এমসিজিতে কাল কাদের উৎসব? তেরঙ্গা না লাল সবুজ?

‘ভুলি কেমনে, আজও যে মনে
বেদনা সনে, রহিল আঁকা’
ভারতের ফ্যানদের এখনও মনে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ২০০৭ সালে তারকায় ভর্তি দলের হারের কথা, বাংলাদেশের তরুণদের কাছে। তারা বিশ্বকাপ শুরু হবার আগেই ধরে নিয়েছিলো, সৌরভের হাতে সৌরভ ছড়াবে ট্রফি, কিন্তু বিধি বাম! বাংলার বাঘ আর লঙ্কার সিংহর থাবায় বিধ্বস্ত হয়ে সুপার এইটেও ওঠা হল না! কাল আবার মুখোমুখি এই দুই প্রতিবেশী। এমসিজিতে এবার হারলেই বিদায়ের পালা। কাল ভোরের সূর্য উঠলে কোনটা মনে পড়বে মাশরাফির? ২০০৭ এ ভারতকে ধরে দিবানি বলে কথা রেখেছিলেন। ২০১১ তে ইনজুরির সাথে লড়ে জিততে পারেননি, কেঁদেছিলেন নিজে, কাঁদিয়েছিলেন গোটা দেশকে। বিরেন্দ্র সেবাগের ১৭৫ এর কল্যাণে সেবার ভারত জিতেছিল।
২০১১ এর সেই যন্ত্রণা নিজের চোখে দেখা গ্যালারী থেকে। নিজের প্রথম বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে যাওয়া, সেই আনন্দকে বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন সেবাগ আর বিরাট। সেদিন বিরাট করেছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম শতক। জানিয়েছিলেন বিশ্বকে নিজের আগমনী বার্তা।
আজ যখন কালকের ম্যাচ নিয়ে কিছু লিখতে বলা হল, আমি মনে করলাম স্মৃতির ভেলায় ভেসে যাই না একটু পিছনে। বিরাটকে থামাতে হবে বড় কিছু করার আগেই। আসলে ভারতের এই দলটা সব দিক দিয়েই অনেক শক্তিশালী। তবে নাসির হোসেনের ভাষায় এটা তো গোল বলের খেলা, কিছুই বলা যায় না। আর এক দিনের ই তো ব্যাপার, যে ভালো খেলবে সেই জয়ের মালা পরবে।
এমসিজির ড্রপ ইন পিচে বেলা শেষের দিকে ঘূর্ণির বশ্যতা শিকার করে, তাই আমার মতে, প্রথমে ব্যাট করে ২৮০ থেকে ৩০০ রানের স্কোর নিয়ে শেষের দিকে লড়াই করা যাবে। ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা একেকজন ঘূর্ণির মায়া সামলাতে ওস্তাদ, তাই তাদেরকে বধ করতে হবে গতি দিয়ে, যেমনটা করেছিলেন ২০০৭ এ আমাদের এখনকার অধিনায়ক। প্রথমেই কিছু উইকেট তুলে নিয়ে ওদের যদি চাপে ফেলা যায়, তাহলে বড় কিছু ঘটতে পারে। মাখন মাখা হাত হলে সেই সম্ভবনা জ্বলে ওঠার আগেই নিভে যাবে। যেমনটা হয়েছিলো শ্রীলঙ্কার সাথে। তখন কিন্তু তেরঙ্গার উচ্ছাসই বিরস বদনে চেয়ে চেয়ে দেখতে হবে।
২০১১ তে ওপেন করেছিলেন তামিম আর ইমরুল, এবারো ভাগ্যের ফেরে তারাই আছেন। ২০১১ তে ৫ ওভারে ৫৫ রান তোলা এই জুটির কাছে প্রত্যাশা থাকবে প্রথম দশ বিশ ওভারে সামলে চলার। এতে করে পরের ব্যাটসম্যানরা নির্ভার হয়ে চালাতে পারবে। রিয়াদের শতকের হ্যাট্রিকের আশা আর সব বাংলাদেশির মতো আমিও করছি। প্রথম দিকের কারও হালটা ধরে রাখতে হবে, তাহলেই কার্যসিদ্ধি সহজ হবে।
ভারতের গতিতারকাদের মধ্যে সামিকে সামলাতে হবে সাবধানে। আর আমাদের তরুণ তুর্কিদের কাছে আশা করি, তারা উপভোগ করবে এমন পর্যায়ে খেলা। নির্ভার হয়ে খেললে কত কিছুই তো সম্ভব। ১৯৯৬ এর শ্রীলঙ্কা যেমন সবার দম্ভ গুড়িয়ে দিয়েছিলো! ছেলেমানুষি ভুল গুলো যেন না হয়, বোলিং পরিবর্তন গুলো অথবা ফিল্ড তৈরি- কিছুই যেন সম্পূর্ণ অনুমেয় না হয়। আজ দেখলেন তো, কি খেল দেখাল দুমিনি! ওরকম চমকে দিয়েই কিন্তু প্রতিপক্ষকে শেষ করতে হয়।
চমকের মহারাজ আছেন বিপক্ষ দলে, বলছি তেরঙ্গার সেনাপতি মহেন্দ্র সিং এর কথা। ওয়ানডেতেও তিনি লেগ স্লিপ রাখেন। আমাদের মাশরাফিও কম জানেন না এসব টেকনিক, বলেছেন শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও চেষ্টা করার কথা। এটি আবার আমাদের ৩০০তম ওয়ানডে। ওদিকে ইউটিউবে মউকা মউকা নামের এক ভিডিও নিয়ে ঘটে গেছে লঙ্কাকাণ্ড। পেপসি বলছে এটা তাদের নয়, কোন উগ্র ভারতীয় সমর্থকের কাজ। ইউটিউব সেটি সরিয়েও নিয়েছে নালিশের মুখে।
২০০৪,২০০৭,২০১২ তে পেরেছিলাম। এবার কেন নয়?
‘ লাল সবুজের বিজয় নিশান,
হাতে হাতে উড়িয়ে দাও’

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

two × four =