ঘুরে দাঁড়ালো নতুন বাংলাদেশ

বেশ কিছুদিন ধরেই নতুনের আবাহন শোনা যাচ্ছে লাল সবুজের ক্রিকেট দলে। একজন ওয়াহ যেমন তরুণ অস্ট্রেলীয় দলকে বিশ্বসেরা হবার স্বাদ দিয়েছিলেন, তেমনি আমাদের সেনাপতি মাশরাফি তার বাহিনীর মধ্যে এই বিশ্বাস সঞ্চারিত করেছেন যে, হারার আগে হারবো না, আমরা কাউকে ভয় পাব না, হারি বা জিতি, শেষ বল পর্যন্ত সবটুকু দিয়ে লড়াই করবো। এক কথায়,
‘চির উন্নত মম শির,
শির নেহারি আমারি নত শির ঐ শিখর হিমাদ্রির’
খেলাটা যখন টেস্ট, সেটা আসলেই ক্রিকেটারের সবথেকে কঠিন পরীক্ষা। পরীক্ষা ফিটনেসের, পরীক্ষা ধৈর্যের। এবং অধিনায়কের পরিবর্তনের সাথে আবার সেই হাল ছেড়ে দেওয়া মানসিকতা ফিরে আসে কিনা- সেই ভয় ছিল মনের কোণে। সে ভয় সত্য হতেও শুরু করেছিলো আমাদের বোলারদের ছন্নছাড়া বোলিঙে হাফিজ আজহারের প্রলয়ে। তবে আমাদের বাঘেরা প্রমাণ করেছে, এটা আসলেই নতুন বাংলাদেশ। প্রায় ৩০০ রানের বোঝা মাথায় নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়েছিলেন তামিম আর ইমরুল। এই পরিস্থিতিতে দলকে তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়তেই দেখেছে আমাদের ক্রিকেটভক্তরা, কিন্তু দিন শেষের স্কোরকার্ড দেখলে কিছুটা বোঝা যায় দলের পরিবর্তন। সেই তামিম আর ইমরুলই আছেন, তবে তাদের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে দুর্দান্ত দুটি শতক! সব দলের বিপক্ষেই সেরা ওপেনিং এর রেকর্ড করেছেন তারা। বড় ধরনের অলৌকিক কিছু না ঘটলে এই টেস্টে ড্র ই একমাত্র ফল, তবে গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলায় এরকম কিছু বলে ফেলাটা ঝুঁকির।
রান তো ব্যাটের কানায় লেগেও আসতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কিভাবে রান এলো। এই পরীক্ষায়ও ফুল মার্কস পাবেন আমাদের ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ইনিংসের মতো খোলসে ঢুকে ঢিমেতালে ব্যাটিং নয়, আজ খেলেছে,
‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য,
উচ্চ সেথা শির’
এই স্টাইলে। এই ধরণে খেলে পুরোপুরি সফল আমাদের ওপেনাররা। কখনও বোলারকে চাপ তৈরি করতে দেননি, বরঞ্চ বলকে হাওয়ায় ভাসিয়ে সীমানা পার করার দিকেও তাদের মনোযোগ ছিল। দুর্দান্ত সব কভার ড্রাইভ, সোজা ড্রাইভে চোখ জুড়িয়েছে বিশেষজ্ঞের, তেমনি নাচতে নাচতে এসে ছক্কা মেরে ভেঙ্গে দিয়েছেন বোলারের মনোবল। জুলফিকার বাবর, ইয়াসির শাহ্‌, ওয়াহাব রিয়াজ- কেউ কল্কে পাননি। শুধু ছক্কা চারে টেস্ট খেলা যায়না- এবি ডি ভিলিয়ার্স এর মতো মারকুটে ব্যাটসম্যান এখানে ২২০ বলে ৩৩ রান করেন। আমাদের ব্যাটসম্যানরা আজ ভালো বল মারার চেষ্টা করেননি, মেরেছেন বাজে বলে। পাকিস্তানিরা শেষ বিকালে অদ্ভুত সব আবেদন করে হাসির খোরাক হয়েছেন।
এই তো চাই বাঘের দল! হার কিংবা জিত তো সর্বশেষ কথা, তার আগে সবটুকু দিয়ে লড়াই করুন। এই টেস্টে ড্র জয়ের সমান। আর অধিনায়ক মুশফিক কাল খেলা শেষে বোলারদের উপর যে ঝাল ঝেড়েছেন সেটা ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সঠিক পদক্ষেপ। তার ফলেই মনেহয় আজ প্রথম ৯ ওভারে প্রতিপক্ষের লেজ ছেঁটে ফেলা গেল। তাইজুলের ঘূর্ণিতে নাকাল হলেন পাকি ব্যাটসম্যানরা। মোহাম্মদ শহীদ পেলেন প্রথম টেস্ট উইকেট, সাকিব আল হাসান উইকেট খরা কাটালেন।
এগিয়ে যাও বাংলাদেশ!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

15 + 9 =