টিটোয়েন্টির বড় পরীক্ষার জন্যে ল্যাবপরীক্ষা শুরু হবার আগে

বাংলাদেশ আর জিম্বাবুয়ের টি২০ সিরিজের আগে বাংলাদেশের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে শুভাগত হোমের দলে ঢোকাটা আর এক বিপিএলে নজর কেড়েই আবু হায়দার রনির দলে ঢুকে যাওয়ার বিষয়টা । সামনের এশিয়া কাপ টি২০ আর ভারতে বিশ্বকাপ টি২০ এর আগে প্রস্তুতি হিসেবে আর নিজেদের জন্যে স্থায়ী একটা টি২০ কম্বিনেশন খুঁজে পাওয়ার জন্যে বাংলাদেশের জন্যে এই সিরিজ আগের জিম্বাবুয়ে সিরিজগুলোর চাইতে বেশি গুরুত্ববহন করে। আর জিম্বাবুয়ের দিক থেকে এই সিরিজ হলো আফগানিস্তানের সাথে ভরাডুবির পরে নিজেদেরকে খুঁজে পাবার সিরিজ ।

ওয়ানডের বাংলাদেশ দলটা যতোটা স্থিতিশীল , এই শর্ট ফরম্যাটের বাংলাদেশের দলটা ঠিক ততটাই পরিবর্তনশীল । কারণ বেশ কয়েকটা । প্রথম কারণ অবশ্যই আমাদের শোচনীয় শর্ট ফরম্যাটের পারফরম্যান্স । আর আরেকটা কারণ অবশ্যই আমাদের কম টিটোয়েন্টি খেলা । ২০০৬ থেকে শুরু করে আমরা যেখানে মাত্র ৪৬টা টিটোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছি, সেখানে আফগানিস্তানের মত নন টেস্ট প্লেয়িং ন্যাশন ২০১০ থেকে খেলা শুরু করে খেলে ফেলেছে ৩৮টা টিটোয়ান্টি ম্যাচ । আপনি নিয়মিত ম্যাচ খেলে তবেই না কম্বিনেশন আশা করতে পারেন ! সে হিসেবে একদম টীটোয়েন্টির জন্যে আলাদা একটা দল খুঁজে পাওয়াটা জরুরি । সবগুলো দলেই এই ফরম্যাটটার জন্যে আলাদা কিছু স্পেশ্যালিস্ট খেলোয়াড় আছে । এই স্পেশ্যালিস্টদের অন্যকোন ফরম্যাটে ভাবাই হয় না । বাংলাদেশ ঠিক সে জায়গাটার কাছাকাছি যেতে পারে নাই কখনো । টেস্ট আর ওয়ানডের লোকেদেরই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে শর্টার ভার্সনে মাঠে নামিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ ।

এই সিরিজের ঠিক আগে বিপিএলটা হয়ে যাওয়াতে সেই সমস্যাটায় বাংলাদেশ একটু কম পড়েছে । যদিও দেশী পারফর্মারদের বেশিরভাগেরই পারফ্ম্যান্স নিচের দিকে ছিলো, তবুও কিছু নতুন অপশন তো অবশ্যই এসেছে । বস্তাপঁচা উইকেটে বিপিএলে খেলা হওয়াতে আমরা ভালো রানমেকারের সন্ধান পাই নি । ইনিংসপ্রতি দলগুলোর এভারেজ ১০০ এর কাছাকাছি থাকলে স্ট্রোকমেকার খুঁজে বের করা সিলেক্টরদের জন্যে বেশ শক্ত একটা কাজ । নুরুল হাসানও ন্যাশনাল কল পাওয়ার মত খেলে ফেলে নাই । তবে তার ব্যাটের অল্পবিস্তর ইনোভেশন দেখেই ল্যাবে ঢুকিয়ে দিচ্ছে সিলেক্টরেরা । আর লোয়ার মিডল অর্ডারে নাসিরের চেয়ে ভালো কাউকে পাবার লক্ষ্যেই চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার দলের শুভাগত হোমকে নেওয়া ।

দেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া আবু হায়দার রনির ডাক পাওয়াটা সারপ্রাইজ হয়ে আসে নাই । রুবেলের চোট আর তাসকিনের ফর্ম সে রাস্তাকে আরো স্মুথ করে দিয়েছে । গেল জিম্বাবুয়ে সিরিজে সাকিব আর সৌম্যের সার্ভিসটা পায় নি বাংলাদেশ । অবস্থার বিচারে এই দুজনেরই দলের সবচেয়ে ভালো শর্ট ফরম্যাটের প্যাকেজ হবার কথা । এবার ফিরছেন দুজনই। টিটোয়ান্টি ম্যাচগুলোর বেশীরভাগেই আমাদের দলের খেলোয়াড়দের বেশ কনফিউজড লাগে । লাগে তারা বেশি চাপ নিয়ে নিচ্ছে । বাংলাদেশ আনন্দ নিয়ে খেলুক । বাংলাদেশ আনন্দ দিয়ে খেলুক । এশিয়া কাপ আর বিশ্বকাপ টিটোয়েন্টির আগে আশার রঙে রঙ লাগিয়ে দিক ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

fourteen − 1 =