বিপিএলের ফ্লপ একাদশ

টুর্নামেন্ট শেষ হলে “সেরা একাদশ” বানানোর হিড়িক পড়ে যায় খেলাতে মজে থাকা লোকেদের মধ্যে । বিপিএলের পরেও তার চেয়ে আলাদা কিছু হয় নি । এবং মোটামুটি লো স্কোরিং টুর্নামেন্ট হওয়াতে সবার একাদশ কমবেশি মিলে গেছে । তবে এবার কথা বলবো এমন একটা কম্বিনেশন নিয়ে যাদেরকে নিয়ে গড়া যাবে এবারের বিপিএলের ফ্লপ একাদশ । এই একাদশটা স্ট্যাটিস্টিক্স দেখে গড়ি নি । বরং তাদেরকে নিয়ে গড়েছি, যাদের নিয়ে নিজ নিজ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রত্যাশা ছিলো আকাশচুম্বী … কিন্তু তারা আঁচড় কাটতে পারেন নি সেই লেভেলের আশপাশ দিয়েও ।

সৌম্য সরকারঃ লটারিতে প্রথম ডাক পেয়ে রংপুর দলে নেয় বাঁহাতি এ ডেস্ট্রাক্টিভ ওপেনারকে । যুক্তিটাও সহজ । ভারত, পাকিস্তান আর দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে হোম সিরিজগুলোতে যে বদলে যাওয়া সাহসী বাংলাদেশকে ক্রিকেট দুনিয়া দেখেছে, তার অন্যতম অর্কেষ্ট্রা ছিলেন এই বাঁহাতি ওপেনার । এখনো পর্যন্ত ১৬ ম্যাচের ওডিআই ক্যারিয়ারের গড় ৫০ ছুঁইছুঁই আর পাকিস্তানের সাথে ১টা হান্ড্রেডের সাথে আছে রাজ করা চারটি ফিফটি ।

ব্রেন্ডন টেলরঃ মিরপুর আর বাংলাদেশকে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের বাইরে টেলরের চাইতে ভালো কে বা চিনবেন? এখানে খেলতে খেলতে মিরপুর হয়ে গেছে তার সেকেন্ড হোমের মত । জিম্বাবুয়ের ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন কিছুদিন আগে । তবে বরিশাল তাকে দলে নিয়েছিলো বড় আশা করে । কিন্তু ব্যাটিং এ দুর্দশার কারণে কয়েক ম্যাচ খেলে একাদশে জায়গা হারাতে হয় ।

আনামুল হকঃ বয়স লেভেলের অনেকগুলি দলকে লিড করেছেন আর সাথে সাথে গেল বিপিএলে বেশকিছু রান পেয়েছেন । খেলার বাকি ফরম্যাটের চাইতে জাতীয় দলেও টি২০তে বেশ সফল আনামুল হক । বাংলাদেশের অল্প টি২০র মধ্যেও তার গড় ৩০ এর উপরে আর ১২০ ছোঁয়া স্ট্রাইকরেইট বাংলাদেশের বিবেচনায় বেশ ভালো স্ট্রাইকরেট । বেশ কয়েকম্যাচে বেশ কিছু ডটবল খেলে সেট হয়ে দলকে বিপদে ফেলে এবার বিপিএলে হতাশ করেছেন আনামুল হকও ।

মমিনুল হকঃ টেস্ট ফরম্যাটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম হলেও আগের বিপিএলগুলোতে নিজের সাহসী স্ট্রোকমেকিং দিয়ে নজর কেড়েছিলেন মমিনুল হকও । এবার দেখা যায় নি সেই মমিনুলের ছিঁটেফোঁটাও ।

উমর আকমলঃ ইংল্যান্ডের সাথে টি২০ সিরিজ ফুরোতেই আমিরাত থেকে উড়িয়ে আনা হয় পাকিস্তানি এই ব্যাটসম্যানকে । জাতীয় দলের হয়ে আগে অনেক ম্যাচে জিরো সিচুয়েশন থেকে নিজের ম্যাচ উইনিং এবিলিটি দেখালেও চিটাগাং ভাইকিংসের হয়ে পুরোটা টুর্নামেন্টে হাসে নি উমর আকমলের ব্যাট ।

মুশফিকুর রহিমঃ গত বিপিএলের স্টার মুশিকে এবার একটা পর্যায়ে ছেড়ে দিতে হলো ক্যাপ্টেন্সিই । পরিসংখ্যান হয়তো বলবে অন্য অনেকের চেয়ে মুশির রানটা এবার বিপিএলেও খারাপ না । তবে দুটো ম্যাচে লাস্ট ওভারে মুশি সাহসিকতা না দেখিয়ে স্ট্রাইক বদল করাতে ভুগেছে তার দল । তাই মুশফিককেও রাখতে হবে প্রত্যাশাপূরণে ব্যর্থদের দলে ।

জিয়াউর রহমানঃ বাংলাদেশের প্রথম টি২০ স্পেশালিস্ট বলা হয় তাকে । জাতীয় দলে ঢোকার পরে বোলিং এর মানটা বেড়েছে বেশ করে । তবে এবারের বিপিএলে বোলিং কিংবা ব্যাটিং কোনদিক দিয়েই ভালো সার্ভিস দিতে পারেন নি দলকে ।

এলটন চিগাম্বুরাঃ জিম্বাবুয়ের হয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলছেন সেই তাইবুদের আমল থেকে । বাংলাদেশকে একাই হারিয়ে দিয়েছেন অনেকবার । চিগাম্বুরা নামটা একসময় বিভীষিকাও হয়েছিলো আমাদের জন্যে । তবে বিপিএলে এবার চিগাম্বুরাকে লেগেছে বিষবিহীন সাপের মতো । তাকে স্লগে একটা ওভার বল করতে দিয়ে তামিমকে সইতে হয়েছে সমালোচনাও ।

এনামুল হক জুনিয়রঃ বিপিএলের আগের দুটো সিজনে কাড়ি কাড়ি উইকেট পেলেও এবার স্লো উইকেট পেয়েও ম্যাচের ফলাফল বদলে দেবার কাজটা করতে পারেন নি বাঁহাতি এই স্পিনার ।

তাসকিন আহমেদঃ হয়তো টুর্নামেন্ট গড়ানোর সাথে সাথে নিজের সেরাটার কাছাকাছি যেতে চেষ্টা করেছেন । তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে !

মোহাম্মদ ইরফানঃ একাদশের চার বিদেশীর কোটা ভরতে বেছে নেওয়া হলো পাকিস্তানি ইরফানকেই । তবে দোষ যতোটা না বোলারের নিজের তার চেয়ে বেশি ঢাকা ডায়নামাইটসের টীম ম্যানেজমেন্টের । আগেপরে একে টি২০ এলিমেন্ট মনে হয় নি কখনোই ।

এর বাইরে নাসির হোসেন আর রুবেলকে নিয়ে আশা অনেক উপরে থাকলেও প্রত্যাশা আর বাস্তবতার মিলন ঘটে নি। আসলে খেলা গড়াতে গড়াতে উইকেট স্লো হয়ে যাওয়াতে হিসাব নিকাশ দ্রুত পাল্টেছে এই টুর্নামেন্টের । তবে প্রত্যাশার জায়গাটা একেকজনের একেক রকম । তাই জনে জনে ফ্লপ ইলেভেনটাও একেকজনের একেক রকম ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eighteen − eight =