পাতে দারুন এক টেস্ট ম্যাচ

১) বাংলাদেশের রান তখন ২০৬/৪ আর মুশফিকের একাউন্টে ৪৫। ওকসের বলটা মুশফিকের প্যাডে লাগার পরে জোরালো আবেদনের পরেও আউট দিলেন না ধর্মসেনা। সাথে সাথে রিভিও নিলো ইংল্যান্ড। তবে হক-আই দেখে বোঝা গেলো যতোটা না নিজেদের বোলারের প্রতি আত্মবিশ্বাস থেকে রিভিওটা নেওয়া হলো, তার চেয়ে বেশি নেওয়া হলো আম্পায়ার ডুয়োর প্রতি অবিশ্বাস থেকে। রিভিও নিলেই সাকসেসফুল। গতকালের মঈন আলীর পরে আজ এ সাফল্যের ধারা বজায় থেকেছে কখনো তাইজুলের বলে, আবার কখনো স্টুয়ার্ট ব্রডের ব্যাটিং এর সময়। তবে আজকের দিনে ডি আর এস এর সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিলো বাংলাদেশই। ৭৮ রানে ফেরা তামিমকে অনেক আগেই ব্যাটে না লাগার পরেও স্লিপে রুটের ক্যাচ বানিয়ে দিয়েছিলেন ধর্মসেনাই। রিভিও তামিমকে বাঁচায়, আর সাথে তার ৭৮ রানের ইনিংসটা বাঁচায় বাংলাদেশকে। তবে মুশির বিপক্ষে লেগ বিফোরের রিভিওতে ইংল্যান্ডের পক্ষে কিছু আসে নি। মহামূল্যবান রিভিও নষ্ট হয়েছে, মুশফিক আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন।

২) ২৯৩ রানে ইংল্যান্ড অলআউট হয়ে যাবার পরে একটা জিনিস খুব পরিষ্কার হয়ে যায়। এখানে প্রচুর স্পিন ধরছে এবং যে কোন স্পিনার এখান থেকে দারুন লেইট টার্ন পাচ্ছেন। উল্লেখ্য বাংলাদেশের তোলা ১০টা উইকেটের সবগুলোই স্পিনারদের ( মেহেদী মিরাজ ৬টি- তাইজুল ২ টি- সাকিব ২টি)। সবকিছু মিলিয়ে ইংল্যান্ডের এই অবস্থাটা দেখার পরে বাংলাদেশের ব্যাটিং এর স্ট্রাটেজিতে একটু হলেও পরিবর্তন আসার কথা। গেইমপ্ল্যানে যতো বেশি সম্ভব বল ফ্রন্টফুটে খেলার কথা থাকাটা স্বাভাবিক। আর দ্রুত রান তোলার একটা তাড়া থাকা স্বাভাবিক। এই উইকেটগুলোয় ব্যাকফুটে ব্লক করা দলকে আসলেই ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। ফ্রন্টফুট আর ব্যাকফুট মিলিয়ে সাবলীল মুশফিককে দেখলাম অনেক দিন পরে। অরবিন্দ ডি সিলভার যে বাংলাদেশি ভার্সনটাকে মিস করছিলাম, তাকে দেখলাম কভার ড্রাইভগুলোতে আর স্কয়ার কাটগুলোতে। তামিমকে একটু নড়বড়ে লাগলেও দিন গড়াতে তামিম যে ৭৮ রানের ইনিংসটা স্কোরকার্ডকে দিয়ে গেলেন, সেটা হয়ে থাকলো সারা বাংলাদেশ ইনিংসেরই হাইলাইটস।

৩) এ ধরনের পিচে শেষ বিকালের ধাক্কা বলে একটা ব্যাপার থাকে। সে ধাক্কাটা বাংলাদেশ ভালোমতোই খেলো। স্টোকসি নতুন স্পেলে আসার পর থেকেই সাকিবকে পানি ছাড়া মাছ মনে হচ্ছিলো। সাকিবের শট সিলেকশন আর দরকারি সময়ে রাশ শট খেলার পাস্ট হিস্ট্রি দেখে সাকিবকেই টার্গেট করে থাকবে ইংল্যান্ড। তবে ৫৮ রানের পার্টনারশিপ ভাঙতে দারুন দিন কাটানো মুশফিকের চেয়ে ভালো কিছু চাইতে পারত না ইংল্যান্ড। ওকস আর ব্রডদের ভালোমতো সামলে শেষমেশ স্টোকসের নিচু হওয়া বলে মুশফিক ফিরলেন আর দিনটার শেষে পরের দিন সকালে ম্যাচ জমে উঠার সব রসদ জুগিয়ে গেলেন। এই ইনিংসে একটি রান তুলতে যা স্ট্রাগল করতে হচ্ছে, চতুর্থ বা ৫ম দিনে বাংলাদেশ ফোর্থ ইনিংসে ব্যাট করার সময় তার দ্বিগুণ কষ্ট হবে এটা এখানে দাঁড়িয়ে প্রেডিক্ট করতে জ্যোতিষী হবার দরকার নেই। সে হিসেবে বাংলাদেশের আসল কাজটা কিন্তু আগামীকাল সকালের সেশনে। সকালের সেশনের রানগুলো দুটো কাজ করবে। একদিক দিয়ে, প্রত্যেকটা রান ইংল্যান্ড ব্যাট করার সময় তাদের আরো বেশি চাপে রাখবে। দ্বিতীয়ত, প্রত্যেকটা রান নিজেদের ফোর্থ ইনিংসের পাহাড় ডিঙানোর কাজকে কেটে ছোট করবে।

২৯৩ এর জবাবে ২২১/৫। সাকিবের সাথে নাইটওয়াচম্যান শফিউল। আর বাইরে সাব্বির আর মেহেদি মিরাজ। বাকি উইকেটগুলো মিলিয়ে আরো ১০০ রান হলে ৩২০ রানের মধ্যে বাংলাদেশ ৩০ রানের লিড পাবে মোটামুটি। বাস্তবতার নিরিখে বাংলাদেশ বা ইংল্যান্ড কোন দলই ২য় দিন শেষে ম্যাচের ড্রাইভারের পজিশনে নেই। সন্দেহাতীতভাবে পাতে দারুন এক টেস্ট ম্যাচ!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

6 + eleven =