বেনাফিকার জীবন্ত কিংবাদন্তি – লুইস ডা সিলভা লুইসাও

::: জুয়েল আহমেদ লিপু :::

মানুষ পৃথিবীতে আসে লড়াই করার জন্য । তবে কিছু মানুষ জন্ম নেয় রাজা হতে। আজ এমন একজন রাজার কথা বলবো, যার কথা শুনে অনেকে আমাকে পাগল কিংবা আমার পোস্ট নিয়ে অট্টহাসি করতে পারেন। তবু ও আমার এবং বেনফিকা সর্মথকের কাছে তিনি একজন অঘোষিত রাজা।

এন্ডারসন লুইস ডা সিলভা লুইসাও কোন ব্রাজিলিয়ানের কাছে অপরিচিত কেউ নয় । ২০০৩ সাল থেকেই বেনফিকার হয়ে ডিফেন্স সামলাচ্ছেন এই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার । এর মধ্যে বেনফিকাতে অনেক প্লেয়ার এসেছেন, গেছেন কিন্তু লুইসাও ছিলেন স্থির, কখনো ক্লাব ছাড়ার কথা বলেননি। নিজের সেরা সময়ে অনেক ইউরোপিয়ান জায়ান্ট তার জন্য টাকার থলি নিয়ে হাজির হলে, নিজের প্রিয় ক্লাব ছেড়ে কোথাও যাননি এই ব্রাজিলিয়ান। অনেকে লিজেন্ড আছেন যারা ক্লাবের হয়ে ভুরি ভুরি গোল করে এবং দলকে অনেক শিরোপা জিতিয়ে, নিজেদের নিয়ে গেছেন অনান্য উচ্চতায়, তবে কিছু কিছু প্লেয়ার আছেন যারা ক্লাবকে ভালোবেসে, ক্লাবের প্রতি নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনান্য উচ্চতায়, যেমনটা রোমার ফ্র্যানসেস্কো টট্টি, লিভারপুলের স্টিভেন জেরার্ড, তেমনি বেনফিকার লুইসাও। ১৯৯৯ সালে ক্লাব আট্যলিটিকো জুভেন্টাসের মাধ্যমে তার ক্যারিয়ার শুরু হয়। কিছু দিন পরেই লুইসাও ব্রাজিলিয়ান আরেক ক্লাব ক্রুজেইরোতে যোগ দেন। কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি ক্রুজেইরোর একজন গুরত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেন। ২০০৩ সালে ক্রুজেইরো ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়ানশিপ, কোপা ডি ব্রাসিল, এবং মিনিরিয়ো চ্যাম্পিয়ানশিপ জিতে। এর পরের সিজনে লুইসাও মাত্র ১ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে যোগ দেন পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকায়। বেনফিকার হয়ে নড়বড়ে শুরু করলেও আস্তে আস্তে নিজেকে ফিরে পান লুইসাও। বেনফিকার হয়ে লুইসাও অনেক গুরত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছেন । ২০০৫ সালে বেনফিকার হয়ে প্রথম লিগ শিরোপা জিতেন লুইসাও। লিসবন ডার্বিতে স্পোটিং লিসবনের সাথে লুইসাওয়ের বিজয়ী গোলটি ছিল তার ক্যারিয়ারের সেরা টার্নিং পয়েন্ট। সবাইকে তাক লাগিয়ে ২০০৬ সালে লুইসাওয়ের অসাধারণ গোলে লিভারপুলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ান্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় বেনফিকা।

বেনফিকার হয়ে ৫ টি পর্তুগিজ লিগ, ২ টি পর্তুগিজ কাপ, ৩ টি টিকা ডি লিগা এবং ২ বার উয়েফা ইউরোপা লিগ জিতেন এই ব্রাজিলিয়ান। তাছাড়া ২০০৯ সালে কস্মো ডা ডামিও, প্লেয়ার অফ দ্যা এয়ওয়ার্ড জিতেন লুইসাও। বেনফিকার হয়ে ২৯৪ টি ম্যাচ খেলে ২৫ টি গোল করেন বেনাফিকার জীবন্ত এই কিংবাদন্তি। লুইসাও এমন একজন খেলোয়াড় যে বেনফিকা ভক্তদের ভালবাসায় এক যুগ থেকে গেছেন এই ক্লাবে। বেনাফিকার সর্মথকদের কাছে তিনি তাদের ক্লাবের প্রতীক, তিনি একজন অঘোষিত রাজা। এটা কোন পৌরাণিক কাহিনী নয় এবং এটা স্পষ্ট যে লুইসাও একজন বেনফিকা কিংবদন্তী।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

10 + five =