লেফটব্যাক সংকটে বেঞ্জামিন মেন্ডিই সমাধান সিটির

গত মৌসুমটা ছিল ম্যানচেস্টার সিটির কোচ হিসেবে পেপ গার্দিওলার প্রথম মৌসুম। এ মৌসুমে দলের ফুলব্যাকদের নিয়ে বেশ ভুগেছেন তিনি, কারণ কেউই তাঁর মতাদর্শের সাথে যান না ঠিক। ডানদিকে পাবলো জাবালেতা, বাকারি স্যানিয়া, পাবলো ম্যাফেও কিংবা বামদিকে অ্যালেক্সান্দার কোলারভ, গায়েল ক্লিশি – কেউই গার্দিওলাকে তাঁর মনমত পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারেননি। ফলাফল, এই মৌসুমে এই চারজনের মধ্যে তিনজনকেই (ক্লিশি, জাবালেতা ও স্যানিয়া) ক্লাব থেকে বের হবার দরজা দেখিয়ে দিয়েছেন গার্দিওলা। আর কোলারভও ম্যানচেস্টার সিটি থেকে যোগ দিয়েছেন ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমায়। ফলে ম্যানচেস্টার সিটিতে দেখা গেছে ফুলব্যাক সংকট, ক্লাবের জন্য আদর্শ ফুলব্যাক ও তাদের যোগ্য ব্যাকআপ কেনার জন্য এবার প্রথম থেকেই সক্রিয় ম্যানচেস্টার সিটি। এই সক্রিয়তার প্রথম ধাপ হিসেবে কিছুদিন আগেই সবচেয়ে বেশী দামের ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে শত্রুশিবির টটেনহ্যাম হটস্পার থেকে রাইটব্যাক কাইল ওয়াকারকে দলে টেনেছিল তারা, ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে! কিন্তু যে দল লিগ, কাপ, চ্যাম্পিয়নস লিগ সহ প্রত্যেকটা প্রতিযোগিতায়ই জয়ের জন্য লড়বে, তাঁদের কি আর মাত্র একটা রাইটব্যাকে চলে? তাই রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ব্রাজিলিয়ান রাইটব্যাক দানিলোকে ২৬.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে দলে আনা হল। এবার ডিফেন্সের বামদিকে নজর দেবার পালা। সেই ধারাবাহিকতায়ই এবার বিশ্ব ফুটবলের সারপ্রাইজ প্যাকেজ মোনাকো থেকে তরুণ ফরাসী লেফটব্যাক বেঞ্জামিন মেন্ডিকে দলে নিয়ে আসছে ম্যানচেস্টার সিটি। ৫২ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে আনা এই ডিফেন্ডারই হতে যাচ্ছেন বিশ্বের সবচেয়ে দামী ডিফেন্ডার, ডেভিড লুইজের রেকর্ডকে ভেঙ্গে দিয়ে

২৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার মাত্রই গত মৌসুমে আরেক ফরাসী ক্লাব মার্শেই থেকে যোগ দিয়েছিলেন মোনাকোতে। মোনাকোর গত মৌসুমের উত্থানের পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল যথেষ্টই বেশী। কিন্তু আসলেই কি বেঞ্জামিন মেন্ডি ম্যানচেস্টার সিটির গত মৌসুমের লেফটব্যাক-যুগল অ্যালেক্সান্দার কোলারভ বা গ্যেল ক্লিশির চেয়ে ভালো কেউ হবেন?

গত মৌসুমে বেঞ্জামিন মেন্ডি আর গ্যেল ক্লিশি উভয়েই লিগে খেলেছেন ২৫টা করে ম্যাচ, কোলারভ খেলেছেন ২৯টা। বল পায়ে সফল পাস প্রদানের ক্ষেত্রে মেন্ডির থেকে অবশ্য ক্লিশি বা কোলারভ, দুইজনেরই সফলতা বেশী। মেন্ডি যেখানে লিগে ৭৬% সফল পাস দিয়েছেন, কোলারভ আর ক্লিশি উভয়েই দিয়েছেন ৮৫% করে। আক্রমণভাগে “কী পাস” দেওয়ার ক্ষেত্রে আবার কোলারভ (১৪) বা ক্লিশির (১৬) চাইতে মেন্ডিরই (২০) সফলতা বেশী। সেটার প্রতিফলন ঘটেছে গোলসহায়তার ক্ষেত্রেও। বেঞ্জামিন মেন্ডির গত মৌসুমে লিগে গোলসহায়তা ছিল ৫টি, কোলারভের একটি, ক্লিশির একটিও ছিল না। কোলারভ বা ক্লিশির তুলনায় মেন্ডির সফল ট্যাকলের পরিমাণও বেশী, মেন্ডির সফল ট্যাকল ৪০ টি, যেখানে ক্লিশি বা কোলারভ – উভয়েরই ৩৪টা করে। তবে এই অতিরিক্ত ট্যাকল করতে গিয়ে দেখা যায় প্রায়ই যথেচ্ছভাবে হলুদ বা লাল কার্ড খেয়ে বসেন বেঞ্জামিন মেন্ডি। প্রতিপক্ষের পা থেকে আবার বল কেড়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মেন্ডি (৪২) বা কোলারভের (৪৯) তুলনায় ক্লিশি (৫৩) ছিলেন বেশী পটু। মেন্ডির খেলার একটা বাজে দিক হল, তাঁর থেকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বা তাঁর তুলনায় কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে গেলে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু অপেক্ষাকৃত দুর্বলতম প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কিন্তু ঠিকই যথেষ্ট ভালো খেলতে পারেন। প্রতি ম্যাচে নূন্যতম ৩.৮টা করে বল রিকভারি আর ২.৬টা করে ক্লিয়ারেন্স করা মেন্ডি আক্রমণে অসাধারণভাবে ভালো।

তবে মেন্ডির আসল রূপ দেখা গিয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগে। ৭ ম্যাচ খেলে গোলসহায়তা করেছেন তিনটি, আক্রমভাগে “কি পাস” দিয়েছিলেন সাতবার। গোলের সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন দশবার। গার্দিওলার সিস্টেমে আদর্শ আক্রমণাত্মক ফুলব্যাক হিসেবে তাই বেশ ভালোই মানিয়ে যাওয়ার কথা মেন্ডির, বাকীটা দেখা যাক!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four + 6 =