অনেক প্রতীক্ষার শুরুর আগে

১ । বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে হেরেছে তাদের চারটি (২টা অফিশিয়াল এবং ২টা আনঅফিশিয়াল) প্রস্তুতি ম্যাচই ।
২ । বাংলাদেশ আর আফগানিস্তানের একমাত্র ওয়ানডে ম্যাচটির ফলাফল গিয়েছে আইসিসির সহযোগী সদস্যটির পক্ষে ।
৩ । ম্যাচের আগে “লড়াই করব ” বা “ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই” ধরনের কূটনৈতিক কথাবার্তার ধার না ধেরে আফগানরা বলে দিয়েছে সোজা জয়ের কথা ।

 এ দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি চাইবে না টাইগারেরা
এ দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি চাইবে না টাইগারেরা

বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের ক্রিকেট দ্বৈরথ নিয়ে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা । এমনিতে নিরপেক্ষ ক্রিকেটমোদীর হয়তো র‍্যাঙ্কিং এর নিচের দিকে থাকা দল দুটির ম্যাচ নিয়ে উত্তাপ বা উন্মাদনার খুব বেশি উপাদান খুঁজে পাবেন না । কিন্তু বাস্তবচিত্রটা ভিন্ন । ক্রিকেট উন্মাদনায় বাংলাদেশ যে মাঝে মাঝে হার মানিয়ে দেয় ক্রিকেটের সবচাইতে বড় বাজার ভারতকেও । তাই বাংলাদেশের ম্যাচ মানেই ক্রিকেটের বাজারটুকুর অনেক বড় একটা অংশ এটি নিয়ে মেতে উঠবে । আর এমন দলের বিশ্বকাপের ম্যাচের দিন অন্য সবকাজ ছেড়ে কর্পোরেট অফিসের দামি টিভি থেকে থেকে পাড়ার মোড়ের চায়ের দোকানের ১৪ ইঞ্চি টিভি- ক্রিকেট সবখানে ! আর তার সাথে মাথায় রাখুন প্রথমে বলে নেওয়া কথাগুলো । ম্যাচটা মোটেও পানসে নয় !

দুরের দেশ অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের সবচাইতে বড় শক্তি কোন উইং নয় , বরং একজন নির্দিষ্ট ক্রিকেটার । সাকিব আল হাসান ! অনেক জায়গায় খেলেছেন , অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে খেলেছেন । তার ভাঁড়ারে ম্যাচের ফলাফল বদলে দেবার মত অস্ত্র অনেক । সাকিবকে ম্যাচের আগে আরও তাঁতিয়ে রাখবে যে ম্যাচ নিয়ে আফগানদের এতো গর্ব , সে ম্যাচটি দেখতে হয়েছে মাঠের বাইরে বসে । সাকিব তাই আফগানদের বার্তাটাও পৌঁছে দিতে চাইবেন তার লাল সবুজের ৭৫ নম্বর জার্সির ধারটা কতো বেশি । স্পিনার সাকিব সাথে পাবেন রিয়াদ এবং সানি বা তাইজুলের যেকোন একজনকে ।

প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যর্থতা তাঁতিয়ে রাখবে সাকিবকে
প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যর্থতা তাঁতিয়ে রাখবে সাকিবকে

কাগজে কলমে আর কার্যকারিতায় গেল কয়েক বছরে বাংলাদেশের সবচাইতে ভালো পেইস এটাকটাও এবারের । ২০১১ সালে দেশের মাটির বিশ্বকাপটা ইনজুরির কারণে না খেলতে পারা ম্যাশের কাঁধে থাকছে দলের মূল পেসারের সাথে নেতৃতেও দ্বায়িত্বটাও । নতুন বলটা অভিজ্ঞ মাশরাফি মুর্তজা ছাড়া কার হাতে দিয়েই বা এতোটা স্বস্তি পেত ষোল কোটি মানুষ ? সারপ্রাইজ প্যাকেজ তাসকিন আহমেদ খেলছেন নিশ্চিতভাবেই । আর থার্ড সিমার হিসেবে রুবেলের থাকাটা শতভাগ নিশ্চিত না হলেও সবচেয়ে সম্ভাব্য । রুবেলকে তার স্লিংগা একশনকে কাজে লাগিয়ে বিষাক্ত সব ইয়র্কার বের করতে হবে তার পেছনে ১৬ কোটি শুভাকাঙ্খীর জন্যে ।

তার কাঁধেই এবার নেতৃত্বের ভার
তার কাঁধেই এবার নেতৃত্বের ভার

বাংলাদেশের বড় চিন্তাটা ব্যাটিং নিয়ে । খেলা থেকে প্রতিপক্ষকে ছিটকে দেওয়া ব্যাটসম্যান বাংলাদেশের টপ অর্ডারে নেই । বাইরে গিয়ে ভালো খেলার রেকর্ডধারী তামিম ইকবাল পাকিস্তানের সাথে ৮০ রানের ইনিংস দিয়ে ভালোই সেরেছেন প্রস্তুতি । তবে গেলো কয়েক ম্যাচে মিডল আর টপ অর্ডারে বেশ দৃষ্টিকটু কিছু ধ্বস বাংলাদেশের ক্রিকেটের নিয়মিত ভক্তদের ম্যাচপূর্ব রাতটাকে করে দিচ্ছে পরীক্ষাপূর্ব রাতের সমান ।

মিডল অর্ডারে স্থিতির খোঁজে বাংলাদেশ
মিডল অর্ডারে স্থিতির খোঁজে বাংলাদেশ

দলে স্পেশালিস্ট স্পিনার নেই। তবে মোহাম্মদ নবী ঢাকা লিগে খেলেছেন গেল মৌসুমে । শাপুর জাদরান, হামিদ হাসান আর দাওলাত জাদরানে গড়া আফগানদের পেইস ইউনিটটা বল করতে পারে জোরে । সে হিসাবে ওয়ান টাচ স্ট্রোক মেকার মমিনুল ও মুশফিকুর রহিমের উপর ভালো রকমের নির্ভরশীল বাংলাদেশ । তবে ম্যাচের আগে আফগানিস্তানের বোলিং নিয়ে নয় , বাংলাদেশের সবচাইতে বড় মনোযোগটা থাকবে নিজেদের মিডল আর টপ অর্ডারে স্থিতির দিকে । আর তার সাথে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে আরেকটা দিকে । তা হলো , এই দলে ক্রিকেট বলের সবচাইতে ভালো হিটার সাকিব আল হাসানের যাতে ইনিংস বিল্ড করার কাজে হাত না দিতে হয় । বোর্ডে প্রতিপক্ষকে ভয় পাওয়ানো স্কোর তোলার জন্যে সাকিবের স্লগে ব্যাট করাটা যে বড্ড জরুরি !

৪ বছর পরে আসে একটা ওয়ানডে বিশ্বকাপ ! আসল ক্রিকেট বিশ্বকাপ ! তার সাথে আফগানিস্তানের সাথে আছে কিছু পুরোনো হিসেব মেটানোরও । তাই এটা অনেক প্রতীক্ষার শুরু ! অনেক সাধনার শুরু ! অনেক ভয় আর উত্তেজনা মেশানো শুরু । ক্যানবেরার ঘড়িতে ম্যাচ শুরু হতে এখনো বাকি ১২ ঘন্টা । আমার ঢাকার ঘড়িতেও ম্যাচ শুরু হতে বাকি ১২ ঘন্টা । তবে ঢাকার বারো ঘন্টা অনেক লম্বা । ঢাকার ঘড়িটা এগোচ্ছে অনেক স্লথগতিতে !

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

14 − three =