তোরা সব জয়ধ্বনি কর!

তোরা সব জয়ধ্বনি কর,
তোরা সব জয়ধ্বনি কর,
টাইগাররা ছড়ি ঘোরালো পাকিদের উপর,
তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
দলের নাম না জেনে থাকলে কেউ কালকে হয়তো মনে করতেন অস্ট্রেলিয়া খেলছে নাকি লাল সবুজ জার্সিতে? পুরো ম্যাচে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে পাকিস্তানকে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ের লজ্জায় ডুবিয়ে সিরিজ জিতেছে টাইগাররা। আনন্দে ভাসিয়েছে ১৬ কোটি মানুষকে। টানা দ্বিতীয় শতক হাঁকিয়েছেন টর্নেডো তামিম। এদিনেরটা সেই আগের তামিমকে মনে করিয়ে দেওয়া, বিপক্ষের বোলিঙকে দুমড়ে মুচড়ে দেওয়া দুর্দান্ত সব শট খেলে।
টস জিতে পাকিস্তান ব্যাট হাতে তুলে নিলেও আমাদের বোলারদের দশে মিলে করি কাজ নীতির কাছে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত। নিয়মিত বিরতিতে তাদের ব্যাট হাতে প্যারেড, মানে যাওয়া আসা করতে দেখা গেছে! সাকিব, সানি, নাসিরের ঘূর্ণির মায়া, রুবেল আর তরুণ তুর্কি তাসকিনের গতি আর সেনাপতি মাশরাফির বুদ্ধিমত্তার কাছেই তারা হেরে গেছেন। রিয়াজ আর নাসিমের জুটিটা তাও একটা ভদ্রস্থ জায়াগায় নিয়ে গিয়েছিলো তাদের রান।
এই রান নিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছে ওরা বিশ্বকাপে, তাই হয়তো আশা করেছিলো টাইগারদের হারানোর। কিন্তু সেই আশা দুরাশায় পরিণত হতে সময় লাগেনি। তামিম সৌম্যর জুটি অল্পতেই ভাঙলেও ওদিকে তামিম যে দমাদম মাস্তকালান্দার পিটুনি দিয়ে কোমর ভেঙে দিচ্ছিলেন পাকি পেসারদের। প্রথম দশ ওভারে ৮০ রান স্কোরবোর্ডে। এই তামিম বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন ২০০৭ বিশ্বকাপের তার আগমনী বার্তা শোনানো সেই ভারতের বিপক্ষে করা অর্ধশতের কথা। ঐদিন যেমন জহির মুনাফ কেউ তার কাছে পাত্তা পায়নি, এদিনও তিনি গুনে গুনে চার মেরেছেন সবাইকে। তার ঐ বৈশাখী উপহার থেকে কেউই বঞ্চিত হননি! রাহাত আলি, জুনাইদ খান, সাইদ আজমল-সবাই পেয়েছেন! আর কি সব শট, একজন ১৪০ কিমি গতির পেসারকে কেউ নাচতে নাচতে ছক্কা মারে, এটা বিরল দৃশ্য। কাল সেই দৃশ্য উপহার দিলেন তামিম। রিয়াজের মুখ সব সময়েই একটু বেশি চলে, তার জবাবও কাল ব্যাট দিয়েই দিলেন তিনি। মাঝে একটু মাথা গরম মনে হলেও ঠিকই ধীরে সুস্থে নিজের টানা দ্বিতীয় শতক তুলে নিলেন, দলের তরী তীরে ভেড়ালেন, তখন তার সঙ্গী দলকে প্রথমেই ফেভারিট ঘোষণা দেওয়া বিশ্বসেরা সব্যসাচী সাকিব আল হাসান। রান মেসিন মুসিও কাল হতাশ করেননি, তামিমের সাথে সমান তালে ব্যাট চালিয়ে অর্ধশতক তিনিও করেছেন।
এই দলটাকে আমার কেন যেন ১৯৯৬ এর লঙ্কার মতো মনে হয়। রানাতুঙ্গার নেতৃত্বে কেমন ভয়শূন্য ক্রিকেট খেলত তারা! সেই চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির- এই মন্ত্র আজ আমাদের মধ্যেও! আমাদের নেতা মাশরাফি নিজেই বীরের উৎকৃষ্ট উদাহরণ, আমাদের তামিম জয়াসুরিয়ার মতোই যে কোন বোলিঙকে স্রেফ ধংস করে দিতে পারে ঝড় তুলে, মুরালি না থাকলেও আমাদের সাকিব কম কিসে! ধরে খেলার জন্য মাহমুদউল্লাহর চেয়ে ভালো কেউ মনে হয় বিশ্ব ক্রিকেটেই এখন খুব কম আছে, আমাদের মুশফিকের ভয়শূন্য দাপুটে ব্যাটিং আর বলকে মাঠের বাইরে পাঠানোর ক্ষমতা কালুভিথারানাকে মনে করায়। শুধু তাই নয়, এরা চাইলে মাহেলা, সাঙ্গার মতো ধরে খেলেও রানের চাকা সচল রাখতে পারেন।
শেষ ভালো যার, সব ভালো তার, বাংলাওয়াশের আশায় বসে আছি। আশা করি এই আশাটাও আমাদের বাঘের দল পূরণ করতে পারবে আল্লাহর রহমতে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

5 × four =