আশরাফুল : মুগ্ধতা ছড়িয়ে দুর্নীতির চোরাবালিতে

২০০৪ সালে প্রথম খেলা দেখতে গিয়েছিলাম বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। ৩০ টাকার টিকেট ৯০ টাকা দিয়ে কিনে ঢুকলাম। তার আগের ম্যাচে অসাধ্য সাধন করেছে বাংলাদেশ। ভারতকে প্রথম বারের মতো পরাজিত করে। তো, একজন আউট হবার পরই ধুর আর এই খেলা দেখে কি হবে বলে ঘোড়ার গাড়ীতে উঠে বসলাম। যতক্ষণ তিনি ছিলেন, দারুণ লাগছিলো দেখতে, তিনি এমনই, তিনি ছিলেন এক মুগ্ধকর! তার হাত ধরে আমরা ৫ বছর পর প্রথম জয় পাই, তার হাত ধরে অসিদের হারিয়ে দেয় পিচ্চি বাংলাদেশ! তার হাত ধরে নাকানি চুবানি খাওয়ানো হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে। সবথেকে বড় কথা, ভয় না পেয়ে জে কোন বোলিং আক্রমণকে শাসন করাটা বাঙালী প্রথম তার কাছ থেকেই শেখে। তিনি আশরাফুল, বাংলার ক্রিকেট আকাশের প্রথম মহাতারকা, আবার আকাশ থেকে ঝরে পড়ার ক্ষেত্রেও তিনি একমাত্র। বাংলাদেশের ক্রিকেটে ম্যাচ ফিক্সিং এর কালি লেগেছে তার কারনে।

যতক্ষণ তিনি খেলতেন, পর্দা থেকে চোখ সরানোর উপায় ছিল না। তার কভার ড্রাইভ এখনও চোখে লেগে আছে মনে হয়! ম্যাকগ্রা লি গিলেস্পিকে বারে বারে স্কুপ করতে তিনিই পারেন। এই আশরাফুল ধারাবাহিকভাবে অধারাবাহিক হিসেবে বিখ্যাত ছিলেন ক্রিকেট বিশ্বে। দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং করে কতবার দলকে ডুবিয়েছেন তার শেষ নেই, নাহলে কি আর গড় থাকে ২২! অথচ কি সম্ভবনাময় ই না ছিলেন! অভিষেক টেস্টে কলোম্বোতে ভাস আর মুরালির বলে এমন মার মেরেছিলেন জে বিস্ময়ে আভিভুত মুরালি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরষ্কার ভাগ করে নিয়েছিলেন তার সাথে!! অভিষেক টেস্টে সরব কনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান আশরাফুল প্রথম উড়িয়েছিলেন লাল সবুজের বিজয় নিশান, অভিজাত ক্রিকেট সমাজে।

কিন্তু এই আশরাফুল এখন ঘৃণিত এক নাম! কি করলেন তিনি? কেন জড়িয়ে পড়লেন দুর্নীতিতে? স্পট ফিক্সিং, ম্যাচ ফিক্সিং এর কালি লাগালেন কেন নিজের ও দেশের গায়ে?? যে ম্যাচ নিয়ে সন্দেহ করেছিলো আক্সু, সেই ম্যাচ সাদা চোখে দেখেই পাতানো মনে হয়েছিলো। চিটাগাং কিংসের দেওয়া ১৬০+ টার্গেটে আশরাফুল যেন খেলছিলেন সুনীল গাভাস্কারের প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের মতো! অথচ তার এক ম্যাচ আগেই তিনি অসাধারণ এক সেঞ্চুরি করলেন তিনি!

কি হতে পারতেন, আর কি হলেন! হাহ! আশরাফুল আসলেই বিরাট বড় আক্ষেপের নাম!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

seventeen + 2 =