বিধ্বংসী মোনাকোর নেপথ্যে

২০১৪ সালে ক্লদিও রানিয়েরিকে সরিয়ে যখন মোনাকোর দায়িত্বে আসলেন লিওনার্দো জারডিম, সমর্থকেরা অতটা খুশি হননি। হবেনই বা কেন, যেখানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্যারিস সেইন্ট জার্মেই একের পর এক সুপারস্টার নিয়ে আসছে দলে (সেটা মাঠের খেলোয়াড়ের দিক দিয়ে হোক কিংবা ম্যানেজেরিয়াল দিক দিয়ে), সেখানে লিগ ওয়ানে উঠার প্রথম মৌসুমেই সেই যে রাদামেল ফ্যালকাও, হোয়াও মটিনহো আর হামেস রড্রিগেজকে নিয়ে আসলো, তারপর সেরকম সুপারস্টার আনার জন্য মোনাকোর কখনই সেই আগ্রহ হয়নি, জারডিমের অ্যাপয়েন্টমেন্টটাও মোনাকো ভক্তদের কাছে সেই অনাগ্রহেরই আরেকটা উদাহরণ হিসেবে দেখা দিল। ফলে মোনাকোর ভক্তসমর্থকেরা হয়ে পড়লেন হতাশ, এতটাই হতাশ যে পিয়েরে মেনেসের মত ফরাসী ফ্যটবল পণ্ডিত ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বলেই দিলেন যে, “জারডিম মোনাকোতে একটা নতুন ট্যাকটিকস উদ্ভাবন করেছেন, যার নাম ক্লোরোফর্ম ট্যাকটিকস। এই ট্যাকটিকসের ফলে যে মোনাকোর খেলা দেখবে সেই একঘেয়েমি আর বিরক্তির ঠ্যালায় মরেই যাবে!”

মোনাকো কোচ লিওনার্দো জারডিম

রানিয়েরি এসে যেরকম হাত খুলে খরচ করতে পেরেছিলেন, জারডিমের সেই সৌভাগ্য হয়নি। উলটো দল থেকে চলে যেতে দেখেছেন কলম্বিয়ান ফুটবলের দুই পোস্টারবয় হামেস রড্রিগেজ আর রাদামেল ফ্যালকাওকে। ২০১৪ বিশ্বকাপে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পুরষ্কারস্বরূপ হামেস নাম লিখান রিয়াল মাদ্রিদে, আর রাদামেল ফ্যালকাওকে ধারে নিয়ে যায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তার উপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে আসে ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে রুল – যার জন্য হাত খুলে খরচ করাতে মোনাকোর উপর আসে নিষেধাজ্ঞা। মোনাকোর মালিক রাশিয়ান বিলিওনিয়ার দিমিত্রি রাইবোলভলেভের পারিবারিক জীবনের জন্যেও মাশুল গুণতে হয় মোনাকোকে, রাইবোলভলেভের ডিভোর্স কেইসের জন্য তার পকেট থেকে অনেক টাকা খসে, যার জন্য তার মোনাকো প্রজেক্টটার জন্য আগ্রহ আস্তে আস্তে স্তিমিত হতে যায়। মোনাকো নিজেদের স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন করে জারডিমের অধীনে। প্রমাণিত সুপারস্টারদের পেছনে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ না করে সুপারস্টার বানানোর দিকে নজর দেয় তারা। আর প্রজেক্টের এই পরিবর্তনটাকে মাথায় রেখেই মূলত অন্য কোন সুপারস্টার ম্যানেজারের দিকে হাত না বাড়িয়ে লিওনার্দো জারডিমের হাতে মোনাকোর দায়িত্ব সঁপে দেয় রাইবোলভলেভ অ্যান্ড কোং।

আস্তে আস্তে নিজের দলকে গড়া শুরু করলেন জারডিম। হামেস রড্রিগেজ, দিমিতার বারবাটভ, রিকার্ডো কারভালহো, এরিক আবিদাল, জফ্রি কনডগবিয়া – দলের সুপারস্টারগুলোকে একে একে চলে যেতে দেখলেও নিজের দল বানিয়ে গেছেন নিভৃতে। যে দল মাত্র দুই-তিন বছর আগেই ইউরোপের অন্যতম বিরক্তিকর আর একঘেয়ে দলের স্বীকৃতি পেয়েছিল আজকে সেই মোনাকোই চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে। একঝাঁক তরুণ প্রাণ নিয়ে জুভেন্টাসের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল খেলার ছক কষছেন জারডিম। কিভাবে হল এই পরিবর্তন?

দলের সুপারস্টাররা চলে গেলেও হতাশ হননি জারডিম। বিভিন্ন লিগ স্কাউট করে উঠিয়ে এনেছেন একঝাঁক তরুণ প্রতিভাকে, সাথে মোনাকো অ্যাকাডেমির প্রতিভাধর কিছু খেলোয়াড় ত আছেই। ব্রাজিলিয়ান ক্লাব রিও আভে থেকে নিয়ে আসা হয় রাইটব্যাক ফাবিনহোকে। আরেক ব্রাজিলিয়ান ক্লাব অ্যাটলেটিকো মিনেইরো থেকে আসেন সেন্টারব্যাক জেমারসন। নিজের দেশ পর্তুগালের বেনফিকা থেকে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বার্নার্ডো সিলভাকে নিয়ে আসেন জারডিম। রেনেঁ থেকে আসেন তরুণ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার তিমুইয়ে বাকায়োকো, এক মৌসুম ধারে থেকে মোনাকোতে ফেরত আসেন স্ট্রাইকার ভ্যালেরে জার্মেই, লিল থেকে নিয়ে আসা হয় ফরাসী রাইটব্যাক জিব্রিল সিদিবে কে, লেফটব্যাকে মার্শেই থেকে আসেন বেঞ্জামিন মেন্ডি। সেন্ট্রাল ডিফেন্সের দরকার ছিল একজন নেতার, যে কি না একেবারে নিচ থেকেই মোনাকোর গেইমপ্লে টা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, ইউরো ২০১৬ তে ঝলক দেখানো পোলিশ সেন্টারহাফ কামিল গ্লিক কে তোরিনো থেকে তাই নিয়ে আসা হয়। ব্রাজিল থেকে আসেন আরেক অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার গ্যাব্রিয়েল বশচিলিয়া, কায়েন থেকে আনা হয় ফরাসী মিডফিল্ডার থমাস লেমারকে। আর নিজেদের অ্যাকাডেমি থেকে দুইজন চূড়ান্ত প্রতিভাধর খেলোয়াড় – স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপে আর রাইটব্যাক আলমামি ট্যুরে কে স্কোয়াডে নিয়ে আসেন লিওনার্দো জারডিম। আর পরপর দুইবছর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর চেলসির হয়ে ইংলিশ লিগে কিছুই না করতে পেরে আবার সেই মোনাকোতেই ফিরে এসেছেন কলম্বিয়ান সুপারস্টার স্ট্রাইকার রাদামেল ফ্যালকাও। মোটামুটি এই কয়জনই এখন মোনাকো দলের মূল হৃদস্পন্দন। মোনাকোর নিয়মিত একাদশটার দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় –

  • গোলরক্ষক : ড্যানিয়েল সুবাসিচ
  • রাইটব্যাক : জিব্রিল সিদিবে
  • সেন্টারব্যাক : জেমারসন
  • সেন্টারব্যাক : কামিল গ্লিক
  • লেফটব্যাক : বেঞ্জামিন মেন্ডি
  • রাইট মিডফিল্ডার : বার্নার্ডো সিলভা
  • সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার : তিমুইয়ে বাকায়োকো
  • লেফট মিডফিল্ডার : ফাবিনহো
  • স্ট্রাইকার : রাদামেল ফ্যালকাও
  • স্ট্রাইকার : কিলিয়ান এমবাপে

মাঠে তাদের ফর্মেশানটা একটু দেখে নেওয়া যাক –

মূলত ৪-৪-২ তেই নিজের দলকে খেলাতে পছন্দ করা লিওনার্দো জার্ডিমের অল-অ্যাটাকিং সিস্টেমের মূল একাদশে থাকেন এই কয়জন। মাঝে মাঝে রাইটব্যাকে ব্যাকআপ হিসেবে থাকেন আলমামি ট্যুরে, ডিফেন্সের বামদিকের ব্যাকআপ অভিজ্ঞ ইতালিয়ান অ্যান্দ্রেয়া র‍্যাগি। সেন্টার মিডফিল্ডে বাকায়োকো আর ফাবিনহোর সাথে রোটেশান করেন পর্তুগীজ মিডফিল্ডার হোয়াও মটিনহো, উইংয়ে রোটেট করার জন্য স্কোয়াড প্লেয়ার হচ্ছে নাবিল দিরার, গ্যাব্রিয়েল বশচিলিয়া। আর এমবাপে-ফ্যালকাওয়ের ব্যাকআপ হিসেবে দলে আছেন স্ট্রাইকার গিডো ক্যারিইও আর ভ্যালেরে জার্মেই।

আগেই বলা হয়েছে লিওনার্দো জার্ডিমের এই ৪-৪-২ ফর্মেশানটা অতি আক্রমণাত্মক, ফলে এই ফর্মেশানে তারা গোলও যেমন দেয়, গোল খায়ও প্রচুর। মাঝে মাঝে এই ফর্মেশানের একটু রক্ষণাত্মক ভার্সন হিসেবে ৪-২-৩-১ বা ৪-৩-৩ আকারে দলকে মাঠে নামান জারডিম, তখন লেফট মিডফিল্ডার হিসেবে খেলা থমাস লেমার ৪-৩-৩ ফর্মেশানে রাইট উইঙ্গার হয়ে যান, কিলিয়ান এমবাপে চলে আসেন একটু বামদিকে, আর রাইট মিডফিল্ডার থেকে বার্নার্ডো সিলভার পজিশানিংটা হয় নাম্বার ১০ বা অ্যাটাকিং মিড হিসেবে।

৪-৩-৩ তে মোনাকো

মোনাকোর মূল ফর্মেশান ৪-৪-২ কে বারবার অতি আক্রমণাত্মক বলছি, পাঠকের কাছে জিনিসটা বিচিত্র লাগা স্বাভাবিক, কেননা ৪-৪-২ ত কখনই সেরকম আক্রমণাত্মক কোন ফর্মেশান না। ৪-৪-২ কে অতি আক্রমণাত্মক বলার একটা মাত্রই কারণ, এই ৪-৪-২ ফর্মেশানটা মাঠে নামলেই হয় ৪-২-২-২ কিংবা ২-৪-৪ হয়ে যায়। আর ফর্মেশানের এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনটা সাধিত হয় দুই ফুলব্যাক জিব্রিল সিদিবে আর বেঞ্জামিন মেন্ডির পজিশনিংয়ের কারণে। দুইজনই অতি আক্রমণাত্মক ফুলব্যাক, প্রায়ই উপরে উঠে আক্রমণে যোগ দেওয়ার লাইসেন্সটা দিয়ে দেওয়া হয়ে এই দুজনের। জিব্রিল সিদিবে’র রাইটব্যাকে এই উত্থানের কারণে আগের মৌসুমের রাইটব্যাক ফাবিনহো এখন পজিশান চেইঞ্জ করে হয়ে গেছেন পুরোদস্তুর সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার, কেননা ফাবিনহো সিদিবের থেকে অপেক্ষাকৃত বল দখলে রাখা, পাসিং ও বল পজেশানে বেশী দক্ষ, যেই দক্ষতাগুলো সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারদেরই অপেক্ষাকৃত বেশী দরকার হয়। ওদিকে মেন্ডি আর সিদিবের পজিশানিং জারডিমের সিস্টেমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কেননা দুইজনই আক্রমণে উঠে গিয়ে প্রতিপক্ষ ডিবক্সে এমবাপে আর ফ্যালকাওকে ক্রস দিয়ে আসেন অহরহ।

মোনাকোর ৪-৪-২ ফর্মেশানটা তাদের অসাধারণ স্ট্যাবিলিটি আর ফ্লুইডিটি দিয়েছে এ কথা বলাই যায়। মাঠের ডান উইংয়ে বার্নার্ডো সিলভার সাথে জিব্রিল সিদিবে, আর বাম উইংয়ে থমাস লেমারের সাথে বেঞ্জামিন মেন্ডি মোনাকোর দুই পাশকে করেছে অনেক শক্তিশালী, তাই বলে যে মাঝখান দিয়ে মোনাকো গড়ের মাঠ হয়ে গিয়েছে তা কিন্তু নয়। ফাবিনহো আর তিমুইয়ে বাকায়োকো দিয়ে গড়া সেন্ট্রাল মিডফিল্ড মোনাকোকে মাঝমাঠে দিয়েছে সংহতি। আর তাদের পিছে দুইজন শক্তিশালী বল প্লেয়িং সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ত আছেই, ফলে মোনাকোর ফর্মেশানের মাঝখানটাও কিন্তু দুর্বল নয়। মিডফিল্ডে বাকায়োকোর ভূমিকাটাই মিডফিল্ডারদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত বেশী রক্ষণাত্মক, কারণ মিডফিল্ড পাওয়ারহাউজের মত প্রতিপক্ষ অ্যাটাকারদের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ার কাজটা তাঁকেই বেশী করতে হয়। এবং যাকে পাশে রেখে ডিপ লায়িং প্লেমেকারের কাজটা নিশ্চিন্তে করতে পারেন ফাবিনহো। প্রতি ম্যাচে গড়ে ২.৬টা করে এরিয়াল ডুয়েল জিতছেন বাকায়োকো, সাথে সফল পাস দেওয়ার হারটাও রেখেছেন যথেষ্ট প্রশংসনীয় – ৮৭.৭ শতাংশ। ওদিকে সিদিবে বেশী উপরে উঠে গেলে রাইট মিডফিল্ডার হিসেবে খেলা বার্নার্ডো সিলভা মাঝখানে চলে আসেন, ঠিক ফ্যালকাও আর এমবাপের পেছনে, নাম্বার টেনের ভূমিকা পালন করতে। মাঝখানে চলে আসতে পারেন আরেকটা কারণে, কারণ বার্নার্ডো সিলভা এমনিতে বামপায়ের খেলোয়াড়, যিনি খেলেন রাইট মিডফিল্ডার হিসেবে, ফলে ডান প্রান্ত থেকে বামদিকে কাট-ইন করে বাম পায়ে গোলমুখে জোরালো শট মারার লাইসেন্সটাও দেওয়া আছে তাঁকে। আর ওদিকে থমাস লেমারও বামপায়ের খেলোয়াড়, ফলে মাঝে মাঝে কাট-ইন করার সাথে সাথে বক্সে বাম পা দিয়ে নিখুঁত ক্রসও ফেলতে পারেন তিনি রাদামেল ফ্যালকাও কিংবা কিলিয়ান এমবাপের কাছে।

এমবাপে ও ফ্যালকাও

আরও পড়ুন – আসছেন কিলিয়ান এমবাপে

এই মৌসুমে জারডিমের সবচাইতে বড় পাওয়াটা হচ্ছে কলম্বিয়ান স্ট্রাইকার রাদামেল ফ্যালকাওয়ের ফর্মে ফেরা। ২০১৪ সালের পূর্বে যে স্ট্রাইকারকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ স্ট্রাইকার হিসেবে ভাবা হত, ২০১৪ বিশ্বকাপের ঠিক আগে আগে ক্যারিয়ারঘাতী অ্যান্টেরিওর ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট ইনজুরির কবলে পড়ে নিজের সেই বিধ্বংসী গতি, মুভমেন্ট অনেকটাই হারিয়েছিলেন ফ্যালকাও। ফলে তাঁকে একমাত্র স্ট্রাইকার হিসেবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর চেলসিতে যখনই খেলানো হয়েছে, ফ্লপ খেলেছেন তিনি। কারণ একে ত সেই গতি বা মুভমেন্ট নেই, তার উপর স্ট্রাইকে একা খেলার ফলে কড়া ম্যান মার্কিংয়ের মধ্যে থাকতে হত তাকে সবসময়। ফলে মার্কারকে ছুটানোর জন্য যে ক্ষিপ্রতার দরকার, ইনজুরির পর সেই ক্ষিপ্রতাটা অনেকটাই হারিয়েছিলেন ফ্যালকাও। ফলাফল – ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর চেলসির হয়ে সাকল্যে ৫ গোল। এই সমস্যাটা এখন মোনাকোতে নেই আর। কেননা ৪-৪-২ ফর্মেশানে ফ্যালকাওকে এখন আর স্ট্রাইকে একা খেলতে হয় না। হয় কিলিয়ান এমবাপে থাকেন, নাহয় ভ্যালেরে জার্মেই। দুইজনই বেশ গতিশীল স্ট্রাইকার, আর এমবাপের কথা ত বাদই দিলাম, পরবর্তী থিয়েরি অঁরিই বলা হচ্ছে তাঁকে। তাই স্ট্রাইকে যখন নিজের গতি আর ক্ষিপ্রতা দিয়ে এমবাপে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের তটস্থ রাখেন, ফ্যালকাও ডি-বক্সে চতুর শিকারীর মত দুর্দান্ত পজিশনিংয়ের মাধ্যমে গোল করার জন্য সঠিক সময়ে সঠিক জায়গাতে পৌঁছে যান। আর দুদিক দিয়ে প্রায় সময়েই লেমার বা বার্নার্ডো সিলভার মাপা ক্রস ত আসছেই, মোনাকো তাই আক্রমণ করতে পারে অবিরত। আর পুরো ট্যাকটিক্সটাই তাদেরকে কাউন্টার অ্যাটাকিং টিম হিসেবে তুলে ধরেছে বিশ্ব ফুটবলে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

12 + twenty =