টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশঃ টীম এনালাইসিস

এশিয়া কাপ ও ওয়ার্ল্ড টিটোয়েন্টির জন্যে বাংলাদেশ দলঃ তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মিঠুন আলী, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, নাসির হোসেন, মাহমুদুল্লাহ, নুরুল হাসান, সাব্বির হোসেন, আরাফাত সানি, মুস্তাফিজ, তাসকিন, আলামিন হোসেন, আবু হায়দার রনি, মাশরাফি মুর্তজা ।
১৫ জনের দলে ৫ জন একদম পুরোদস্তুর পেসার । দেখতে ভালো লাগে , বলতেও ভালো লাগে । তবে ব্যাকফায়ার করার চান্স একদম উড়িয়ে দেবো না আমি । ৫ জনের মধ্যে তাসকিন আর আবু হায়দার রনি প্রত্যাশিত মাত্রার ডিসিপ্লিনড না নিজেদের লাইন আর লেংথ নিয়ে । প্রথম ৬ ওভারের পাওয়ারপ্লেতে তো অবশ্যই প্রত্যাশিত মাত্রার না! এটা হ্যামিল্টন মাসাকদজা আর ভুসি সিবান্দা গেলো সিরিজে বেশ ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন । তবে আবু হায়দার রনি তার ইয়র্কার গুলো নিয়ে স্পেশ্যাল । রনির দুটো ভালো ইয়র্কার একদম সেরা ব্যাটসম্যান ওপাশে থাকলেও ম্যাচ আমাদের দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে উইকেট নিয়ে । এর বাইরে মুস্তাফিজ-আলামিন-মাশরাফি অটো চয়েজই ছিলেন । তবে একাদশে চার পেসার নিয়ে শেষতক বাংলাদেশ সামনের টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপে নামবে কিনা এমন প্রশ্ন একশ বার করলে ৯০ বারই “না-বোধক” উত্তর আসবে । তবে মাশরাফি প্রতিনিয়ত নতুন বাংলাদেশকে চেনাচ্ছেন । নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে প্রতিনিয়ত নতুনভাবে ভাবতে শেখাচ্ছেন মাশরাফি …
১,৫,১*,২,২৮- এগুলো দলে আবার ডাক পাওয়া মিঠুনের বিপিএলে ব্যাট করা শেষ ৫টি ইনিংসের রান । অবশ্যই ভালো ফর্মে ছিলেন না । বিপিএলে হতাশ করেছেন চরমভাবে । তবে সবাইকে চমকে দিয়ে দলে ডাক পাওয়াটা মনে হয় খুব সম্ভবত তার ক্যারিয়ারে আগে অনেক ইনিংসে হিসেবে থাকি বাকি অনেকের চাইতে শট সিলেকশনে বৈচিত্র্য দেখানোর ফসল । ৫ পেসার নেবার পরে অবশ্য এই জায়গায় আর দুটো ভালো বিকল্প ছিলেন জহুরুল ইসলাম আর ইমরুল কায়েস । দুজনই বিপিএলের পারফর্মার । বিপিএলের এই দুরূহ উইকেটেও জহুরুল ছিলেন শেষ ৫ ইনিংসের ৩টাতেই নট আউট আর দুটো ৩০ পেরোনো ইনিংস । আর কুমিল্লার হয়ে ইমরুলের উত্থান তো সবারই দেখা ! এই দুইজনকে ছাড়িয়ে মিঠুনের এসে যাবার লজিকটা খুব সম্ভবত শুধুমাত্র তার ন্যাচারাল স্ট্রোকমেকিংটাই ।
জিম্বাবুয়ে সিরিজে দলের সেরা আবিষ্কার নুরুল হাসান খুব সম্ভবত পাকাপাকিভাবেই টোয়েন্টি টীমে ঢুকে গেছেন । উইকেটের পিছে দারুন চনমনে আর ডাউন দ্যা অর্ডারে নেমে প্রথাবিরোধী শট খেলতে ভয়টা পান না । বাংলাদেশের টিটোয়েন্টি দলটা এমন একজনকে খুঁজছিলো অনেক দিন । দুটো ভালো স্কুপ এই ফরম্যাটে একটা মিলিয়ন ডলার ম্যাচ বদলে দেয় । সেই পোলার্ড বা ভিলিয়ার্স হয়তো আমরা এখনো পাই নি ! কিন্তু আপাতত নুরুলেই থাকতে হবে সন্তুষ্ট ।
সাব্বিরের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হয়ে উঠা কাজ কঠিন করে দেবে রিয়াদের জন্যে । জিম্বাবুয়ে সিরিজে লাস্ট ম্যাচটায় রান পেলেও তার আগে দলের প্রয়োজনে হতাশ করে গেছেন বারবার । বোলার নাসির সাব্বির বা রিয়াদের চেয়ে অনেক গুণে ভালো । তবে সাব্বির আর মিনি অলরাউন্ডার নেই ! আগের চেয়ে অনেক বেশি সলিড ব্যাটসম্যানের রোলপ্লে করার ক্ষমতা আর আত্মবিশ্বাস দুটো নিয়েই মাঠে নামবেন সাম্প্রতিক বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল এই টিটোয়েন্টি ব্যাটসম্যান । মিডল অর্ডারে সাকিব-মুশি-সাব্বির-নুরুলের সাথে আরেকজন কে থাকছে সে শ্লোকের জবাব এখনই সহজে মিলে যাচ্ছে না । সাইকোলোজিকাল গেইম খেলার জন্যে ম্যাশ চার পেসার নিয়ে নেমে গেলে টীম কম্বিনেশনে আরো বেশি অনিশ্চয়তা ।
সব অনিশ্চয়তা আর সব রকমের হিসাব নিকাশের কারণ কিন্তু ঐ একটাই । আমাদের টিটোয়েন্টি দলটা শেষ টিটোয়েন্টি সিরিজটাতে ম্যাচ বাই ম্যাচ প্লেয়ার রোটেট করেছে সুযোগ দেওয়ার জন্যে । আবার কম্বিনেশনকে রোটেট করা হয়েছে ভালো কম্বিনেশনেও খুঁতগুলো বের করার জন্যে । দলে পাঁচ পেসার ঢুকায় ফাইনাল একাদশ নিয়ে সারপ্রাইজ বেড়ে গেছে একটু । আর বাংলাদেশ তাদের শেষ টিটোয়েন্টি সিরিজটা স্রেফ পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্যে খেলাতে সামনের দিনগুলোতে সে সারপ্রাইজের মাত্রা বেড়ে যাবে আরো একটু ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

3 × 5 =