আশার ফুলের ঝরে পড়া

ঝিঁঝিপোকার ইংরেজি প্রতি শব্দের প্রতি বাংলাদেশীদের অদ্ভুত আবেগ কাজ করে! আমাদের আবেগ, ভালোবাসা সব কিছুর নাম ক্রিকেট।

আমরা পরীক্ষার আগের রাতেও বাংলাদেশের ম্যাচ থাকলে তা দেখতে বসে যাই, আমাদের দিনমজুর ভাইরা পর্যন্ত বাংলাদেশের খেলার দিন তাড়াতাড়ি কাজ শেষে চলে আসে, রিকশাচালক ভাইটি রিকশা থামিয়ে কয়েক ওভার দেখে, বাংলাদেশের খেলার দিনে আগের দিন ভোর থেকে টিকেটের জন্য পুলিশের প্যাঁদানি খেয়েও টিকিট পাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকে স্টেডিয়ামের সামনে! ২০১৫ বিশ্বকাপের সময় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের দিন আমাদের এসএসসি পরীক্ষা ছিলো। আমি বাইরে বের হয়ে দেখি, পোলাপান আমার আগে থেকেই বের হয়ে বসে বসে স্কোর দেখতেছে। সিরিয়াসলি বন্ধুবান্ধব সৃজনশীল লেখা বাদ দিয়ে স্কোর দেখতেছে, অনেকেই আগেভাগে খাতা দিয়ে বাসায় চলে গেছে। এরকম অনেক অদ্ভুতুড়ে, পাগলাটে কাজের উদাহরণ দেওয়া যাবে আমাদের ক্রিকেট আবেগ দেখানোর জন্য।

তো আপনি ক্রিকেটের প্রতি এতো আবেগী হয়ে যখন জানতে পারলেন আপনার ছোটবেলার ‘সুপারহিরো’, আমাদের অনেক প্রথম জয়ের ‘নায়ক’ অনেক ম্যাচে টাকার জন্য স্পট ফিক্সিং করছে তখন আপনার কেমন লাগবে? টাকার জন্য তার অনেক ইনিংস ‘ফুল’ হওয়ার আগেই কলিতে ঝরে গেছে। এমনকি জেমি সিডন্স বললো, ‘পরের ইনিংস ও ডাক মারবে’! ঠিকই আপনি পরের ম্যাচ ডাক মারলেন। আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ফিক্সার ক্রিকেটার এবং আশা করি সংখ্যাটা ‘এক’ই থাকবে। প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও করেছেন তার নিদারুণ অপচয়।

আপনাকে আপনার হঠাৎ উদিত হওয়া ভক্তদের থেকে বেশী সম্মান করতাম আমাদের অনেক প্রথম জয়ের নায়ক হওয়ার জন্য। কিন্তু আবেগের সাথে বেঈমান করলে ক্ষমা করা যায়? যায় না। আপনার এমনিতেই কিছু ভক্ত ছিলো তার উপর শেষদিকে ধরা খাওয়ার পরে সাংবাদিক ডেকে মায়াকান্না করে প্রচুর ভক্ত কামাইছেন!

সম্ভবত আপনি আমাদের ক্রিকেটের নক্ষত্রই ছিলেন না, আমরাই নক্ষত্র ভেবে ভুল করেছি। বাংলাদেশ ক্রিকেটে আরেকজন ‘ফিক্সার’ আর কখনওই যেন না আসে।

@রিফাত এমিল

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

6 − one =