“ঐতিহাসিক টেস্ট” শুরু আগামীকাল।

আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে হায়দ্রাবাদের রাজীভ গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার একমাত্র টেস্টটি। ভারতের মাটিতে এটাই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচ।

হায়দ্রাবাদে পিচ হবে ব্যাটিংবান্ধব, লড়াইটাও তাই হবে ব্যাটসম্যানদের মধ্যেই। তাই তামিম,সাকিব,মুশফিক, রিয়াদদের উপর প্রত্যাশার চাপ থাকবে বেশি। সাথে তরুন সাব্বির, সৌম্যদের উপরও থাকবে প্রত্যাশার চাপ। শেষ মুহূর্তে কায়েসের ইঞ্জুরিতে দলে চান্স পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও মুখিয়ে থাকবেন সুযোগ পেলে দারুন কিছু করার। আর “বোলার” তকমা মুছে ব্যাট হাতে কিছু করার দরকার মিরাজের, সুযোগ পেলে নিশ্চই তিনিও হাতছাড়া করতে চাইবেননা।

লড়াইটা হবে ব্যাটসম্যানদের। দলের সেরা দুই ব্যাটসম্যানদের থেকে প্রত্যাশা থাকবে আকাশচুম্বী!

ভারতে সাধারণত স্পিনাররা সুবিধা পায়। তাই তাইজুল ইসলামের স্পেশালিস্ট স্পিনার হিসেবে দলে থাকা একরকম নিশ্চিত। পেসসার হিসেবে দলে থাকতে পারেন শফিউল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম রাব্বি, তবে তিন পেসার নিয়ে নামলে দলে দেখা যেতে পারে তাসকিন বা শুভাশীষের কোন একজনকে। 

দলের প্রধান অস্ত্র হবেন সাকিব আল হাসান, ব্যাট বল দুটিতেই। মিডল অর্ডারে তার ব্যাটিংটা যেমন প্রয়োজন হবে তেমনি তার বোলিং হবে ভাইটাল এই টেস্টে। সাথে আইপিএলে কোলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে ভারতের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতাটাও কাজে দিবে সাকিবের। 

ব্যাট হাতে সাম্প্রতিক অফফর্ম কিছুটা ভোগাচ্ছে মাহমুদউল্লাহকে। সেক্ষেত্রে চার নাম্বারে নামতে পারেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। রিয়াদ যেতে পারেন ৬ নাম্বারে। মুশি কিপিং না করলে উইকেটের পেছনে দেখা যেতে পারে লিটন কুমার দাসকে। ব্যাট হাতে প্রমানের সুযোগ থাকবে তার জন্যও। জাতীয় লিগে নিয়মিত ভাল পারফর্ম করেও দলে এসে তার কিছুই এখনো দেখাতে পারেননি লিটন, সুযোগ তাই ভাল কিছু করার এবার।  কায়েসের অনুপস্থিতিতে তামিমের সাথে ওপেনিং করবেন সৌম্য, বেশ কিছুদিন রানখরা কাটিয়ে সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড সিরিজে রানের দেখা পেয়েছেন সৌম্য।

এই টেস্টে লাইমলাইট থাকবে আরো একজনের ওপর, মেহেদি হাসান মিরাজ! কদিন আগেই অ-১৯ গন্ডি পেরোনো এই অলরাউন্ডার জাতীয় দলে এসেই ব্যাট হাতে রান করতে ভুলে গেছেন যেন। বল হাতে তো অবশ্যই, এই টেস্টে মিরাজের দরকার সুযোগ পেলে ব্যাট হাতেও নিজের সাফল্যের ছাপ রাখার। এ নিয়ে মিরাজ নিজেও আশাবাদী।

“বোলার” মিরাজের ওপর প্রত্যাশা থাকবে ব্যাট হাতেও নিজের সেরাটা দেয়ার।

 

বল হাতে মূল কাজটা যদিও স্পিনারদের করতে হবে, তাও পেসারদের দরকার হবে নিয়মিত ভালজায়গায় বোলিং করে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখা, তাতে সহজ হবে উইকেট পাওয়া। ভারত ব্যাটিং লাইনাপের মূল স্তম্ভ অবশ্যই ভিরাট কোহলি, তার উইকেট খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে ভিরাট কোহলি ছাড়াও ভারত দলে আছেন আজিংক্যা রাহানে, চেতশ্বর পুজারা, মুরালি বিজয়ের মত ব্যাটসম্যান। উইকেটে সেট হয়ে গেলে যে কেউই হতে পারেন বিপজ্জনক। তাই নজর রাখতে হবে পুরো ব্যাটিং ইউনিটের ওপরই। মূল কাজটা তাই হবে সাকিব-মিরাজ-তাইজুলদের। ব্যাটিং বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিঙয়ে পাওয়া সুযোগগুলো অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে। চাপে রাখতে হবে ভারতীয়দের।

এদিকে টাইগারদের সমীহ করছেন ভারত কোচ অনিল কুম্বলেও। মঙ্গলবার এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন , ‘আমরা প্রত্যেক দলকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করি। তারা প্রায় প্রতিটা জায়গায় অনেক উন্নতি করছে। তারা নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ভালো লড়াই করেছে যদিও ফলাফল তাদের পক্ষে ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশ তাই করতে যাচ্ছে যা তারা বিগত কয়েক বছর ধরে করে আসতেছে। আমরা তাদেরকে সম্মান করি।’

ঘরের মাঠে প্রায় অপ্রতিরোধ্য ভারত। টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষেও তাই তারা নিজেদের রেকর্ড আরো বড় করার চেষ্টা করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে একটি হার তাদেরকে র‍্যাংকিংয়ের প্রথম থেকে সরিয়ে দিতে পারে এটাও বেশ ভালোভাবে জানেন কুম্বলেরা।

আগামীকালের টাইগার একাদশ হতে পারে এমন-

১) তামিম ইকবাল

২) সৌম্য সরকার

৩) মমিনুল ইসলাম

৪) মুশফিকুর রহিম

৫) সাকিব আল হাসান

৬) মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ

৭) সাব্বির রহমান

৮) মেহেদি হাসান মিরাজ

৯) তাইজুল ইসলাম

১০) কামরুল ইসলাম রাব্বি

১১) শফিউল ইসলাম

১৩ তারিখ ম্যাচ শেষে এমন আরেকটি দৃশ্য দেখার আশায় ক্রিকেটভক্তরা

হায়দ্রাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে  প্রকাশ করা হবে বিশেষ ক্রোড়পত্র। আগে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাটি তাদের ভেন্যুতে কোনো ম্যাচ পেলে সেই উপলক্ষে স্মরণিকা প্রকাশ করত। মাঝে সেটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট উপলক্ষে আবারও নতুন করে স্মরণিকা প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে তারা।

হায়দ্রাবাদের রাজীভ গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। কাল থেকে শুরু হতে যাওয়া টেস্টটি হবে এখানেই।

অনেক জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে ভারতের সাথে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই ম্যাচটি। স্বাভাবিকভাবেই সকল ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ থাকবে এই ম্যাচে। ইতিমধ্যে ম্যাচটি ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। মানুষের উপচে পড়া ভিড়কে সামলানোর জন্য কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিচ্ছে হায়দারাবাদের রাচাকোন্দা পুলিশ। হায়দারাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া টেস্টকে ঘিরে নিরাপত্তার চাঁদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো হায়দারাবাদকে। রাচাকোন্দার পুলিশ কমিশনার মহেশ ভগত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন জায়গার প্রায় ১২০৪ জন কর্মী স্টেডিয়ামের আশেপাশে নিয়োজিত থাকবেন সকলের নিরাপত্তার কাজে। পাশাপাশি থাকছে স্পেশাল নিরাপত্তা সার্ভিস অক্টোপাস এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও।’

উল্লেখ্য ভারতের সাথে এখন পর্যন্ত খেলা ৮ টি টেস্টের ৬টিই হেরেছে টাইগাররা, তার মধ্যে ৩টি আবার ইনিংস পরাজয়ে। ড্র করতে পেরেছে দু’টি টেস্ট।

মাঠের বাইরের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, অপেক্ষা এখন ৯ তারিখ সকাল ১০টার।

অনেক জল্পনা কল্পনার সিরিজ, অপ্রতিরোধ্য ভারতকে কি আটকাতে পারবে টাইগাররা? কাগজে কলমে “ঐতিহাসিক” সিরিজটা কি মাঠেও “ঐতিহাসিক” হয়ে থাকবে? অপেক্ষা ১৩ তারিখের। শুভকামনা টাইগারদের জন্য।

 

দৌড়া বাঘ আইলো

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

fifteen + 10 =