প্রোটিয়া রণের আগেঃ সবকিছুই মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০১১

ভাগ্যিস, হোম সিরিজগুলোয় সাম্প্রতিক ওয়ানডে রেকর্ড আশাবাদী হওয়ার মত উজ্জ্বল…
ভাগ্যিস, ২০০৭ বিশ্বকাপের গায়ানা কীর্তিটা ছিলো …
তা না হলে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে ওয়ানডে সিরিজের আগে আপনাকে আশা জোগাতে পারত না কোন কিছুই । ভারতের সাথে , পাকিস্তানের সাথে আগে যেমন অনেকবার হবে হবে বলে হয় নি , দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে কিন্তু তা নয় । আগের ১৫টা ওয়ানডে ম্যাচে হেরেছি ১৪টাই । আর হারা ১৪টা ম্যাচে ব্যবধানের মার্জিনটা রানের হিসাবে কোন হারই ৬০ রানের কমে নেই , উইকেটের মার্জিনে ৭ উইকেটের কমে নেই । দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে আগের এওয়ে সিরিজগুলোর স্ট্যাট দেখলেই আপনি বুঝে যাবেন, সেগুলো আমাদের জন্যে ভুলে যাবার মত খারাপ স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই ছিলো না । আর নিজেদের চেনা ঢাকা আর চিটাগাং এও আমরা বারবার হেরেছি ৮০/৯০ রানে ।
আর দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোয় প্রতিপক্ষ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা কতোটা নির্দয় , তা বুঝে যাবেন ক্রিকেটের একটু খোঁজ রাখলেই । পন্টিং এর অস্ট্রেলিয়ার সাম্রাজ্যে একটু আধটু হানা যাও পড়েছে , তা স্মিথের দক্ষিণ আফ্রিকার কল্যাণে । ভারতকে ২০১১ বিশ্বকাপে সাবকন্টিনেন্টে হারানো একমাত্র দলের নাম ? দক্ষিণ আফ্রিকা । টেস্টে পুরোদস্তুর পেশাদার আর ওয়ানডেতে প্রতিদিনই ইনোভেটিভ- এটাই হলো দক্ষিণ আফ্রিকা । ক্রিকেট ফিল্ডে সবচাইতে মাপা ক্রিকেট খেলে, সবচাইতে কম ভুল করে আর সবচাইতে কম জায়গা ছাড়ে । জেনারেশন থেকে জেনারেশন ওরা এভাবেই খেলে আসছে । কখনো আব্রাহাম ডি ভিলিয়ার্সেরা এসে সারা জেনারেশন ডমিনেট করে , কখনো ডেল স্টেইনরা এসে ধারাবাহিকতা আর হিংস্রতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ।

তবে এবারের সিরিজের আগে বাংলাদেশের দিক থেকে প্রত্যাশাটা ছিলো অনেক উঁচুতে । তার আগে চলুন একটু ২০১১ তে ঘুরিয়ে নিয়ে আসি । এই মীরপুর… এই বাংলাদেশ… এই দক্ষিণ আফ্রিকা …
বিশ্বকাপে যেভাবে রান উঠছিলো , তাতে দক্ষিণ আফ্রিকার করা ২৮৪ সোজা না মনে হলেও অসম্ভব মনে হয় নি । তারপরের দৃশ্য তো সবারই জানা । ৭৮ রানে অল আউটের কীর্তি কি আর এত সহজে ভোলা যায় ? সেদিনও আমাদের উপরে ছড়ি ঘোরান রবিন পিটারসন নামের এক স্পিনার… সাথে বোথা আর তাহির । তিন স্পিনার মিলে ৬ উইকেট । বল হাতেই নিতে হয় নি দুমিনিকে ।

এবার টি২০ এর স্পিনারদের মধ্যে এদী লেই ওয়ানডেতে নেই । আছেন এরন ফ্যাঙ্গিসো আর জীন পল দুমিনি । তার সাথে যোগ হবেন দক্ষিণ আফ্রিকার এ যাবত কালের সবচেয়ে ভালো স্পিনার ইমরান তাহির । দারুন উইকেট টেকার । লেগস্পিনার কত বড় মাথাব্যাথার নাম হতে পারে তা দেখিয়ে গিয়েছেন এদী লেই । ইমরান তাহির তার চাইতে অনেক বেশি অভিজ্ঞ । ইমরির গোড়াপত্তনটাও এই সাবকন্টিনেন্টে । লাহোরের লোকাল কয়েকটা দলের পাশাপাশি খেলেছেন পাকিস্তান আন্ডার নাইন্টিন দলের হয়েও । ওডিআই ক্যারিয়ারে ৩৭ ম্যাচে ৭০ উইকেট আর সাড়ে ৪ ইকোনোমি রেট । বেশিরভাগ ম্যাচই খেলেছেন উপমহাদেশের বাইরে । আর ফ্যাঙ্গিসো শুধুমাত্র হাইট কাজে লাগিয়ে বাউন্স কতোটা তারতম্য করতে পারেন তা তিনি টি২০ সিরিজেই দেখিয়েছেন ।

আর এগুলোর বাইরে আছে এই দলটার দারুন ফিল্ডিং । যখন আপনি সার্কেলের ভিতরে দারুন ফিল্ডিং এর কল্যাণে রানের জন্যে হাঁসফাঁস করবেন । তখন সবচেয়ে খারাপ বলটা মারতেও আপনার হাত কাঁপে । মুশফিক যে ফুলটসটা কাল সার্কেলে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে গেলো, আমি নিশ্চিত অন্যদিন এগুলো মিরপুরের গ্যালারিতে আঁছড়ে পড়তে পারত । কিন্তু ঐ যে তাদের টাচলাইনে একেকজন ফিল্ডার কম করে হলেও আমাদের তুলনায় দেড় জনের জায়গা কভার করতে পারে । বাউন্ডারি আসে না । চারটা ডট বলের পরে আপনি আপনার সবচেয়ে ভালো শটটা খেলে রান পান ২টি বা মাঝে মাঝে সিঙ্গেলসও । এগুলো সবমিলিয়ে ব্যাটসম্যানদের মনোজগতে একধরনের প্রভাব ফেলে । যেটা থেকে কাটিয়ে উঠা আসলে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ । সেই চ্যালঞ্জের কাছেও তো হেরে গিয়েছি গেলো দুটো ম্যাচে । তারা একটা ইউনিট হিসেবে অপনেন্টকে চাপে ফেলে একজন বোলার আর দশজন ফিল্ডার মিলে । আর আমাদের এখানে একজন বোলার ভালো করলে একের জায়গায় দুই রান এলাউ করে আমরা বোলারের ভালো কাজটাকে অগুরুত্বপূর্ণ বানিয়ে দেই । আসল ফাড়াকটা এখানে ।

পিছিয়ে আছি সবখানে …
তাই বলে আশা তো ছেড়ে দিতে পারি না ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eleven + four =