খুব ভালো একটা সুযোগ হাতছাড়া হলো আজকে

৭৬, ৭৩, ৩৭, ১১২, ১১, ৪৬, ১৬, ৫৯, ৪৪…নিজের সবশেষ ৯ ওয়ানডে ইনিংসে ইমরুল কায়েসের রান। তো এই ব্যাটসম্যানের জায়গা হয় না যে একাদশে, সেই ব্যাটিং লাইন আপের কাছে আরেকটু ভালো পারফরম্যান্স আশা করি…

খুব ভালো একটা সুযোগ হাতছাড়া হলো আজকে। সেটা খর্বশক্তির নিউ জিল্যান্ড বলে নয়, উইকেটের কারণে। ম্যালাহাইডে যেরকম সবুজ গালিচা ছিল উইকেট, তার পর ক্লনটার্ফে এরকম উইকেট পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। ভিন দেশে অনেকটাই নিজেদের উইকেট পেয়েছিলাম আজ। বাউন্স ওসব দেশে থাকবেই। কিন্তু শুরু থেকেই বেশ মন্থর ছিল উইকেট। বল এসেছে একটু থেমে।

তিনশ না হোক, অন্তত ২৭০-২৮০ করা ফরজ ছিল। শুরুতে তামিমের ব্যাটিং নিয়ে দেখলাম অনেকের প্রশ্ন। কিন্তু আরেক পাশে সৌম্য রান করছিল। তামিমের এরকম সলিড ব্যাটিংই দরকার ছিল। শুরুটা আমার মতে দারণ ছিল। ভিত গড়ার কঠিন কাজ হয়ে গেল।। এরপর প্রাসাদ তোলার কাজ তুলনামূলক সহজ। সেটিই হলো না। সৌম্য-তামিম-মুশফিকের অন্তত একজনের উচিত ছিল ক্যারি করা।

পরে যা অবস্থা ছিল, তাতে রান আরও কমও হতে পারত। এরকম দিনে আরও একবার নিজেদের ভাগ্যবান ভাবতে পারি, যে আমাদের একজন মাহমুদউল্লাহ আছেন। একজন মোসাদ্দেক উঠে আসছেন। উদ্ধার করেছেন। ফিনিশিংটা আরেকটু ভালো হলে হয়ত আর ১৫-২০ রান পেতাম।

রান ২০-২৫ কম ছিল, তার পরও আমার বিশ্বাস ছিল আজকে জিতব। কারণ ওই উইকেট। সাকিব আর মিরাজ আছে। বল হোল্ড করছে, মানে মুস্তার আদর্শ উইকেট। মাশরাফি তো আছেই। এজন্যই বিশ্বাস ছিল জিতব। অনেক অনেকবার প্রথম ওভারেই উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি। আজ তার বাজে দিন ছিল, যেটি খুবই বিরল। খেলাটা ক্রিকেট, বাজে দিন আসবেই। মাশরাফির বাজে দিন এত বিরল, সেটাই সবচেয়ে বিরল ব্যাপার। এরকম ড্রাই উইকেটে সাকিব ও মিরাজের বোলিংও ছিল হতাশার। আশার শেষও এই তিনের বোলিংয়েই।

এই উইকেটে মুস্তার ভালো করার কথা, করেছে। রুবেলের বোলিং দেখাটা ছিল দারুণ। প্রিয় প্রতিপক্ষ বের করে এনেছে সেই পুরোনো আগ্রাসী রুবেলকে। এটা ধরে রাখতে পারলে দলের জন্য অসাধারণ হয়…

একটা ম্যাচ হেরে যথারীতি “সব গেল, সব গেল” রব এর মধ্যেই দেখতে শুরু করেছি। কতজনে লজ্জা পাচ্ছেন, বিব্রত হচ্ছেন। ক্রিকেট খেলায় এত সহজেই লজ্জা পেলে সমস্যা! দল হেরেছে। সব শেষ হয়ে যায়নি! খেলা আরও আছে। সুযোগ আরও আছে।

টিভিতে বাংলাদেশের ড্রেসিং রুম যতবার দেখিয়েছে, দেখেছেন ভালো করে? সবার হাত-পা, কান-মাথা ঢাকা। সব জবুথবু হয়ে বসে। এই ঠাণ্ডা, এই বাতাসে খেলা আমাদের জন্য সহজ নয়। হ্যাঁ, দিন দশেক হয়েছে দল আয়ারল্যান্ডে আছে। তার পরও ওই এলিয়েন কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়। শরীর সাড়া দেয় না। মাথা কাজ করে না। আজ ছেলেদের শরীরী ভাষায়ও সেটা খানিকটা বোঝা গেছে। কন্ডিশন ব্যাপারটা এত ফেলনা হলে নিউ জিল্যান্ড মূল দল নিয়েই আমাদের এখানে এসে দুবার হোয়াইটওয়াশ হয়ে যেত না। কন্ডিশন বড় ফ্যাক্টর…

যেটা বলছিলাম, জয়ের আশা ছিল। তবে এক হারেই দুনিয়া শেষ হয়নি। আরেকটু ভালো ব্যাটিং, আরেকটু ভালো বোলিং হলে আমরা জিততাম। একটুরই তো ব্যাপার? সেটাও হয়ে যাবে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

seventeen − seven =