অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের দলবদল নিষেধাজ্ঞা : প্রভাব পড়ছে যার যার উপর

আপিল করে লাভ হল না। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের উপর যে দলবদলের নিষেধাজ্ঞাটা দিয়েছিল কোর্ট অফ আরবিট্রেশান, অ্যাটলেটিকো তাঁর বিরুদ্ধে আপিল করেও পার পেল না, ফলে দুটো ট্রান্সফার উইন্ডোতে তারা কোন খেলোয়াড়ই নিজেদের দলে রেজিস্টার করতে পারবেনা। এবারের জানুয়ারি মাসের শীতকালীন দলবদলে ত পারেই নি, আপিল হারের ফলে চলমান গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজারেও কোন নতুন খেলোয়াড় নিজের দলে লিপিবদ্ধ করতে পারবেনা তারা। কেননা, তাদের এই দলবদলের নিষেধাজ্ঞা দুটো ট্রান্সফার উইন্ডোর জন্য কার্যকর। ২০১৮ সালের জানুয়ারি দলবদলের সময় থেকে আবার তারা নতুন খেলোয়াড় নিজেদের দলে চুক্তিবদ্ধ করতে পারবে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে অ্যাটলেটিকোর কোন খেলোয়াড় চাইলে ক্লাব ছেড়ে অন্য ক্লাবে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু যেহেতু অ্যাটলেটিকো নতুন কোন খেলোয়াড় আনতে পারছেনা, নিজেদের খেলোয়াড় তারা কিরকম ছাড়বে না আদৌ ছাড়বে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

ট্রান্সফার মার্কেটে অ্যাটলেটিকোর এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বেশ কিছু খেলোয়াড় ও ক্লাবের উপর প্রভাব পড়তে যাচ্ছে। দেখে নেওয়া যাক কি কি হতে পারে সেটা –

  • আতোয়াঁ গ্রিজম্যান

গত এক বছর ধরেই শোনা যাচ্ছে অ্যাটলেটিকো ছাড়তে পারেন ক্লাবের সুপারস্টার আতোয়াঁ গ্রিজম্যান। এবং তাঁকে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী অগ্রসর হয়ে আছে হোসে মরিনহোর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, গত মৌসুমে গ্রিজম্যানের স্বদেশী পল পগবাকে জুভেন্টাস থেকে আনার জন্য বিশ্বরেকর্ড ট্রান্সফার ফি প্রদান করেছিল ইউনাইটেড, শোনা যাচ্ছিল এবার গ্রিজম্যানকে আনতে তাঁর থেকেও বেশী ট্রান্সফার ফি দিতে রাজী আছে তারা। কিন্তু অ্যাটলেটিকোর এই দলবদলের নিষেধাজ্ঞার কারণে স্বাভাবিকভাবেই তারা তাদের মূল সুপারস্টারকে ছেড়ে শক্তিক্ষয় করতে চাইবেনা, ওদিকে শোনা যাচ্ছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও আর গ্রিজম্যানের প্রতি আগ্রহী নয়। ইউনাইটেডের সুইডিশ সুপারস্টার স্ট্রাইকার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের ইনজুরির কারণে এবার তারা একেবারে প্রথাগত স্ট্রাইকারের পেছনেই টাকা খরচ করবে বলে শোনা যাচ্ছে। আর গ্রিজম্যান আর যাই হন না কেন, প্রথাগত “নাম্বার নাইন” স্ট্রাইকার ছিলেন না। তাই ইউনাইটেড মূলত এবার ইব্রার বিকল্প খুঁজতেই দলবদলের বাজারে নামছে, সেক্ষেত্রে দলে আসতে পারেন রিয়াল মাদ্রিদের স্প্যানিশ স্ট্রাইকার আলভারো মোরাতা, এভারটনের স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু, তোরিনোর স্ট্রাইকার অ্যান্দ্রেয়া বেলোত্তি ও অলিম্পিক লিওঁর স্ট্রাইকার অ্যালেক্সান্দ্রে ল্যাকাজেটের মধ্যে যেকোন একজন। অর্থাৎ অ্যাটলেটিকোর এই নিষেধাজ্ঞার কারণে আতোয়াঁ গ্রিজম্যানের ক্ষতিই হল।

  • লিভারপুল, চেলসি, আর্সেনাল, বরুশিয়া ডর্টমুন্ড

এবারের দলবদলের বাজারে উপরোক্ত প্রত্যেকটি ক্লাবেরই দরকার নূন্যতম একটা করে স্ট্রাইকার। বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে পিয়েরে এমেরিক আউবামেয়াং বিদায় নিচ্ছেন, এদিকে আর্সেনালে অলিভিয়ের জিরুর ব্যাকআপ স্ট্রাইকার হিসেবে লুকাস পেরেজ ভালো পারফর্ম করেননি এই মৌসুমে, সাথে ক্লাব ছাড়তে পারেন চিলিয়ান সুপারস্টার অ্যালেক্সিস স্যানচেজও। ওদিকে ড্যানিয়েল স্টারিজ ও ড্যানি ইংসের ইনজুরির কারণে লিভারপুলও এবার একটা স্ট্রাইকার চায়ই চায়। ডিয়েগো কস্টা ক্লাব ছাড়লে স্ট্রাইকারের জন্য বাজারে নামবে চেলসিও। এখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও এসব ক্লাবের সাথে যুক্ত হয়েছে, স্ট্রাইকারের খোঁজে, ফলে লুকাকু, বেলোত্তি, ল্যাকাজেটে, ভার্ডি, এমবাপেদের পাওয়ার জন্য লিভারপুল, চেলসি, আর্সেনালদের আরেকটা প্রতিপক্ষ আসলো দলবদলের বাজারে – ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

  • অ্যালেক্সান্দ্রে ল্যাকাজেটে, ডিয়েগো কস্টা, রোমেলু লুকাকু

কিছুদিন আগেও শোনা যাচ্ছিলো যে অলিম্পিক লিওঁ ছাড়তে যাচ্ছেন ফরাসী স্ট্রাইকার অ্যালেক্সান্দ্রে ল্যাকাজেটে। লিওঁর প্রেসিডেন্ট জ্যাঁ-মিশেল অলাস স্বীকার করেছিলেন ল্যাকেজেটে যাচ্ছেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে, ল্যাকাজেটে নিজে মৌখিক সম্মতি দিয়েছেন তাদের। এখন দলবদলের নিষেধাজ্ঞার কারণে অ্যাটলেটিকো চাইলেও ল্যাকাজেটেকে দলে আনতে পারবেনা, ফলে ল্যাকাজেটেকেও খুঁজতে হবে অন্য কোন দল! ডিয়েগো কস্টার বিষয়টা অবশ্য একটু অন্য। গত জানুয়ারি থেকেই শোনা যাচ্ছে চেলসি ছাড়তে পারেন স্প্যানিশ এই স্ট্রাইকার। আর দল ছাড়ার ব্যাপারে কস্টা নিজেও সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, চেলসি যদি ছাড়তেই হয়, তাঁর সাবেক ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের জন্যই ছাড়বেন তিনি। এখন দলবদলের নিষেধাজ্ঞার কারণে কস্টার সে আশার গুড়েও বালি! আর কস্টা যদি চেলসি ছাড়তেন, তাঁর জায়গায় আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী ছিল এভারটনের বেলজিয়ান স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুর। লুকাকু নিজেও তাঁর সাবেক ক্লাব চেলসিতে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে সেটা আর হচ্ছেনা।

  • অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ নিজে

স্বাভাবিকভাবেই নিষেধাজ্ঞার কারণে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ নিজে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা চাইলেও দলবদলের বাজারে নতুন খেলোয়াড় কিনে নিজেরা শক্তিশালী হতে পারবেনা। তোরিনোর স্ট্রাইকার অ্যান্দ্রেয়া বেলোত্তি, চেলসির স্ট্রাইকার ডিয়েগো কস্টা, লিওঁর স্ট্রাইকার অ্যালেক্সান্দ্রে ল্যাকজেটের প্রতি অনেক আগ্রহ ছিল তাদের। দলবদলের নিষেধাজ্ঞার কারণে কাউকেই তারা দলে নিতে পারবেনা।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

5 × 2 =