বার্নার্ডো সিলভা – গার্দিওলার নতুন সেনানী

এই মৌসুমে মোনাকোর তরুণ দলটা যে কি কি করলো, সে সম্বন্ধে সবাই-ই মোটামুটি অবগত আছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল খেলা এবং এই মৌসুমে পিএসজিকে হটিয়ে ফ্রান্সের লিগ শিরোপা জেতা মোনাকোর সেই দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন পর্তুগীজ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বার্নার্ডো সিলভা। ছিলেন বলতে হচ্ছে, কেননা মোনাকোর এই রত্নের দিকে হাত বাড়িয়েছেন পেপ গার্দিওলা। ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন তিনি। এর মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশী দামী খেলোয়াড়দের তালিকায় সাত নাম্বারে চলে আসছেন তিনি, ফলে কেভিন ডি ব্রুইনিয়ার ট্রান্সফার ফি কে হটিয়ে দিয়ে তিনিই হতে যাচ্ছেন সিটির সবচেয়ে দামী খেলোয়াড়।

২০১৪-১৫ মৌসুমে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা থেকে মোনাকোকে ১৫.৭৫ মিলিয়ন ইউরোতে যোগ দেওয়া “মেসিজিনহো” বা ”ছোট মেসি” নামে খ্যাত ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলার এই মৌসুমে মোনাকোর হয়ে আট গোল আর ৯ অ্যাসিস্ট করেছেন। প্রশ্ন হল, বেনফিকাতেই যদি তাঁকে “ছোট মেসি” নামে ডাকা হয়, তবে তিনি সেই ক্লাব ছাড়লেন কেন? কারণ বেনফিকাতে তাঁকে লেফটব্যাক হিসেবে খেলানো হচ্ছিল, যেটা তাঁর নিজের একদম পছন্দ ছিল না।

বামপায়ের এই খেলোয়াড় মোনাকোর ৪-৪-২ ফর্মেশানে রাইট মিডফিল্ডার হিসেবে খেললেও তাঁর ভূমিকাটা মূলত “ফ্রি রোল”, চাইলেই স্ট্রাইকারের পেছনে একজন আদর্শ “নাম্বার টেন” হিসেবে খেলতে পারেন তিনি। হাই প্রেসিং গেইমে বার্নার্ডো সিলভার বল পজেশানে রাখার ক্ষমতাটা অনেক প্রশংসনীয়। মূলত তাঁকে ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ সুপারস্টার ডেভিড সিলভার উত্তরসূরি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডের যেকোন পজিশানে খেলতে স্বচ্ছন্দ বার্নার্ডো সিলভা তাই আক্রমনভাগে ডানদিকেই খেলেন, যাতে কাট ইন করে বাম পায়ের জোরালো শটে গোল বা অ্যাসিস্ট করতে পারেন। তাঁর এই নিয়মিত ডান প্রান্ত থেকে মাঝে আসার প্রবণতাটার জন্য প্রতিপক্ষ দলের দুই-তিনজন খেলোয়াড় প্রায়ই ব্যতিব্যস্ত থাকেন। তাঁর জন্য দুই-তিনজন খেলোয়াড়ের ব্যস্ত থাকা মানে মোনাকোর আরেক যে খেলোয়াড় ডিবক্সের দিকে এগোতে থাকেন তাঁকে মার্ক করার জন্য প্রতিপক্ষ দলের তেমন কেউ থাকেননা, ফলে সে খেলোয়াড়টা অনেক জায়গা পান নিজেকে ভালো পজিশানে রাখার জন্য। ডেকোর মত পর্তুগিজ কিংবদন্তী নিজেই যেহেতু সিলভার ব্যাপারে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন, সিটি ফ্যানরা ইতিবাচক হতেই পারেন!

সিটি মাতাতে আসছেন সিলভা

পাঁচ ফুট আট ইঞ্চির এই তারকা মিডফিল্ডার মূলত চ্যাম্পিয়নস লিগে এবার ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ম্যাচেই পেপ গার্দিওলাকে মুগ্ধ করেছিলেন। মাত্র ২২ বছর বয়সেই ফাইনাল থার্ডে তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাটা চোখে পড়ার মত। আর তাঁর ৮১.৪ শতাংশ সফল পাস দেওয়ার হার গার্দিওলাকে আরো উদ্বুদ্ধ করেছে সিটিতে নেওয়ার জন্য, সেটা বলেই দেওয়া যায়। ঠিক সময়ে ঠিক সময়ে থাকার প্রবণতাটার কারণেই তাঁর উচ্চতা কম হলেও এই মৌসুমে তাঁর হেডে গোলের সংখ্যা দুটি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় যেটা, এত প্রতিভাবান আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় হওয়া সত্বেও রক্ষণের দিকেও তাঁর বেশ ভালোই খেয়াল আছে। এই মৌসুমে তাঁর গড় ট্যাকলের হার ১.২, ইন্টারসেপশানের হার ০.৮। অর্থাৎ তিনি খেলোয়াড় হিসেবে বেশ পরিশ্রমীও। যেটা কিনা ইংলিশ লিগে তাঁকে মানিয়ে নিতে অনেক সাহায্য করবে।

গত মৌসুমেই দেখা গেছে, ৩-৫-২ বা ৪-৩-৩ ফর্মেশানে পেপ গার্দিওলা এখন ৩২ বছর বয়সী ডেভিড সিলভাকে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বা উইঙ্গার হিসেবে না খেলিয়ে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার বা “ডিপ লায়িং প্লেমেকার” হিসেবে খেলানো শুরু করেছেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে জাবি আলোনসো, অ্যান্দ্রেয়া পিরলো, জাভি হার্নান্দেজদের ভূমিকা ছিল যেটা আরকি। সামনের মৌসুমেও এবার তারমানে পাকাপাকিভাবেই ডেভিড সিলভা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হয়ে যাচ্ছেন, আর আক্রমণভাগে রাহিম স্টার্লিং, লেরয় সানে, গ্যাব্রিয়েল হেসুস আর কেভিন ডে ব্রুইনিয়ার সাথে যোগ দিচ্ছেন বার্নার্ডো সিলভা।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

10 − five =