এক কথা-দুই কথা-তিন কথা

১) ‘ভালো খেলে হেরে গেলাম’ – এই চার শব্দের বাক্যটা খুব সম্ভবত গত চার- পাঁচ বছরে আমাদের ক্রিকেটে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত বাক্য। তবে ক্রিকেট যতো এগোচ্ছে বাক্যটার কার্যকারিতা সত্যিকারার্থেই শূন্যের দিকে যাচ্ছে। ভালো খেলা বলতে আসলে কী বোঝায়?? ভালো খেলা মানে কি শুধুই এক-দুইজন ব্যাটসম্যান ক্লিক করা?? নাকি সেই এক-দুইজনের সাথে আরো দুই-একজন হাফ ক্লিক করে ম্যাচে আমার দলের সাথে লড়া দলটার চাইতে বেশি রান করা? বা বোলিংয়ে ভালো খেলা মানে কি শুধুই ব্যাটসম্যানকে বিট করা? নাকি বিট করার পরে ক্যাচ উঠলে সেটা ধরাটাও ভালো খেলার অংশ। তো সে হিসাবে ভালো খেলা টার্মটা কিন্তু আস্তে আস্তে আসলেই বিশাল থেকে বিশালতর হচ্ছে। ১০০ ওভারের ওয়ানডে ম্যাচে তো দূরে থাক, ২০০৮/০৯ এর পর থেকে টেস্টেই একটা ছোট স্পেল বা ৭০ রানের ইনিংস ম্যাচের রেজাল্ট বানাচ্ছে অহরহ। ওয়ানডে অল্প ওভারের খেলা টিটোয়েন্টি আরো অল্প ওভারের। টিটোয়েন্টিতে অনেক বড় ম্যাচের রেজাল্ট বানিয়ে দেয় স্লগ ওভারের ৬ টা বল। তাহলে তো ঐ ৬টা বল ভালোভাবে করাই আপনার প্রতিপক্ষের চাইতে ভালো খেলা! আর যারা ৬ টা বল ভালোভাবে খেলতে পারলো না? তারা অন্য দলটার সাথে খারাপ খেলে হেরে গেলো। একই গতিতে ওয়ানডেতেও দেখুন, ২০ বলের ক্যামিও বা মুস্তাফিজের ২ /৩ ওভারের স্পেল আজ ম্যাচের রেজাল্ট বদলে দিচ্ছে! সে হিসাবে গতকাল আমরা বেন স্টোকসের ক্যাচ ছেড়ে খারাপ খেলেছি, আমাদের ব্যাটসম্যানেরা স্লগ সুইপে আউট হয়ে খারাপ খেলেছে, সাকিব চলে যাবার পরে ওভাবে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে খারাপ খেলেছে, মাথাটা বোকা পরিসংখ্যান হলে তামিম স্লো স্টার্ট করে খারাপ খেলেছে….
ব্যাটিং-বোলিং এর সাথে ফিল্ডিং আছে, এই তিনটের সাথে আবার গেম রিডিং, চাপ সামাল দেওয়া, টীম সিলেকশন সব মিলিয়েই একটা দল ভালো খেলে। আমরা তো অনেক জায়গায় সে হিসেবে খারাপ খেলেছি। খারাপ খেলে হেরেছি!

২) মোশারফ রুবেল এক মিস্ট্রি: মোশারফ রুবেল আমাকে আমার শৈশবে নিয়ে যায়। আপনি শৌখিন ক্রিকেটার হলে ক্রিকেট খেলতে গেলে আউট হবার ভয় আপনার মধ্যে শূন্যের কোঠায়। তবে আউট হবার ভয়ের বাইরে আরেকটা ভয় থাকে শৌখিন ক্রিকেটারদের। সেটা হলো ব্যাটিং করতে গেলে গায়ে বল লাগার ভয় আর ফিল্ডিং করতে গেলে ক্যাচ ধরতে গেলে গায়ে বল লাগার ভয়। সেজন্যে শর্ট পজিশনে ফিল্ডিং করার লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
তো এই শৌখিন ক্রিকেটে জোরে বল আসলে একমাত্র লক্ষ্য থাকে পড়িমরি করে ব্যাট এগিয়ে দিয়ে আর বলের লাইন থেকে শরীর বাঁচিয়ে নিজের দেহ বাঁচানো। আউট হলে হলাম, গায়ে বল লাগতে দেওয়া যাবে না। ক্যাচের ক্ষেত্রে বল গেলে গেলো, কিন্তু বল গায়ে লাগলে তো ব্যাথায় কুঁকড়ে যাবো। আমার কাছে রুবেলের এটিচ্যুড আলাদা কিছু লাগে নি। দলে শক্তি আর চাঞ্চল্য ফেরানোর জন্যে হলেও নাসিরকে চাই। মিস্ট্রি কোথায়? মিস্ট্রি হলো এই মোশারফ রুবেল ডমেস্টিকে এত ভালো কীভাবে করে??

৩) কাকে নিতে হবে বা কাকে নিলে দল আবার জিতবে, সেটা নিয়ে কথা বলার মত ক্রিকেট জ্ঞান বা আগ্রহ কোনটাই আমার নেই। যেটা জানি সেটা হলো, আফসোস লাগার অধিকারটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের সকল ফ্যানের আছে। কারণ বর্তমানের সবচেয়ে ব্যালেন্সড তিনটা ওয়ানডে দলের একটাকে হারানোর সুযোগ আপনি রোজ পাবেন না। বাংলাদেশ জিততে চায়, গ্যালারিতে উৎসাহ দিতে যাওয়া মানুষগুলো খুব করে জিততে চায়। ভালো খেলার দিনটা পেরিয়ে এসেছি। এখন শুধুমাত্র জয়ই আমাদের জন্যে ভালো খেলা। এই দলটার ৫/৬ জন মোটামুটি দেড়শোর উপরে ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। অভিজ্ঞতার কথা হিসাব করলে আমাদের উল্টোপাশে যে দলটা খেলবে তাদের নামটা বড় হলেও এই বাংলাদেশ টীমটা তাদের চেয়ে অভিজ্ঞ। আগামীকালের ম্যাচটা জিতুক বাংলাদেশ। গতকালের ম্যাচটা তাতে দৌঁড়ে চলার সময়ে ছোট্ট একটু হোঁচট হয়েই থাকুক । পিছে তাকানোর শুরু হিসেবে মিরপুরের এই ম্যাচটা মানুষের মনে একমাস পরে না বসে থাকুক।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × two =