বায়ার্ন স্কোয়াডের নতুন জার্মান সংযোজন : সার্জ ন্যাবরি

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ভক্তরা তাঁকে হয়তোবা মনে রেখেছেন। বিশেষ করে আর্সেনাল সমর্থকেরা। দুর্দান্ত গতিসমৃদ্ধ এই জার্মান উইঙ্গার আর্সেনাল অ্যাকাডেমিতে খেলেছেন হেক্টর বেয়েরিনদের মত তরুণদের সাথে। কপাল খারাপ, শেষ পর্যন্ত ওয়েঙ্গারের স্কোয়াডে জায়গা হয়নি, এক বছর ধারে ওয়েস্টব্রমে খেলার পরে পাকাপাকিভাবে গত মৌসুমেই যোগ দিয়েছিলেন জার্মান ক্লাব ওয়ের্ডার ব্রেমেনে। গত অলিম্পিক ফুটবলের সেরা খেলোয়াড় সার্জ ন্যাবরিকে রেখে দেওয়ার জন্য আর্সেনাল অনেক সমর্থকই ওয়েঙ্গারের কাছে অনুনয় বিনয় করেছিলেন, কিন্তু অ্যালেক্স ইওবি, অ্যালেক্সিস স্যানচেজ, থিও ওয়ালকট, অক্সলেড চেম্বারলাইনদের ভিড়ে ন্যাব্রিকে আর্সেন ওয়েঙ্গারের কাছে বাড়তি বলেই মনে হয়েছিল। সেই সার্জ ন্যাব্রি আজকে যোগ দিয়েছেন জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখে! গত মৌসুমে ব্রেমেনের হয়ে ১১ গোল করা এই উইঙ্গার বায়ার্নে যোগ দিয়েছেন তিন বছরের চুক্তিতে।

ন্যাব্রি আগে ছিলেন আর্সেনালে

কার্লো অ্যানচেলত্তি বায়ার্নের কোচ হবার পর থেকেই ধীরে ধীরে বায়ার্নের মধ্যে তরুণ প্রতিভাবান জার্মানদের নিয়ে আসছেন, তাদের গড়ে তুলছেন ভবিষ্যতের জন্য। কিছুদিন আগেই নিকলাস সুলে, সেবাস্তিয়েন রুডিদের আনার পর সার্জ ন্যাব্রিকে আনাও সেই কথারই প্রমাণ। দলে বুড়ো খেলোয়াড়দের আস্তে আস্তে সরিয়ে দিচ্ছেন তিনি। অ্যানচেলত্তি বুঝতে পেরেছেন, দলে রোবেন, রিবেরি, রাফিনহা – এদের সময় ধীরে ধীরে কমে আসছে। সেই লক্ষ্যেই মূলত ন্যাব্রিকে আনা।

সাধারণত বাম উইঙ্গার হিসেবে খেলা সার্জ ন্যাব্রি ক্রস করার থেকে বাম দিক থেকে কাট-ইন করে ডান পায়ের জোর দিয়ে গোলমুখে শট করতেই বেশী আগ্রহী। মূলত লেফট উইঙ্গার হলেও রাইট উইং বা স্ট্রাইকারের পেছনে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবেও খেলতে সক্ষম তিনি। তরুণ এই জার্মান উইঙ্গারের পজিশনাল সেন্স অর্থাৎ ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় থাকতে পারার প্রবণতাটাও আছে বেশ। প্রতিপক্ষ ডিফেন্সের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে সেগুলোর মধ্যে দৌড়ে জায়গা খুঁজে বের করতেও পারদর্শী তিনি। ওয়ের্ডার ব্রেমেনের হয়ে স্ট্রাইকার বা “ফলস নাইন” হিসেবেও খেলানো হয়েছে তাঁকে। কাউন্টার অ্যাটাকিং স্টাইলের জন্য আদর্শ উইঙ্গার ন্যাব্রি অনেক দিয়েই ম্যানচেস্টার সিটির ইংলিশ উইঙ্গার রাহিম স্টার্লিং এর মত খেলে থাকেন। বাচ্চা বয়সে স্প্রিন্টার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা ন্যাব্রির সবচাইতে বড় শক্তি হল তাঁর গতিশীলতা। সাধারণত বল পায়ে একটু বেশীই কারিকুরি দেখাতে পছন্দ করেন, অল্প জায়গাতেই দুর্দান্ত ড্রিবলিং করার সামর্থ্য রাখেন। উইঙ্গার হিসেবে তাঁর ফিনিশিং করার ক্ষমতা অনেক প্রশংসার যোগ্য, অলিম্পিকে ৬ ম্যাচে ৬ গোলই তাঁর প্রমাণ। সামর্থ্য আছে ফ্রি-কিক নেওয়ারও।

গত মৌসুমে মাতিয়ে গেছেন ব্রেমেন

ন্যাব্রির কোন দুর্বলতা থেকে থাকলে সেটা হল তাঁর “ফল-ব্যাক” বা বিপজ্জনক সময়ে দৌড়ে পেছনে এসে ডিফেন্স করার অক্ষমতা। কম বয়সী ও অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ হবার ফলে দলের জন্য খেলার প্রবণতাটা তাঁর একটু কম। সহজ পাস না দিয়ে প্রায় সময়ই খামোকা ডিফেন্ডারদের ড্রিবল করতে গিয়ে ধরা খান তিনি। এসব সমস্যাগুলো কার্লো অ্যানচেলত্তির মত বিশ্বজয়ী কোচের অধীনে ঠিক হয়ে যাবে, সেটাই প্রত্যাশা!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twenty + 11 =