ম্যাককালামের অধিনায়কত্ব বিপ্লব

‘ইশ! এমন একজন অধিনায়কের অধীনে যদি খেলতে পারতাম!’ বিশ্ববিখ্যাত কয়েকজন ক্রিকেটার একথা বলছিলেন ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে। ঘটনাটা কিউই আর প্রোটিয়াদের কোয়ার্টার ফাইনালের দিনের। ক্রিকেটের একটু মনযোগী দর্শক হলেই প্রিয় পাঠকের বুঝে ফেলার কথা এই নেতাটি কে।

IndiaTv7c06b5_Brendon-McCullum-of-New-Zea
২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে এক কথায় বলা যায় রানবন্যার খেলা। ভেবে দেখুন তো, কয়বার ৪০০ হয়েছে এই টুর্নামেন্টে! দুইশ করেছেন কয়জন! আর প্রথম ইনিংস শেষ হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের চার ভাগের এক ভাগ হয়ে যেতেই গ্যালারী ছেড়ে বাইরে এসে বিড়ি ফুকেছেন কত দর্শক। ধুত্তরি, এর থেকে ঘুমানো ভালো! এই কথা বলে টিভি সেটের সামনে থেকে এক ইনিংস শেষেই উঠেছেন কজন, এই নিয়ে যদি গবেষণা হতো তাহলে আইসিসি আসল সত্যটা বুঝতে পারতো যে, ওয়ানডে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। অবস্থা অনেকটা বসন্ত দেখেও কবিগুরু যেমন বলেছিলেন,
‘কি জানি কিসের লাগি,
মন করে হায় হায়’
মন আসলে হায় হায় করছিলো সমানে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখার লাগি। তা এত কিছুর পরও এবারের বিশ্বকাপ একজন নতুন ধরনের নেতা উপহার দিয়েছে, তিনি কিউই সেনাপতি ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। শেষ কবে দেখেছেন ওয়ানডেতে পাঁচ স্লিপ ফিল্ডার? মনে করতে পারছেন না তো? না পারারই কথা। এমন তো হয় টেস্টে, নতুন ব্যাটসম্যানকে চার দিক থেকে চেপে ধরে বলের গতি, সুইং আর তার সাথে ফিল্ডারদের মুখের ‘মধুর সম্ভাষণ’ তো আছেই। ঠিক এই কাজটাই ওয়ানডেতে করে দেখিয়েছেন কিউইদের প্রিয় বি ম্যাক। ভুল হল, কিউইদেরই শুধু না, সারা বিশ্বের অসংখ্য ক্রিকেটভক্ত এবং বোদ্ধার মন জয় করেছেন তিনি।

25AA1D2B00000578-2959581-image-a-2_1424326105741
একটি ঘটনা বলি, তাহলে আপনারা তার দর্শন আরও ভালোভাবে বুঝবেন। দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ তুর্কি রাইলি রুশো তুর্কি নাচন নাচানোর চেষ্টা করেছিলেন কিউইদের, সেমিতে। পর পর দুই চারের জবাবে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে স্লিপের সংখ্যা শুধু তিন থেকে চারে উন্নিত করলেন ম্যাক। রুশো এরপর আরও বিদ্রোহী হবার চেষ্টা করে আরও একটি চারই কেবল মারতে পারলেন, এরপর ঠিকই তার শেষ লেখা হয়ে গেলো।
রাগবি পাগল দেশের আপামর জনসাধারণের মন জয় করেছেন তিনি তার ক্ষুরধার ক্রিকেট মস্তিস্ক আর মারমার কাটকাট ব্যাটিঙে। ক্রিকেটে দুর্নীতির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ম্যাক রিচার্ড হ্যাডলি পদক পেয়েছেন দেশে ফিরে। আসলে এসব সম্মান তার প্রাপ্য। এমন অনুপ্রেরণাদায়ী অধিনায়ক আর ভয়ডরহীন আক্রমণাত্মক ক্রিকেট অনেকদিন দেখিনি আসলে। কিউইদের একটা প্রায় বিশ্বজয়ী দলে পরিণত করতে ম্যাকের অবদান ভুলার নয় কিছুতেই। আর শুরুর দিকে তার রকেট গতির ব্যাটিং তো কিউই সাফল্যের রহস্য ছিল। ফাইনালে ০ রানে তার শেষ দেখে অসিরা আসলে তখনই বিশ্বজয়ের গন্ধ পেয়ে গিয়েছিলো আর সেই মানসিক বিপর্যয় থেকে কিউইরা আর ঘুরে দাড়াতে পারেনি।

Brendon-McCullum-of-New-Zealand-celebrates-his-century-as-Ross-Taylor-L-watches-on7
বিশ্বকাপ হয়তো তিনি জেতেননি, কিন্তু কোটি মানুষের হৃদয় ঠিকই জিতেছেন। যতদিন ক্রিকেট থাকবে, তার ঐ ভয়ডরহীন ক্রিকেট আর আক্রমণের দর্শন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
জয়তু ম্যাক!!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

three × two =