থ্যাঙ্ক গড, দ্য বাস্টার্ড হ্যাজ গন!

::: আদনান আল রাহীন :::

শিরোনাম দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই. তবে কথাটা কাকে উদ্দেশ্য করে কে বলেছেন তা জানতে পারলে চক্ষু চড়কগাছ হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা। স্বয়ং স্যার আলেক্সের করা এই কথাটি ছিল ইতালিয়ান এক গ্রেটের প্রতি। সেটিও আবার মার্সেলো লিপ্পিকে!

হ্যাঁ, অবাক হওয়ার মতোই কথা. তবে কথাটি বিদ্রুপ বা ব্যঙ্গ থেকে নয়, সারাজীবনই স্যার অ্যালেক্স শ্রদ্ধা করে এসেছেন লিপ্পিকে, এমনকি এই ইতালিয়ান গ্রেটের অনুকরণ করতেও দ্বিধা করেন নি. একটু পুরান ধাঁচের ফুটবল ফ্যানদের কাছে অসীম শ্রদ্ধার প্রতীক তিনি, সাদা চুল, মুখে সিগারেট, শান্ত চেহারা, চোখে ধূর্ততা। কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো ডাগআউট এ নিশ্চল বসে অস্থির করে দিয়েছিলেন প্রতিপক্ষের কোচকে। যার কারণে চরম বৃষ্টির মাঝেও স্যার আলেক্স ভিজছেন অন্নদিকে নিশ্চলভাবে বসে ম্যাচের হিসাবনিকাশ করছেন লিপ্পি। হাতেগোনা যে কয়েকজন কোচ আছেন যারা বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিতেছেন তাদের মাঝে অন্যতম লিপ্পি।

কিছুটা পিছনে যাওয়া যাক, ম্যারাডোনা পরবর্তী ধুঁকতে থাকা নাপোলিকে কিছুটা হলেও ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। চরম আর্থিক দীনতার পাশাপাশি ম্যারাডোনার চলে যাওয়া তখনো মেনে নিতে পারেনি নেপলসবাসী। বেশিদিন নয়, মাত্র এক মৌসুম ছিলেন নেপলসে। তাতেও জয় এস্তাদিও দিয়েগো ম্যারাডোনা (সাও পাওলো স্টেডিয়ামের প্রস্তাবিত নাম, ম্যারাডোনা মারা যাওয়ার পর ৮ বছর পর স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন হবে এবং সেটির নাম হবে এস্তাদিও দিয়েগো ম্যারাডোনা). নাপোলিকে নিয়ে আসলেন ইউরোপে। নাপোলিকে সদ্য ইউরোপে ফিরিয়ে এনেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে যোগ দিলেন ইউভেন্তুসে। সময়টি ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমের শুরুতে। অনেক সময় ধরে স্কুদেত্তো নেই তুরিনের ওল্ড লেডিদের। প্লাতিনির পর উল্লেখযোগ্য কোনো অবদানও নেই ইউভদের। তুরিনের এসেই বাজিমাত, জিতলেন স্কুদেত্তো। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিতালেন ইউভেন্তুসকে. ঠিক পরের মৌসুমেই রানার্সআপ হলেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে. এক মৌসুম পর রিয়ালের কাছে আবারো হারলেন চ্যাম্পিয়ন্স লীগ. এছাড়াও একাধারে জিতে নিলেন কোপ্পা ইতালিয়া ও ইতালিয়ান সুপার কাপ. মাঝের সময়টা ইন্টারে কাটিয়ে আবারো ফিরলেন ইউভেন্তুসে। নেই বিশ্বকাপ জয়ী জিদান। রেকর্ড ট্রান্সফারে ইতোমধ্যে রিয়ালে যোগ দিয়েছেন এই ফরাসি তারকা। আবারো দল সাজানোতে মনোযোগ দিলেন লিপ্পি। নিয়ে আসলেন নেদভেদ , বুফন ও থুরামকে. এছাড়াও ডেল পিয়েরো, ত্রেজেগে, এডগার ডেভিডস, কন্তেকে নিয়ে সাজানো দল আবারো চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ের স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে থেকে ফিরে আসতে হলো ২০০৩ সালে ম্যানচেস্টার ফাইনাল পেনাল্টিতে হারলেন মালদিনির মিলানের কাছে। ২০০৪ সালে ইউরোতে খুবই হতাশার পারফর্মেন্সের পর ইতালি থেকে অফার পান।

বিগ ম্যান, বিগ অপরচুনিটি, বিগ প্রস্পেক্ট। ইতিহাসে অমর হয়ে থাকার সেরা সুযোগ ছাড়তে কোনোভাবেই রাজি ছিলেন না সিনিওরি লিপ্পি। হতাশাগ্রস্থ ইতালিয়ান জাতীয় দল কে সাজালেন অসম্ভব সুন্দরভাবে। জিতলেন ২০০৬ বিশ্বকাপ। ইতালি হজম করলো মাত্র একটি গোল. সেটিও ফাইনালে, জিদানের পেনাল্টি থেকে, এতো গেল সাফল্যগাধা। এবার আসি খেলার ধরণ নিয়ে।

ইতালিয়ান। স্বাভাবিকভাবেই ডিফেন্সকে প্রাধান্য দিয়ে খেললেও সবসময়ই যে ডিফেন্সিভ খেলতেন, কেউ কখনোই বলতে পারবে না. অসম্ভব ট্যাকটিকল জিনিয়াস দল সাজাতেন প্রতিপক্ষ বুঝে, ধীরে ধীরে আক্রমণ সাজানো এবং ম্যাচ বের করে নিয়ে আসার ধুরন্ধর ভাবনা সর্বদা খেলে যেত লিপ্পির মাথায়। “আমার মনে পড়ে তুরিনে -signori লিপ্পি বেঞ্চে বসে সিগারেট টানছিলেন, শান্ত-স্থির। অন্যদিকে আমি প্রচন্ড বৃষ্টিতে ভিজছিলাম। শুধুই তার মতো কোচের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার জন্য।” স্যার আলেক্স, লিপ্পিকে নিয়ে।

উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত করার এক অদ্বুত ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছিলেন তিনি। ২০১০ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে বাদ পড়া তার ক্যারিয়ারের কালো অধ্যায় হয়ে থাকলেও তার অর্জনকে কেউ কখনোই ছোট করতে পারবেনা। “lippis Juventus was an example for my Manchester united” এই একটি কোথায় যথেষ্ট লিপ্পির মহত্ব বুঝানোর জন্য। লং লিভ লিপ্পি!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

ten + twelve =