এবার বিপিএল নিয়ে বোমা ফাটালেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক কোচ

২০১৩ সালের বিপিএলের ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারির কথা অজানা নয় কারোই । তাতে জড়িয়ে পড়েছিলেন দেশের শীর্ষ ক্রিকেটার আশরাফুলসহ ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের কর্তা ব্যক্তিদেরও কেউ কেউ । তবে বাংলাদেশে বিভিন্ন শুনানিতে অংশ নিলেও এতদিন পর্যন্ত মিডিয়ায় চুপচাপই ছিলেন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের প্রধান কোচ ইয়ান পন্ট যিনি এর আগে বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ হিসেবেও দ্বায়িত্ব পালন করেছেন । পন্টের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো পুরোনো কথাগুলোই , তবে সবকিছু আরো খোলাসা করে ভেঙে বললেন ইয়ান পন্ট ।

যখন বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ ছিলেন
যখন বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ ছিলেন

” সবকিছুর শুরু ২০১৩ এর ফেব্রুয়ারি থেকেই । আমার দল (ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স) ৬ ম্যাচের ৫টাই জিতেছিলো । পয়েন্ট টেবিলে সবার উপরে ছিলাম আমরা । আমার হোটেল রুমে সন্ধ্যার পরে আসেন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের একজন মালিক আর তার সাথে ছিলো অন্য আরেকজন । তারা রুমে এসে আমাকে বলে তারা পরের দিন চিটাগাঙ কিংসের সাথে ম্যাচটা পাতাতে চায় । তাদের হাতে কিছু কাগজ ছিলো এবং তাতে ম্যাচের কোন কোন জায়গায় কি কি ঘটবে তার বিবরণ দেওয়া ছিলো । আমি বুঝলাম তারা শুধু খেলার কোন অংশ নয়… পাতাতে চায় পুরো খেলার ফলাফলই । ”

” আমার মাথা স্রেফ ঘুরছিলো এবং আমি বুঝতে পারছিলাম না কি বলা উচিত । আমি বাড়ি ফিরে যেতে চাই- এটাই ছিলো আমার প্রথম জবাব … আর কিছু না । তারা দলের রেগুলার ক্যাপ্টেন মাশরাফি মুর্তজাকে ম্যাচের জন্যে সরিয়ে মোহাম্মদ আশরাফুলকে ক্যাপ্টেন করতে চেয়েছিলো কারণ তারা জানত কোন রকমের খেলায় কোন রকম দুর্নীতিমূলক কার্যক্রম মাশরাফি থাকাতে সম্ভব ছিল না । তার উপরে মাশরাফি তার কিছুদিন আগেই মিডিয়ার কাছে ফাঁস করে দিয়েছিলো আরেক ফিক্সারের অফার দেওয়ার কথাটা । এর সাথে সাথে তারা দলে দুইজন নতুন বোলার আনতে চেয়েছিলো যারা তাদের এই ফিক্সিং এর কাজে সাহায্য করবে । ”

JF--Ian-Pont

” আমি আমার স্ত্রীকে ফোন করলাম এবং তাকে আমার টুর্নামেন্ট ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানালে সে-ও তাতে সম্মতি জানায় ।”

“তবে পরেরদিন সকালে আকসু কর্মকর্তা পিটার ও শেয়ার সাথে আমার ব্রেকফাস্টে দেখা হলে অপরাধীদের হাতে নাতে ধরার জন্যে তিনি আমাকে তাদের সাহায্য করতে থেকে যেতে বললেন বাংলাদেশে । এভাবেই ক্রিকেটের বৃহত্তর উন্নতির স্বার্থে আমি হয়ে যাই একটি গোপন অভিযানের অংশ । আকসুর লোকজন আমার ড্রয়ারে ও ডেস্কে অডিও রেকর্ডার ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের যন্ত্রপাতি রাখে এবং আমিও ল্যাপটপে তাদের ভয়েস রেকর্ড করেছিলাম । গ্ল্যাডিয়েটর্স কর্তা জিশান চৌধুরি আবার আমার রুমে আসলে আমি তাকে আবারও পুরো প্ল্যান ভেঙে বলতে বলি । এভাবেই আসলে ফিক্সিং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে চাক্ষুস প্রমাণ সংগ্রহ করা হয় । ”

” আমি ২০০৭ এ বব উলমারের কথা ভেবে ভয় পাচ্ছিলাম এবং বাড়ি যেতে চাচ্ছিলাম । তবে পুরোটা দেখে আসল অপরাধীদের ধরার জন্যে আমাকে থেকে যেতে বলে আকসুর লোকজন । ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের মালিক শিহাব আমাকে ৬০০০ ডলার দিলেও আমি তা নিতে চাই নি । তবে আকসুর লোকজন আমাকে বেতন হিসেবেই টাকাটা রেখে দিতে বলে কারণ আমার বেতনের একটি টাকাও আমি তখনো ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিকপক্ষ থেকে পাই নি । তবে আমি অবাক হয়েছি ট্রাইবুন্যাল আমাকে এই টাকাটা নিয়েও প্রশ্ন করেছে এবং আমার সততা নিয়েও প্রশ্ন করেছে । ”

এরপরে পন্টের কন্ঠ থেকে বিপিএলের কেলেঙ্কারি তার ক্যারিয়ারে কতোটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে সেজন্যে আফসোসও ঝরে পড়ে ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

1 × five =