায়গা থেকে নিজে শট নেওয়ার চেষ্টা নিত। এখানে ডানপাশে কৌতিনিয়োও একদম আনমার্কড ছিলো। কিন্তু কৌতিনিয়োর এংগেলটা থেকে ফিনিশিংটা একটু দুরূহ হওয়াতে চারজনকে স্রেফ বোকা বানিয়ে নেইমারকে দিয়ে গোলটা করালেন। বিরতির পরে চিত্র বদলায় নি। ব্রাজিল শুধু লিড ধরে রাখতে চাইলেও নিয়ন্ত্রন হারিয়ে বেশ মারকাটারি ফুটবল খেলে আলবিসেলেস্তেরা। আর তাতেই ডিফেন্সে প্রথমার্ধের চেয়েও অনেক বেশি জায়গা বেরিয়ে আসতে থাকে। পাউলিনিয়োর হতোদ্যাম ওপেন নেট শট জাবালেতা ফিরিয়ে দিলেও কয়েক মিনিট পরেই ডিফ্লেকশন থেকে দারুন এক শটে ৩-০ বানান পাউলিনিয়ো। এরপর ওপেন নেটে ফিরমিনো আর নেইমার গোটা দুয়েক সুযোগ নষ্ট করলে লিড আর বাড়ে নি ব্রাজিলের। ঘুম নষ্ট করে খেলা দেখা ব্রাজিল ফ্যানদের তাই ম্যাচশেষে ৩/০ দেখতেও একটু একটু অতৃপ্তি লাগবার কথা।

পাউলিনিয়োর দলের হয়ে তৃতীয় গোলটা করার পরে তিতে খুব সম্ভব নিশ্চিত হলেন। তাতেই একদম ১০ বছরের শিশুর মত লাফিয়ে সেলিব্রেট করলেন। ৫ ম্যাচে ৫ জয়। বিশ্বকাপ বাছাই নিয়ে কপালের ভাঁজ খতম। ঐ সেলিব্রেশনটুকু শুধু এক গোলের সেলিব্রেশন নয়। গত তিন মাসে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টায় সফল হবার এক সম্মিলিত উদযাপন। তাতে পুরো ডাগআউট একাত্ম হয়ে সেলিব্রেট করলো। আর একই জায়গা থেকে দায়িত্ব নেওয়া আর্জেন্টিনা কোচ বাউজার কেমন লাগলো সে খোঁজ জানতে চায় না কেউ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

5 × two =