রান মেশিনের দুঃসময়

২০১৫ বিশ্বকাপ বললেই সবার চোখে ভাসবে মাহমুদউল্লাহ্‌র পর পর দুই শতক আর হৃদয় হরণ করা উদযাপন, ভাসবে রুবেল হোসেনের ইয়রকারে বাতাসে ডিগবাজী খেতে থাকা স্ট্যাম্প, কিংবা ভারতের বিপক্ষে আম্পায়ার নামের কলঙ্ক আলিম দাঁর এবং ইয়ান গোল্ড! কিন্তু একজন মানুষ তারও আগে থেকে রান করে গেছেন ধারাবাহিক ভাবে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে মাহমুদউল্লাহকে যোগ্য সঙ্গত করেছিলেন ৮৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে। তিনি উইকেটে আসলেই আমরা মনে করি এবার রানের চাকা ছুটবে তরতরিয়ে। ছোট্ট মানুষটার(লম্বায়) হাতে কি সাঙ্ঘাতিক জোর! মারলেই ছক্কা! তেমনি গ্যাপ খুঁজে এক দুই নেওয়াতেও সমান পটু তিনি। সেই পকেট ডাইনামো মুশফিকের এখন দুঃসময়। রান পাচ্ছেন না, কিপিং ও ভালো হচ্ছে না।

কিছুদিন আগে হাতের আঙ্গুলে সূক্ষ্ম চোট পেয়েছিলেন তিনি। দুঃসময়ের শুরু আসলে সেখান থেকেই। চোট নাকি এতই সূক্ষ্ম যে ১০০% কখনও সারবে না, ব্যাথা নিয়েই খেলে যেতে হবে। এই চোটের পর থেকেই ঠিক ছন্দে নেই মুশফিক। যখন খেলছেন, তেমন কিছু কিন্তু মনে হচ্ছে না, কিন্তু হঠাৎ করেই একটা বাজে শট খেলে ফিরতি পথ ধরছেন। কিপিং এ ক্যাচ মিস তো নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমর্থকের প্রশ্ন, হায় হায়! কি হল রান মেশিনের?
আমার সরল পর্যবেক্ষণ, তেমন কিছুই হয়নি! একটা ভালো ইনিংসেই ঘুরে যেতে পারে কাহিনীর মোড়। তাকে এখন কিপিং থেকে বিশ্রাম দেওয়া জরুরি। ওয়ানডেতে এনামুল হক বিজয়ের অন্তর্ভুক্তি নিঃসন্দেহে একটা ভালো ব্যাপার এদিক থেকে, কারন তিনি কিপিং ভালোই করেন। টেস্টে নাহয় লিটন কিংবা কায়েস করবে।

এর থেকেও বড় ব্যাপার হচ্ছে তাকে মানসিক ভাবে সমর্থন দেওয়া, যে কাজে আমাদের নেতা বড় ভাই মাশরাফি অসাধারণ। আসলে খারাপ সময়েই মানুষ সমর্থন টা চায় সব থেকে বেশি, এতে ঐ অন্ধকার গলি থেকে আলোর পথে বের হয়ে আসা তার জন্য অনেক সহজ হয়।
‘দুঃখের দিনে কাছে আসে,
পথ ভুলে কি কেউ?
একা ঘরে পড়ে রবে,
জানবে না তো কেউ’
এমন যেন না হয়। আমরা আমাদের রান মেশিনের মুখে হাসি আর ব্যাটে চার ছক্কার উৎসব দেখতে চাই। তিনি আবার সেই ফর্ম ফিরে পান এ আশা করি।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eight + 11 =