প্রতিপক্ষ পাকিস্তান বলে ভয়টা প্রতিকূল ইতিহাসকেও

সালঃ ২০০৮
টুর্নামেন্টঃ এশিয়া কাপ
ভেন্যুঃ ন্যাশনাল স্টেডিয়াম, করাচি

আব্দুর রউফ নামের কাউকে চেনেন ? ক্রিকেটের অনেক ভালো খোঁজ খবর রাখলেও আপনি চেনার কথা না যদি না আপনি পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাচ্চা ভক্ত হন । এই আব্দুর রউফ নামের ফাস্ট মিডিয়াম বোলার তার ক্যারিয়ারে পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট খেলেছেন ৩টা আর ওয়ানডে ম্যাচ ৪টা । তবে এই অখ্যাত আব্দুর রউফই সেদিন এশিয়া কাপে পাকিস্তান- বাংলাদেশ ম্যাচে আমাদের টপ অর্ডারের তামিম-নাজিমুদ্দিন-আশরাফুলকে ছেঁটে দিয়ে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশকে অল আউট করে দিয়েছিলেন ১১৫ রানে ।

২০০৮ এর এশিয়া কাপে এই রউফই বাংলাদেশকে ধসিয়ে দিয়েছিলেন
২০০৮ এর এশিয়া কাপে এই রউফই বাংলাদেশকে ধসিয়ে দিয়েছিলেন

সালঃ ২০১৪
টুর্নামেন্টঃ এশিয়া কাপ
ভেন্যুঃ শেরেবাংলা স্টেডিয়াম, মীরপুর

৩২৬ রানের টার্গেট দিয়ে আমরা যখন খুব ভালো কিছুর আশায় , তখনই আহমেদ শেহজাদ আর ফাওয়াদ আলম আমাদের কাছে হয়ে গেলো হাশিম আমলা আর কুমার সাঙ্গাকারা । শেষমেষ শহীদ আফ্রিদি এসে ৩২৬ চেইজ করে জিতিয়ে দিলো পাকিস্তানকে । এশিয়া কাপের ফাইনালের পরে প্রতিশোধের বদলে আরেক চোট হতাশা আর কান্না নিয়েই আমাদের মাঠ ছাড়তে হয়েছে ।

কষ্ট ঘোচে নি ২০১৪তেও
কষ্ট ঘোচে নি ২০১৪তেও

বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের ক্রিকেটের লড়াইয়ের স্টোরিগুলো কেমন জানি একই রকম ! পাকিস্তানের অখ্যাতদের বিখ্যাত হয়ে বাংলাদেশকে হতাশ করা গল্প , আবার কখনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে ন্যূনতম ব্যবধানে হেরে যাওয়ার গল্প । এমনভাবে হেরে যেতে হয়, যেটা কখনো ভাবিও নি । শ্রীলংকার সাথে খেলা হলে কুমার সাঙ্গাকারা একাই হারিয়ে দিলে কষ্টটা ঠিক লাগে, কিন্তু শকটা তেমনভাবে লাগে না । যেমনভাবে লাগে বাজে ফর্ম নিয়ে এসে শহীদ আফ্রিদি হুটহাট মেরে ম্যাচ বের করে দিলে বা আহমেদ শেহজাদ জীবনের সেরা ইনিংসটা খেলে আমাদের সামনে পাহাড় দাঁড় করিয়ে দিলে ।

তাই পাকিস্তানের সাথে আরেকটা ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের আগে আমার বড় ভয়ের জায়গাটা কোন ইন্ডিভিজুয়াল খেলোয়াড় নয় , কিংবা ওদের স্কোয়াডের কোন অংশ নয় । ভয়ের জায়গা হলো অতীতে তাদের সাথে আমাদের হারের স্টাইলগুলো । সাকিবের মত করেই বলবো, ফেবারিটটা পাকিস্তানের সাথে এবার আমরাই ! মনস্তাত্বিক চাপটা এবারে আরো চরমে উঠার কথা যখন দুইটা দলের ওয়ানডে সাইডের প্লাস মাইনাস এক করে যে কোন একটা সাইডকে বেছে নিতে বললে নিরপেক্ষদের বেশিরভাগই বেছে নেবেন বাংলাদেশকে । ফেবারিটের তকমা আর তিক্ত ইতিহাসই আমার প্রথম ফিয়ার ফ্যাক্টর ।

সেই ১৯৯৯ এর নর্দাম্পটন । রেকর্ডবুক বলবে পাকিস্তান আর বাংলাদেশ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে সব মিলিয়ে ৩২ টা । তাতে বাংলাদেশের জয় একটাতেই । তবে আমি ৯৯ এর আগের ম্যাচগুলোকে হিসাব থেকে ছেঁটে দেবো । আমি হিসেবে আনবো শুধুমাত্র ঐ ৯৯ এর পরের ম্যাচগুলোকেই । সেখান থেকেই না ক্রিকেটের শক্তি বা সমীহ পাওয়া দল হিসেবে আমাদের উত্থান ! সেখান থেকে আমরা ওদের সাথে ম্যাচ খেলেছি ২৬টা । জয়ের একাউন্টে থেকে গেছে ঐ একটা ম্যাচেরই কথা ! আর কিছুই জমা পড়ে নি ।

এবারের প্রত্যাশা আকাশ ছোঁয়া
এবারের প্রত্যাশা আকাশ ছোঁয়া

এর মধ্যে ৫০ বা তার বেশি রানের ব্যবধানে হারাটাকে বড় ব্যবধানের বেঞ্চমার্ক ধরে আমাকে ক্লান্ত সুরে বলতে হচ্ছে ২৬ টা ম্যাচের মধ্যে প্রায় ১৩টাই বড় ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া হার । এর বাইরে ১০ উইকেট, ৭ উইকেট আর ৮উইকেটের হারগুলো তো আছেই ।
এ তো গেলো ইতিহাসের এক পিঠ !
ইতিহাসের মুদ্রাটার আরেক পিঠের রঙটা দিয়েছেন আমাদের এই জেনারেশন ! বাশার-রফিক-পাইলট-আশরাফুলদের বিদায় দেবার পরে সাকিব-মুশি-আনামুলদের জেনারেশন ! মুদ্রার এ পিঠেও স্কোরবোর্ড বাংলাদেশের জয় দেখে নি । তবে হতাশা আর লজ্জার মাত্রা কমিয়ে বাড়িয়ে দিয়েছে শেষ হাসিটা হাসবার জন্যে হাহাকার । এশিয়া কাপ ফাইনাল ! ২ রানের আক্ষেপ ! ২ তো নিছক একটা অঙ্ক যা এখন শুধু মাত্র ইতিহাসের অংশ ! তবে হতাশা আর হাহাকারের মাত্রাটা যে সেদিন মীরপুরে ২ রানের চাইতেও অনেক বড় ছিলো । যে কান্নার আঁচ থেকে গা বাঁচিয়ে চলতে পারেন নি বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচাইতে প্রফেশনাল ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানও । পরের এশিয়া কাপে আশা জাগিয়েও আক্ষেপ শুধু বেড়েছেই ।

দ্যা লীডার- থাকছেন না প্রথম ম্যাচে
দ্যা লীডার- থাকছেন না প্রথম ম্যাচে

তাই লক্ষ্যটা এবার ইতিহাসকে বদলে লেখা আর কোন অখ্যাতকে খ্যাত না হতে দেওয়া । লড়াই করে হেরে খুশি হবার দিনটা পেরিয়ে এসেছি । এই পাকিস্তানের সাথে সিরিজে শেষ হাসিটা হাসা ছাড়া কোন কিছুই বাংলাদেশের দিক থেকে ভালো ফলাফল নয় । মাশরাফি মিস করছেন প্রথম ম্যাচটা … তাতে নেতৃত্ব দেবেন সাকিব । বোলার মাশরাফির চাইতেও লিডার মাশরাফি অনেক বড় বাংলাদেশ দলের দিক থেকে । তাই বৈরি অতীতের বিরুদ্ধে প্রথম লড়াইয়ে একটু হলেও হোচট খেলো বাংলাদেশ । তবে সাকিব-মুশফিক-রিয়াদ-রুবেলের প্রত্যয়টা অন্য কারো থেকে কম নয় ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 × one =