মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে বরিশাল বুলস

দলটা বানানোর শুরু থেকেই বাকি দলগুলোর চেয়ে বরিশাল বুলস আর তাদের ম্যানেজমেন্ট চমক কম দেবার চেষ্টা করেছে । আর একদম নিখাদ ক্রিকেট সেন্স থেকে একটা দল বানানোর চেষ্টা করেছে যেটা আসলেই টিটোয়েন্টির দল হবে । সবগুলো ডিপার্টমেন্ট নিয়ে তাদের নিজস্ব প্ল্যান ছিলো আর আলাদা চয়েজ ছিলো । একদম আইকন খেলোয়াড় বাছা থেকে শুরু করে ড্রাফটের প্লেয়ার কেনা পর্যন্ত সব জায়গায় একটু আলাদা করে চিন্তা করেছে বরিশাল বুলস । সাকিব-তামিম-মুশি-ম্যাশ-রিয়াদ-নাসির এই ৬ জন আইকনের মধ্যে আস্তে খেলার বদনামটা কেবল মাহমুদুল্লাহর সাথেই কিছু বিস্তর ছিলো । কিন্তু আইকন খেলোয়াড় বাছার সময়ে মুশফিক আর ফিনিশার নাসিরকে পেয়েও সুন্দরভাবে প্ল্যানে অটল থেকে ঠান্ডা মাথার স্লো রিয়াদকে নিয়েছে । কারণ তাদের একজন লিডার দরকার ছিলো আর সাথে সাথে স্লো উইকেটের একজন এংকর টাইপের ব্যাটসম্যান ।

বোলিং এটাকটা বানাবার সময় কেভন কুপার একদম এক্সক্লুসিভ টিটোয়েন্টির চয়েজ । টিটোয়েন্টির বোলার আলাদা । তাদের বোলিং নিয়ে ফিলোসোফিটা আলাদা । স্টেইন বা মরকেলকে আমি কখনোই ভালো টীটোয়েন্টি চয়েজ বলি না । কেভন কুপারের এক্সপেরিয়েন্স আর ইম্প্রোভাইজেশন অনেক উপরের লেভেলের । যেকোন উইকেটে স্লগে রান চেক দিয়ে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন । সাথে দেশি হিসেবে আলামিন সেরা চয়েজ । আর আশ্চর্যভাবে ম্যানেজমেন্ট সামিরও খবর রেখেছে। এই মোহাম্মদ সামি বদলে যাওয়া সামি । আগের মত স্পিডগান না । তবে অনেক বেশি এক্যুরেট । আর দিনকে দিন উইকেট স্লো হয়ে যাওয়াতে তাইজুলের জুয়াটাও বেশ ভালোভাবে কাজে দিয়েছে দলটার জন্যে । তবে একদম ফ্ল্যাট উইকেট হলে আসলে মিডল ওভারগুলোতে স্পিনারের জন্যে বেশ অসুবিধাতে পড়তে হত দলটাকে । ব্রেকথ্রুর জন্যে মাহমুদুল্লাহর চাইতে এখানকার উইকেট আর কে ভালো চিনে ?

Screenshot007

তবে সব প্ল্যান যে কাজ করেছে তা কিন্তু না । সাব্বিরকে নিয়ে বরিশালের ভরসার জায়গাটা বড় ছিলো । সাব্বির মারকাটারির চাইতে অনেক বেশি সলিড ব্যাটসম্যান যে কিনা বল দেখেশুনে খেলে আর যার হাতে জোর আছে এবং বলটা মারলে দূরে যায় । সাব্বির আর রিয়াদ মিলে দলকে স্লো উইকেটে মাঝের ওভারগুলোতে অনেক ডেপথ দেবার কথা ছিলো । কিন্তু সাব্বির প্ল্যানের অনেক বড় অংশতে থেকে যাওয়াতে দলটার ব্যাটিংটা ঢাকা পর্বে একদমই মনের মত হয় নি । কখনো অল্প রানে তিন উইকেট পড়ে গেছে, আবার কখনো চার উইকেট । এর বাইরে ব্রেন্ডন টেইলরকেও বরিশাল নিয়েছিলো অনেক ভরসা করে । বাংলাদেশ তো টেলরের ম্যাচ খেলার দিক দিয়ে সেকেন্ড হোমই বলা যায় । সব মিলিয়ে টেলর-সাব্বির রহমান-রনি তালুকদারের উপরে টপ অর্ডারের নির্ভরশীলতা আর সময়মতো এদের ক্লিক করতে না পারাটা বরিশালকে বেশ বড় মাপে ভুগিয়েছে টুর্নামেন্টের প্রথম দিকে ।

কিন্তু ক্যারিবীয়ান থেকে উড়িয়ে আনা এভিন লুইসের বুনো শতক আজ ভুলিয়ে দিয়েছে বরিশালের সেই দুশ্চিন্তাও । সাথে আছে ক্রিস গেইলের জন্যে দিন গুণতে থাকা …
চট্টগ্রাম পর্বের শুরুটা কি এর চাইতে ভালো হতে পারত বরিশালের ?

Screenshot006

আর ব্যাটিং এর ফিনিশিংটা স্টাইলে করার জন্যে একদম লোয়ার মিডল অর্ডারে সেকুগে প্রসন্ন আর কেভন কুপার বরিশালের লাইন আপকে আরো সমৃদ্ধ করেছে । ড্রাফটের প্লেয়ার লিস্টে সেকুগে প্রসন্ন ছিলেন সি গ্রেডে । সেখান থেকে এই অলরাউন্ডারকে তুলে এনে ড্রাফটের প্রথম দিকে কল করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলো বরিশাল । তবে দিন পেরোতেই চয়েজের যথার্থতা প্রমাণ হচ্ছে আর সেকুগে পারফর্ম করছে । শ্রীলংকা-পাকিস্তান একটা টিটোয়েন্টি দেখেই বুঝেছিলাম ব্যাটসম্যান হিসেবে ততোটা সলিড না হলেও বেশ ভালো পিঞ্চ হিটিং করতে পারেন । সাথে আছে লেগস্পিন । পারফেক্ট টিটোয়েন্টি প্যাকেজ !

“এখনো ক্রিস গেইল আসেন নি…”

দলের সেরা অস্ত্রটি ছাড়াই দলটি ৫ ম্যাচে ৪ জয় নিয়ে টেবিলে সবার উপরে । টিম বিল্ডিং, রিয়াদের ক্যাপ্টেন্সি আর টীমস্পিরিট- সব মিলিয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েই যাচ্ছে বরিশাল ।
আর সাথে ক্রিস গেইল আসলে আমাদের জন্যে মুগ্ধতার সাথে প্রতিপক্ষের জন্যে থাকবে ভয় নামক জিনিসটাও ।

একটা ৪০ বলের গেইলের ক্লিক করা ইনিংস এন্ড ইউ আর আউট অফ দ্যা গেইম ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twenty + 4 =