মন ভরিয়ে দেওয়া এক দমাদম মাস্তকালান্দার জয়

দমাদম মাস্তকালান্দার,
আলি দম ভর দে আন্ধার!
এই গানটা বাসার পাশের দোকান থেকে কদিন ধরে অনবরত বাজানো হচ্ছে। অত্যন্ত জনপ্রিয় এই উর্দু গজলের শিল্পী কিন্তু আমাদের দেশেরই গর্ব, রুনা লায়লা। তা এই গানের উল্লেখ করলাম কেন? করার কারণ হচ্ছে আমাদের তামিম আর মুশফিকের ধুন্ধুমার ব্যাটিং যেন এই গানের প্রতিশব্দ ছিল! সাইদ আজমল, সাদ নাসিম, জুনাইদ খান- মার খেয়ে ভূত হয়েছেন সকলেই। প্রথমবারের মতো কোন ওয়ানডেতে দুটি শতক দেখলো বাংলাদেশ, সাথে ১৬ বছর পর দেখলো চিরশত্রু পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়। ১৭ এপ্রিল, স্বাধীন বাংলার প্রথম সরকার গঠনের দিনে এই জয়ের মাহাত্য বেড়ে গেছে অনেক।
টসে জিতে সাকিব ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলে ভুরু কুচকে গেছিলো অনেকের। কারণ, পিচে ছিল তাজা ঘাস। অস্ট্রেলিয়ার পিচে আগুন ঝরানো পাক পেসাররা এখানেও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবেন, ভয় ছিল এটাই। তামিম সৌম্যর প্রথম জুটিতে ধীরে ধীরে আতঙ্ক কাটতে শুরু করে। ৬৭ রানে দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশের ইনিংসের মূল সুর গাঁথা হয় এরপর তামিম আর মুশির জুটিতে। তামিম ধীরে সুস্থে খেলছিলেন, মনে হচ্ছিলো বড় কিছুর সংকল্প আছে তার মধ্যে। আর মুশফিক, কি আর বলা যায় তাকে নিয়ে! যখন ক্রিজে এলেন, তার একটু পর থেকেই খড়গহস্ত বোলারদের উপর, প্রিয় স্লগ সুইপ তো ছিলই, কভার ড্রাইভ, কাট, দৃষ্টিনন্দন একটুকু ছোঁয়া দিয়ে বলকে সীমানা পার করানো- সবই ছিল। ফলাফল হচ্ছে মাত্র ৬৯ বলে এক বিস্ফোরক শতক। ইতিবাচক, নির্ভয় মুশি আসলে এই ইনিংসের প্রাণ। তামিম ইকবালকে অপমান করা হবে তার ঐ মহাকাব্য নিয়ে কিছু না বললে। পরিস্থিতির দাবী মিটিয়ে প্রথম দিকে হাল ধরে ছিলেন, এর মধ্যেও চার ছক্কা হই হই করার সুযোগ দিয়েছেন অনেকবার। আর শতকের পর খাপখোলা তলওয়ার হয়ে পাক বোলারদের কচুকাটা করলো তার ব্যাট। শচীন একবার ওয়ার্নকে বেদম পিটুনি দিয়েছিলেন, তারপর ওয়ার্নের দুঃস্বপ্নে নাকি তিনি আসেন! একথা স্বয়ং ওয়ার্ন বলেছেন। বোলিং অ্যাকশন শুধরে ফেরা আজমল কাল মুশি তামিমের কাছে যে দমাদম মাস্তকালান্দার ধরনের পিটুনি খেলেন, তাতে মনে হচ্ছিলো তিনি পাড়ার বোলার, পাকিস্তান জাতীয় দলের নয়! সাথে সাদ নাসিমকেও ভালোই শিক্ষা দিয়েছে টাইগাররা। দেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সেরা ইনিংস হয়ে গেলো এই ৩৩০।
এই পাহাড় পাকিস্তান টপকাতে পারেনি। পারবেনা, এর সাথে দ্বিমত করার লোক অবশ্য বেশি ছিল না। আমাদের বাঘেদের ফিল্ডিং কাল হয়েছে দুর্দান্ত। এক রানও হেলায় হারাতে দেননি কেউ। দুজন সরাসরি থ্রোতে রান আউট হয়েছেন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো পাকিস্তান ২৫০ রানে হয়েছে সর্বহারা।
জয় দেখেছি প্রথম যেদিন,
ভয় গিয়েছি ভুলে।
১৯৯৯ এ একবার হয়েছিলো, ১৬ বছর পর হলো আবার, আশা করি আগামীকাল আবার হবে!!!
সাবাশ বাংলাদেশ!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twelve + 18 =