চেলসির ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে কান্তের নতুন সঙ্গী : তিমুইয়ে বাকায়োকো

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে রোমেলু লুকাকুকে হাতছাড়া করার পর এবার আর নিজের কোন মূল ট্রান্সফার টার্গেটকে হাতছাড়া করতে রাজ নন চেলসি কোচ আন্তোনিও কন্তে। যে কারণে মোনাকো থেকে ফরাসী ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার তিমুইয়ে বাকায়োকোকে ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে দলে আনছে তারা। ফলে চেলসির সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে এনগোলো কান্তে, নেমানিয়া মাটিচ ও সেস ফ্যাব্রিগাসদের সঙ্গী হতে যাচ্ছেন এই বাকায়োকো।

গত মৌসুমে মোনাকোর উত্থানের পেছনে অন্যতম ভূমিকা ছিল এই তিমুইয়ে বাকায়োকোর। মিডফিল্ডে বাকায়োকোর ভূমিকাটাই সতীর্থ ফ্যাবিনোর থেকে অপেক্ষাকৃত বেশী রক্ষণাত্মক ছিল, কারণ মিডফিল্ড পাওয়ারহাউজের মত প্রতিপক্ষ অ্যাটাকারদের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ার কাজটা তাঁকেই বেশী করতে হত। এবং যাকে পাশে রেখে ডিপ লায়িং প্লেমেকারের কাজটা নিশ্চিন্তে করতে পারতেন ফাবিনহো। প্রতি ম্যাচে গড়ে ২.৬টা করে এরিয়াল ডুয়েল জিতছেন বাকায়োকো, সাথে সফল পাস দেওয়ার হারটাও রেখেছেন যথেষ্ট প্রশংসনীয় – ৮৭.৭ শতাংশ। খেলার স্টাইল পর্যবেক্ষণ করলে তাঁর সাথে অনেকে ম্যানচেস্টার সিটির আইভোরিয়ান মিডফিল্ডার ইয়ায়া ট্যুরের তুলনা দিচ্ছেন। মিডফিল্ডে ট্যাকল আর ইন্টারসেপ্ট করে প্রচুর বল কেড়ে নিতে পারেন প্রতিপক্ষের পা থেকে, অনেকটা কিছুদিন পরে সতীর্থ হতে যাওয়া এনগোলো কান্তের মত। তবে কান্তের সাথে বাকায়োকোর পার্থক্য হল কান্তের উপরে উঠে আক্রমণ করার অতটা অভ্যাস নেই। কিন্তু বাকায়োকোকে প্রায়ই দেখা যায় বল ত কেড়ে নিচ্ছেনই, সাথে সাথে বক্স-টু-বক্স দৌড়িয়ে আক্রমণে সহযোগিতাও করছেন। আদর্শ সেন্ট্রাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের মত প্রচুর ট্যাকল করতে পারেন। গত চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রতিপক্ষের আক্রমণ মিডফিল্ডেই সবচেয়ে বেশী ভেস্তে দিয়েছিলেন যে তিনজন তাঁদের মধ্যে তিমুইয়ে বাকায়োকো একজন। ফাউল করেনও যেমন, ফাউল সহ্যও করতে হয় তাঁকে বেশ। গত মৌসুমে মোনাকোর হয়ে তিন গোল ও এক অ্যাসিস্ট করা এই মিডফিল্ডারের আজকের এই মিডফিল্ডার হবার পেছনে সবচাইতে বড় ভূমিকা ফরাসী কিংবদন্তী ক্লদ ম্যাকেলেলের – ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড পজিশানকে নতুন সম্মান দিয়েছেন তিনি।

কম জায়গায় বল পায়ে কন্ট্রোল করার ক্ষমতার জন্য তাঁকে ‘বাবল গাম’ বলে ডাকা হয়, প্রতিপক্ষের পায়ে বল দেখলেই তাঁর পিছে জোঁকের মত লেগে থেকে তাঁর পা থেকে মেশিনের মত বল কেড়ে নিয়ে নিজেই আস্তে আস্তে নিজের দলের হয়ে আক্রমণের সূচনা করেন। তবে, বাকায়োকোর কাছ থেকে সর্বোচ্চ উপযোগিতা পাবার জন্য তাঁর পাশে একজন মিডফিল্ডার থাকা লাগে যে কিনা বাকায়োকোকে নির্দেশনা দিতে পারে, মোনাকোতে যে ভূমিকাটা ছিল ফ্যাবিনহো, চেলসিতে আসার পর যে ভূমিকাটা হতে পারে এনগোলো কান্তের। সফল পাস দেওয়ার হার ৮৭ শতাংশ, যা তার পাসিং সামর্থ্যের কথাকেই মনে করিয়ে দেয়, যা কিনা অবশ্যই কান্তের থেকে একটু হলেও বেশী।

মিডফিল্ডে কান্তে আর বাকায়োকোর মত দুইজন ডেস্ট্রয়্যার, চেলসি কি আদৌ সামনের মৌসুমে গোল খাবে কোন?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

one × 4 =