উঠান এখন বড় কুকুরের

অবশেষে টানা তিন মাস ঝগড়া, বিবাদ, হামলা, আক্রমণ, পালটা আক্রমণের পর মরা বুড়া আর বড় কুত্তার বাড়ির সামনের উঠান কার এই নিয়ে চলমান তর্কাতর্কির অবসান ঘটেছে। মরা বুড়ার পেটে কয়েকটা ধাক্কাধুক্কা ঠ্যালাঠুলা দিয়ে বুড়াকে বাকীজীবনের জন্য তার বাসার ভিতরে ঢুকিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে উঠানের মালিকানা নিজের করে নিয়েছে “আমি ভালো গাই না, আমি খারাপ গাইও না, আমি হইলাম শুধুই একটা গাই” খ্যাত বড় কুকুর। যদিও একজন কিভাবে একইসাথে কুত্তা ও গাভী (গাই) হয় সে বিষয়ে জনমনে এখনো বিতর্কের অবসান ঘটেনি, গাভী (মতান্তরে বড় কুকুর) নিজেও সেই ধোঁয়াশা এখনো পরিষ্কার করেননি।

প্রসঙ্গত, মোটামুটি গত ২৫ বছর ধরে শহরের কবরস্থানের ধারে মৃত নগরী (ডেথ ভ্যালী) নামে খ্যাত জায়গাটায় মরা বুড়ার বাস। সারাবছর নিজের বাড়ির মধ্যে পড়ে পড়ে ঘুমায় থাকলেও বছরের একটা বিশেষ সময় (মূলত: কুস্তিউন্মত্ততার সময়ে) মরা বুড়ারে নিজের বাসার সামনের উঠান পরিষ্কার করতে দেখা যায়, তবে সেটা ঝাড়ু দিয়ে নয়। প্রতি বছর কুস্তিউন্মত্ততার সময়ে বিশাল ওভারসাইজ কালো এক আলখাল্লা গায়ে দিয়ে মরা বুড়ারে দেখা যায় আস্তে আস্তে তার উঠানে হাঁটাহাঁটি করতে। তার ওভারসাইজ আলখাল্লা মাটিতে লুটায় পড়ে, গড়াগড়ি খাইতে থাকে, ফলে উঠানের মাটির মধ্যে ল্যাছড়াইতে ল্যাছড়াইতে ঐ আলখাল্লা দিয়েই মরা বুড়ার উঠান ঝাড়ু দেওয়া হয়ে যায়, আলাদা করে আর ঝাড়ুটাড়ু লাগেনা। এইসময় সাধারণত ঢং ঢং ঘন্টার শব্দ শোনা যায়, যার জন্য মরা বুড়ার পাড়াপ্রতিবেশী অনেক ত্যাক্ত থাকে।

কিছুদিন আগে মরা বুড়ার প্রতিবেশী হিসেবে পাশের বাড়িতে আগমন ঘটে গাই ওরফে বড় কুত্তার। নিজেকে কখনো গাই/গাভী কিংবা কখনো বড় কুত্তা হিসেবে পরিচয় দিলেও তাকে প্রায়শই শিয়ালের মত “উউউউউউউয়াআআআআআআ উউউউউয়াআআআআআ” করতে শুনা যায়। যার কারণে এই জিনিসটা নিয়েও জনমনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে, যে মাল টা কি আসলে, গাভী? কুত্তা? না শিয়াল?

মরা বুড়ার পেটে গুঁতা দিয়ে উঠান থেকে সরাতে চাচ্ছে বড় কুত্তা

তো যাই হোক। মাস তিনেক আগে এরকম কালো আলখাল্লা দিয়ে উঠান পরিষ্কার করার সময়ে মরা বুড়ার উঠানে খেলতে খেলতে ঢুকে পড়ে গাই/শিয়াল/বড় কুত্তা। উঠানে ঢুকেই মরা বুড়ার পেটে ধুম করে বড় কুত্তা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, উউউউউয়াআআআ উউউউউয়াআআআআ শব্দ করতে করতে। পেটে গাইয়ের গুঁতা খেয়ে পেটে হাত বুলাতে বুলাতে মরা বুড়ারে আফসোস করতে শোনা যায়, “আজকালকার বাচ্চাকাচ্চাদের আদব-লেহাজ বলতে কিচ্ছু নাই আসলে। আরে পিচ্চি ছ্যামরা একে ত আমার সীমানার ভিতরে উঠানে ঢুকসোস কত বড় সাহস, তার উপর আমারে গুঁতা দিয়া ফালায় দেস? এত বড় আস্পর্ধা!”

কাঁধে করে বড় কুত্তাকে নিজের উঠানের ত্রিসীমানা থেকে বের করার পাঁয়তারা করছেন মরা বুড়া

এদিকে মরা বুড়ার উঠানে ঢুকে পরিষ্কার উঠানের ডিজাইন দেখে উঠানটা পছন্দ হয়ে যায় বড় কুত্তার। উঠানটা নিজের করার জন্য ইচ্ছা পোষণ করে সে, যদিও তার এহেন ইচ্ছা শুনে মরা বুড়া তারে কয়েকবার গলা ধরে আছাড় টাছাড়ও মারে, কিন্তু কোনভাবেই বড় কুত্তারে দমায়ে রাখা যায়নাই। তাই সিদ্ধান্ত হয় তেত্রিশতম কুস্তিউন্মত্ততায় নির্ধারণ হবে আসলেই কি বড় কুত্তা মরা বুড়ার কাছ থেকে উঠানটা আদায় করে নিতে পারবে কি না। এদিকে মরা বুড়া ভেবেছিল ছ্যামরাটা আসলে বড় একটা কুত্তাই, কুত্তাটা যে কখনো গাই বা কখনো প্রয়োজনে শিয়ালও হইতে পারে এই জিনিসটা মরা বুড়ার মাথাতেই আসেনাই। ফলে সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন আসাতে ধরা খায়া যায় মরা বুড়া। শিয়ালের মত উউউউয়াআআআ উউউয়াআআআ করে মরা বুড়ার পেটে গুতার পরে গুঁতা দিতেই থাকে গাই, যে কি না ষাঁড়ের (ব্রাহমা বুল) এর চাচাত ভাই। এইভাবে গুঁতাগুঁতি ঠ্যলাঠেলি করতে করতে মরা বুড়ারে বাকী জীবনের জন্য তার বাড়ির মধ্যে ঢুকায়ে বাইরে থেকে লক করে দেয় বড় কুত্তা, তারপর উঠানটাও বাগিয়ে নেয়।

কুস্তিউন্মত্ততার পর এই উঠানজয়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বড় কুত্তা বলেন, “উউউউউয়াআআআআআআআ….”

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × three =