অন্যচোখেঃ এখনো বাকি আসল কাজ !

পাকিস্তানের সাথে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশের আনন্দের পরে খুলনা টেস্টে অমন রোমাঞ্চেভরা কামব্যাক – দল প্রফেশনাল হয়েছে, নিয়মিত ভালো খেলতে শিখেছে । তবে দলের ফলোয়ার হিসেবে আপনার চিন্তাভাবনাটাও আরো প্রফেশনাল হওয়াটা খুব জরুরি ।।মে মাসের ৬ তারিখে ঢাকা টেস্ট দেখতে বসার আগে কয়েকটা ব্যাপার ভুলে যাওয়াটা মনে হয় পাপ । সেই ‘কয়েকটা’ কথা নিয়ে কথা বলার জন্যেই লিখতে বসা ।

প্রথমত, পাকিস্তান ২৯৬ রানের লিড নিয়ে নেবার পরে তামিম যেভাবে রিএক্ট করলো, ওটা ছাড়া বিকল্প রাস্তা আমাদের হাতে ছিলো না । তবে খেলা দেখে থাকলে আপনার মাথায় থাকবার কথা যে চারটা মেরে তামিম হান্ড্রেড করলো , সেটা অন্য যেকোনো খারাপ দিনে স্লিপে ক্যাচ বা বোল্ড হতেই পারত । ইমরুল কায়েসও কিপার আর স্লিপের মাঝ দিয়ে একবার মেরে বেঁচে গেলেন । ভাগ্য সাহসীদের পক্ষে । তাই হয়তো দিনের শেষে মাথা উঁচু করেই মাঠ ছাড়তে পেরেছে বাংলাদেশ । এমন দিন আগে আসে নি !

CRICKET-BAN-PAK

দ্বিতীয়ত, অমন ব্যাটিং স্বর্গেও আমাদের ফার্স্ট ইনিংসের ব্যাটিংটার দিকে তাকান । ২.৭৬ রানরেট আমাকে পীড়া দেয় না … ৩৩২ রানও দেখতে তেমন খারাপ লাগে না । যেখানে তাকালে আপনার খারাপ লাগবে , তা হলো আমাদের টপ আর মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের স্ট্যাটিস্টিক্স । তামিম, ইমরুল , মমিনুল , রিয়াদ, সাকিব, মুশি, সৌম্য , শুভাগত … আমাদের ব্যাটিং লাইন আপের প্রথম এই আটজনের মধ্যে সাতজনেরই ছিলো ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে হান্ড্রেড । সৌম্য সরকারের ফার্স্ট ক্লাস হাইয়েস্ট স্কোর ৯৬ আর গড় ২৮ । সৌম্যকে দিয়ে বল করানো হয়েছে মাত্র ১ ওভার । সেদিক থেকে বলাই যায়, মিডল অর্ডারে ওর ব্যাটিং এর সার্ভিসের জন্যেই ওকে দলে নেয়া । ৮ ব্যাটসম্যানের মধ্যে শুভাগত ছাড়া বাকি সবাই প্রথম ইনিংসে ৫০ বা তার বেশি বল খেলেছেন । এমন উইকেটে ৫০ বল ফেইস করাটাকে আপনি সেট হবার মানদন্ড ধরে নিতে পারেন কোন বিতর্ক ছাড়াই । কিন্তু বড় ইনিংস কোথায় ?
সাতজনের মধ্যে ৫০ বা তার চাইতে বড় রানের ইনিংস আসলো কেবল মমিনুল আর ইমরুলের ব্যাট থেকে । সর্বোচ্চ ৮০ হওয়াতে এই উইকেটেও আমাকে বড় ইনিংসের মানদন্ডটা ছোট করে আনতে হচ্ছে পঞ্চাশে । সাকিব-রিয়াদ-মুশির মিডল অর্ডার তো এ যাবত কালের সবচেয়ে ইনফর্ম মিডল অর্ডার ! সাকিবের ২৫ , মুশি আর সৌম্যর ৩০+ আর রিয়াদের ৪৯ গুলো দেখে জিভ কাটতে হয় বারবার । তুলনা করবো না ! তবে ২০-২৫-৩০-৪০ রান করে টেস্টে আউট হয়ে যাওয়ার চাইতে হতাশাজনক আর কিইবা হতে পারে ? এই ফিগারগুলো এ যুগে ওয়ানডেতেও এখন আর গর্ব করে বলা যায় না ! ‘উইকেট ছুঁড়ে ফেলে হাতে দিয়ে আসা’- রোগটা কমেছে , কিন্তু একেবারে সারে নি আমাদের !

পাকিস্তানকে আমরা রান দিয়েছি অনায়াসে !
পাকিস্তানকে আমরা রান দিয়েছি অনায়াসে !

তৃতীয়ত, বাংলাদেশের পৌনে তিন (২.৭৬) রানরেটের কথা বললাম । ২য় ইনিংসে আমাদের রানরেট ৪ এরও উপরে। আর এক ইনিংস ব্যাট করা পাকিস্তানের রান তোলার গতি পৌনে চারের কাছাকাছি (৩.৭২) । তবে আসল ফাড়াকটা কোথায় ? ফাড়াকটা হলো এই রানরেট তোলার জন্যে আমাদের তামিম-ইমরুলকে অনেক রিস্কি শট খেলতে হয়েছে , ডাউন দ্যা উইকেটে আসতে হয়েছে , তামিম ঝুঁকি নিতে গিয়ে স্ট্যাম্পড হলেন, কায়েস উড়িয়ে মারতে গিয়ে লাইনে ক্যাচ হলেন । কিন্তু পাকিস্তানের রানগুলো আমরা ওদের দিয়েছি ঝুঁকি ছাড়া । স্পিনারদের নির্বিষ শর্টবলগুলো ক্রিজে দাঁড়িয়ে সীমানায় আঁছড়ে ফেলা হয়েছে বারবার । দুই পেসার মিলে বল করলেন মোটে ৪০ ওভার ! সাকিবের বল হাতে দিনগুলো খারাপ যাওয়াতে শুভাগতকে ৩৫ ওভারের কাছাকাছি বল করতে হলো ।
কথা সোজা । এই উইকেটে বোলারদের কিছু করার নেই মানলাম । তবে বোলিং এর গ্র্যামার ধরে ওদের রান নেওয়াগুলো কঠিন করে তুলতে পারলেও উইকেট আরো বেশি পড়ত । রানের বোর্ডে ৬০০ মনে হয় জমা হত না কখনোই। কারণ , ওয়ানডে আর টি২০ তে আপনি চাপটা বানাতে পারেন ডট বল দিয়ে টেস্টে চাপ কাঁধে উঠে মেডেন ওভার বা টানা ১ রান বা ২ রানের ওভার করে গেলে । তাতে ব্যাটসম্যান হাঁসফাঁস করে … আর দলটা যদি ম্যাচ জেতার টার্গেট নিয়ে খেলতে নামে তাহলে তো কথাই নেই ! আমরা বোলিং এ এই চাপটা ওদের দিতে পারি নি । ওদেরকে রানের জন্যে রিস্কি শট খেলাতে পারি নি । বরং অনায়াসলব্ধ অনেকগুলো রান দিয়ে নিজেদের কাঁধের বোঝাটাকে আরো বড় করেছি । প্রচন্ড রোদ একটা বড় ফ্যাক্টর হতে পারে …
এই বোঝাটাকে এরপর আর বড় হতে দেওয়া যাবে না । স্কোরবোর্ডে রান তোলাটা প্রতিপক্ষের জন্যে রিস্কি করে তুলতে হবে যেকোনো মূল্যে ।

ওয়ানডেতে ধুঁকতে থাকা হাফিজ ফিরে এলেন আকস্মিক ফর্মে
ওয়ানডেতে ধুঁকতে থাকা হাফিজ ফিরে এলেন আকস্মিক ফর্মে

বদলে যাওয়া এক ক্রিকেট দলকে দেখছে ক্রিকেট দুনিয়া !
বদলে যাক খেলার এই ছোট ছোট ভুলগুলোও !

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four + sixteen =