ব্রাজিলের ৫ শিক্ষা

(ফ্রেন্ডলি নিয়ে লেখতে এখন আর ভালো লাগে না । হাতে অর্থকরী কোন কাজ না থাকায় গোল ডটকমের ন্যারা ফ্রাঙ্কো নামের এক লোকের লেখা অনুবাদ করে ফেললাম । ব্রাজিল বনাম আমেরিকা ম্যাচের এনালাইসিস মূলত । পড়ার সুবিধার জন্যে কিছু কঠিন লাইন ঘুরিয়ে সহজ করার চেষ্টা করলাম । )
বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে ফ্রেন্ডলিতে ব্রাজিলের ৪-১ গোলের জয় আমেরিকার সাথে তাদের দারুন রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রেখেছে । আর তার সাথে সাথে আরেকটা জিনিস আরো একবার প্রমাণ করে দিয়েছে যে, নেইমার মাঠে থাকলে এই আক্রমণভাগের ক্ষমতা আর মেজাজ আসলেই অন্য লেভেলের । যাই হোক এই ফ্রেন্ডলিতে নেইমার ছাড়া সেলেকাওদের হয়ে আলোচনা করার আরো অনেক জিনিস রয়েছে । উইলিয়ানের দারুন কংক্রিট পারফরম্যান্স, লুকাস মৌরার উজ্জ্বলভাবে ফেরা, রাফিনহা নামের নতুন এক আস্থার জায়গা খুঁজে পাওয়া সবকিছুকেই আপনি সামনের মাসে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আগে সেলেকাওদের প্লাস পয়েন্ট হিসেবে ধরে নিতে পারেন।
১) উইলিয়ান (দ্যা ইঞ্জিন)
উইলিয়ান ক্লান্তিহীন আর সুপারফিট । দুঙ্গার আন্ডারে ১৬ ম্যাচের ১৫টাতেই সে স্টার্ট করেছে । আর আগের মতই খেলায় ব্রাজিলকে এনে দিয়েছে সতর্ক সূচনা । তার ক্রসের রিবাউন্ডেই মূলত ২য় ম্যাচে গোল পেয়ে যান হাল্ক । মাঝে মাঝে একটু ক্লিশে লাগে , তবে সবসময়ই তার ওয়ার্করেট দারুন । টিপিক্যাল ব্রাজিলিয়ান না । তবে এখানে বসে তাকে সামনের মাসের ফ্রেন্ডলিতে আমরা নিশ্চিত স্টার্টার বলতেই পারি ।
২) লুকাস মোওরা
এক উইংয়ে উইলিয়ান থাকলেও আরেকটা উইং এ ব্রাজিল অবশ্যই নেইমারের ক্রিয়েটিভিটি আর গতি মিস করত । সে সংশয়ের কিছুটা হলেও উত্তর বের করে ফেললেন পিএসজি তারকা লুকাস । ২০১৪ সালে স্কোলারির দলের হয়ে ফ্রেন্ডলির দলে ছিলেন । তারপর থেকে মূলত দলের বাইরে । দলে ফিরলেও অনেকের সংশয় থেকেই যাচ্ছিলো, ” হলুদে নিজের সেরাটা বের করার জন্যে কিছুটা সময় হয়তো লুকাসের লাগবে “… সে সংশয় উড়িয়ে দিয়েছেন তুড়িতে । তার ডিফেন্স ভেদ করা রানগুলোতে তাকে আগের চাইতে সপ্রতিভ লেগেছে আর রাফিনহার সাথে বোঝাপড়ায় তাকে দলের বাইরের লোক মনেই হয় নি । এর মধ্যে মাঠে থাকা কিছুটা সময়ে আলাদা কিছু করে দেখানোর তাগিদ দেখেছি । সাথে সাথে ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে আর পিছে না ফেরার আকাঙ্ক্ষাটাও চোখে পড়েছে ।
৩) সুযোগ ছিলো স্পেনের হয়ে খেলারও । তার ভাই বেছে নিয়েছেন স্পেইনের জাতীয় দলকেই । তবে বাবা মাজিনহোর মতই নিজেকে সগর্বে ব্রাজিলিয়ান ভাবতেন রাফিনহা । আর তাইতো বেছে নিয়েছেন সেলেকাও জাতীয় দলকেই। ফেরাটাকেও সেলিব্রেইট করলেন লুকাসের পাসে দারুন এক গোল দিয়ে ।
৪) মার্কুইনহোস (ব্রাজিল ডিফেন্সের ভবিষ্যত)
মিরান্ডাকে হাঁটুর ইনজুরির কারণে অপ্রত্যাশিতভাবে মাঠ ছাড়তে হলে বল এসে পড়ে আরেক পিএসজি স্টার মার্কুইনহোসের কোর্টে । ডেভিড লুইজের পাশে নিজের সেরাটা দিয়েছেন যতক্ষণ খেলেছেন । শান্ত ছিলেন , স্থির ছিলেন আর সাথে সাথে মাঠে নিজের অনেক বড় মঞ্চে ভালো করার সম্ভাবনাটুকুও দেখিয়ে দিয়েছেন ।
এবার আমার নিজের কিছু কথা বলি,
নেইমারকে বেঞ্চে রাখাতে নেইমারের রিএকশনের খবরটা এসেছে । একদম নিজের দিক থেকে বলবো , বাছাইপর্বের প্রথম দুটো ম্যাচে দুঙ্গা তার লাইফ লিড করবেন তার দলের সেরা এটাকারকে ছাড়াই । এ বিষয়টা তার মাথায় থাকার কথা । আর আপনি আপনার সেরা লোকটিকে ছাড়া দলের শেইপটা কী রকম হবে সেটা দেখে নিতে চাইলে এটা তো দোষের কিছু না । নেইমার পরীক্ষিত পারফরমার । এমনকি সে কোথায় ভালো খেলবে , তার শক্তি আর দুর্বলতা এগুলোও কোচের জানা । বড় স্টেইজে পারফর্ম করার ক্ষমতা রাখেন । সেখানে এরকম একটা দুটো ফ্রেন্ডলিতে ৩০টা মিনিট কম খেলে ফেললে নেইমারের ক্ষতি হয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি না । বরং অন্যদের নিয়ে ফ্রেন্ডলিতে আরো পরীক্ষা নিরীক্ষা করলেই দলের জন্যে এই সামনের দুটো ম্যাচে ভালো ফল দিত বলেই আমার বিশ্বাস । এরকম ১টা-২টা ফ্রেন্ডলির রেজাল্ট আসলে কিছুই না । ঐ ব্যাপারটা মাথায় রেখে নেইমারকে বেঞ্চ করার ব্যাপারটা নিয়ে কারো দ্বিমত থাকবার কথা না ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

9 + 7 =