এসি মিলানের মালিকানা নিয়ে চলমান নাটকের কথকতা

এসি মিলানের মালিকানা বিক্রি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কত গুলো ঘটনা, প্রশ্ন ও উত্তরঃ

সাম্প্রতিক সময়ে মিলান ফ্যানরা মারাত্মক রকমের একটা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আর সেটা হল তাদের ক্লাবের মালিকানা বিক্রি সংক্রান্ত জটিলতা। কেউ কেউ হয়ত ভাবছে যে এর ফলে গত কয়েক বছরে মিলানের যে একটা আর্থিক দুর্দশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল তা কাটিয়ে উঠবে আবার কারো মনে সন্দেহ নতুন মালিক আবার কি করে কে জানে কারন অনেকেরই নতুন মালিকদের মধ্যে পরিচয় নিয়ে একটা ধোঁয়াশা বা কেনা নিয়ে টাল-বাহানা পছন্দ হচ্ছেনা। বলা যায় এ নিয়ে ফ্যানবেজ প্রায় দুই ভাগ। গুটিকয়েকজন আবার আছে যে ভাবছে ক্লাব আসলেই বিক্রি হল কিনা। এবং হয়ত একমাত্র আমিই ভাবছি যে ক্লাব সেল হোক বা না হোক যদি আগের ম্যানেজমেন্ট এ বড় রকমের পরিবর্তন বিশেষ করে মহামান্য CEO আন্দ্রেয়া গালিয়ানি যদি অবসর না নেয় তাহলে এই মালিকানা চেঞ্জে আদতে ক্লাবের কোন লাভই হবে না। কারন অনেকেই ভাবতে পারে যে নতুন মালিক কাড়ি-কাড়ি টাকা ঢেলে বুঝি দিনে-দুপুরে ক্লাবের অবস্থা পরিবর্তন করে ফেলবেন!!!! কিন্তু বাস্তবতা অনেক কঠিন। কারণ দিনে দিনে ক্লাবের অবস্থা যে রকম শোচনীয় অবস্থায় পৌঁছেছে তা একদিনে পরিবর্তন এক কথায় অসম্ভব। কারণ অলরেডি ক্লাবের ডিল ক্লোজিংয়ে নতুন মালিকদের পেশাদারিত্ব প্রশ্নের মুখে পরেছে। কিছু কারণে এই প্রশ্নের উদ্ভব ফ্যানদের মধ্যে। চলুন দেখে নেওয়া যাক কারণগুলোঃ

  • নতুন মালিকদের নাম প্রকাশ না করা
    রিসেন্টলি যদিও কয়েকটি বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট নাম প্রকাশ করেছে তারপরেও এতদিন এই নামগুলো গোপন রাখায় সমর্থকদের বেশিরভাগই ক্ষুদ্ধ। কে কিনছে প্রানের ক্লাব? তারা কি ক্রিমিনাল নাকি দুর্নীতিবাজ ব্যাবসায়ী? যদি তাদের টাকায় কালো চাপ না থাকে তাহলে নাম লুকিয়ে রেখেছে কেন? তাদের পক্ষ থেকে একবার বলা হয়েছিল যে যেহেতু এই কনসোর্টিয়াম এর সাথে চীনা সরকারের যোগসূত্র আছে তাই কিছু ব্যাপার গোপন না থাকলে শেয়ার মার্কেটে দাম কমে যেতে পারে। এবং সরকার বিদেশের স্বনামধন্য একটি ক্লাবের মালিকানা কিনে নিতে যাচ্ছে বিশেষ করে চীনের মত একটি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেটা অকল্পনীয় এতে রাজনৈতিক ভাবে তাদের ইমেজের অনেক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যার কারণে কথা দিয়েও একেবারে প্রথম দিকে ক্লাব কেনায় এত গড়িমসি করে। এরপরেও প্রশ্ন থেকে যায় তাহলে শেষ পর্যন্ত কনসোর্টিয়াম এই ডিলে কেন এত ঝুকি নিয়ে রাজি হল? যখন বারবার মিডিয়ার সামনে এই একি প্রশ্ন করা হয়েছে তারা আরও ১০০ মিলিওন দিয়ে ফিনিনভেস্ট এর মুখ বন্ধ রেখেছে।
    এবং এরপরি তারা দাবি করে বসে যে বারলুসকনি তাদের নাম আগে থেকেই জানেন। তাহলে বারলুস্কনি কেনই বা আগে এ ব্যাপারে মিথ্যা বলে গেছেন?? এমনকি সিরি-আ কমিটি এবং এফআইজিসির কাছেও তারা সমস্ত ইনভেস্টোরদের নাম গোপন রেখেছিল যেখানে সিরি-আর ক্লাব হিসেবে তাদেরকে ক্লাবের নাড়ি-নক্ষত্র জানানো বাধ্যতামূলক। এটা তাদের প্রফেশনালিজম এর দুর্বলতাই চিহ্নীত করে। যদিও অবশেষে পুরো ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের সবার নামই প্রকাশ করা হয়েছে মিডিয়া আর ফ্যানদের সামনে। তাদের নাম এবং স্ব-স্ব কোম্পানির বিবরণ নিম্নে দেওয়া হলঃ
    মিলানের মালিকানা যে কোম্পানির হাতে থাকবেঃ
    সাইনো ইউরোপ(সব ইনভেস্টোরদের কম্বাইন্ড কনসোর্টিয়াম)।
    ১. চেংজং কর্পোরেশন যার প্রধান হান লি এবং চেয়ারম্যান লি ইয়ংহং
    ২. হাইশিয়া ক্যাপিটাল
    ৩. হুয়াংশি ঝংব্যাং স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট
    ৪. জিলিন ইয়ংডা গ্রুপ
    ৫. চায়না ইন্ডাস্ট্রিয়াল ব্যাংক, ব্যাংক অফ গুয়াংঝু ও চায়না ঝেশাঙ্ক ব্যাংক
    ৬. চায়না হিয়ারিং এসেট ম্যানেজমেন্ট, জিঙ্গে ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও রেন্তাই ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ
    ৭. চায়না হেবেই গ্রুপ
    যাদের সমস্ত সম্পত্তি এবং ব্যাংক ব্যালেন্সের মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩ ট্রিলিওন ডলার
ভাগ্য কি বদলাবে মিলানের?
  • বারে বারে ডিল ক্লোজিং এর ডেট পেছানো
    অলমোস্ট ২০১৫ এর শেষের দিকে একটি চাইনিজ ইনভেস্টোরদের গ্রুপ মিলান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে করে এবং ২০১৬ তে অফিসিয়ালি মিলানের মালিক ফিনিনভেস্ট এর কর্মকর্তাদের কাছে বিড করার মধ্য দিয়ে নেগোসিয়েশন শুরু করে। তাদেরকে কাগজ-পত্রে সময় দেওয়া হয় ৪৫ কার্যদিবস। কিন্তু এই সময় শেষ হওয়ার পর তারা আরো সময় চায় এবং কয়েকবার তারা ডেট পিছিয়ে নিয়ে যায়। অবশেষে কনসোর্টিয়ামের একটি সিস্টার ভেন্ডোর গ্রুপ আগস্টের ৫ তারিখ ১৫ মিলিওন ডিপজিট রেখে কন্ট্রাক্ট সাইন করে যে ৩৫ দিনের মধ্যে বাকি ৮৫ মিলিওন দেওয়া হবে এবং বছরের শেষের দিকে বাকি টাকাটা দিয়ে তারা ক্লাব কেনার সব ফর্মালিটি শেষ করবে। প্রথমে সেই দিন হওয়ার কথা ছিল অক্টোবরে, তারপর নভেম্বরে, ডিসেম্বরে, জানুয়ারির ৩ এরপর ১৩ তারিখ এবং সবশেষে মার্চে! এতদিনে কোন মহিলা যদি কন্সিভ করা অবস্থায় থাকতো তাহলে তার পেটের বাচ্চাও এতদিনে পৃথিবীর আলো দেখে ফেলত। এই সাত মাসে সর্বশেষ তাদের নতুন এক্সকিউজ হচ্ছে গভর্নমেন্ট অ্যাপ্রোভালের জন্য সম্পূর্ণ টাকাটা তারা পে করতে পারছেনা। এটা যদি সত্যি হয় তাহলে আগস্ট, সেপ্টেম্বর বা ডিসেম্বর মাসে এই যুক্তি দেখাতে তাদের বাঁধা কোথায় ছিল??? আর তারা যদি জানতোই যে চীনের বাইরে এত বড় টাকার ডীল(প্রায় ৭৮৪ মিলিওন) এর অ্যাপ্রোভাল পেতে এত কাঠখড় পোড়াতে হবে তাহলে মাত্র ৪৫ দিনের কথা কেন ফিনিনভেস্টের কর্মকর্তাদের দিয়েছিল। আর তাই যদি হত সানিং গ্রুপ কীভাবে এক সপ্তাহেরও কম সময়ে ২৭০ মিলিওনের মত এত বড় একটা ডিল স্মুথলি কমপ্লিট করল? তারা ক্লেইম করেছিল যে সানিং একটি প্রাইভেট কম্পানি যেখানে সাইনো-ইউরোপ চায়না সরকারের যোগসূত্র আছে। কিন্তু পরবর্তীতে প্রকাশ পায় যে এই নিওম প্রাইভেট-পাব্লিক সব কোম্পানির জন্যই প্রযোজ্য। তারা একটি স্পোর্টস ক্লাব কিনতে এসে যে প্রফেশনালিজম দেখানর কথা তা না দেখিয়ে আর ১০ টা সাধারন ব্যাবসায়ীর মতই যেরকম ছ্যচ্রামি করে চলেছে তাতে তারা ক্লাবের প্রতি কতটা দায়বদ্ধ তা নিয়ে সন্দেহ জাগে।

 

  • আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন
    যদিও চাইনিজদের টোটাল ওর্থ নিয়ে সন্দেহ থাকার কথা না তারপরেও কিস্তির টাকা সময়মত পরিশোধ না করায় অনেকেই এটা ভেবে বসেছে যে এত বিশাল পরিমাণ যে অর্থের কথা আমরা ফ্যানরা ভেবে রোমাঞ্চিত হয়েছি তা আসলেই তাদের দেওয়ার ক্ষমতা আছে কিনা। বিশেষ করে প্রথম ১০০ মিলিওন দেওয়ার পর পরের ১০০ মিলিওন যেটা ডিসেম্বরের শেষের দিকে দেওয়ার কথা ছিল তা ফিনিনভেস্ট সময়মত পায়নি এবং এরকম ঘটনা আরও কয়েকবার হয়েছে যদিও প্রফেশনালিজম শো করা হয় না বলে ফিনিনভেস্ট সরাসরি কখনই অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেনি অন্তত এ ব্যাপারে। আর তারা যদি ৩-৪ মাসের ব্যাবধানে ২০০ মিলিওন চায়না থেকে এত শর্ট নোটিশে বের করতে পারে তাও নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার মত একটা সিলি ব্যাপারে তাহলে এই ১.৫ বছরে বাকী টাকাটা পে করা তাদের জন্য কি খুব কঠিন কিছু ছিল?? নাকি তাদের ফুল অ্যামাউন্ট এখনও রেডি হয় নাই? নাকি সব মালিকরা একমত না। প্রতি বছর যেখানে চায়না থেকে বিলিওন ডলার বাইরে যাচ্ছে স্পোর্টস রিলেটেড কাজে সেখানে এই প্রশ্ন ওঠা খুব একটা অমূলক নয়। বারলুস্কনির সাথে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ব্যাপারটিও এখানে হাস্যকর শোনায়।

  • ইনভেস্টোরদের দিকে পূর্বের কিছু অভিযোগ এবং অনভিজ্ঞতা
    যদিও এখন সবাই জেনে গেছে যে মিলানের মালিক হতে যাচ্ছে সাইন ইউরোপের মালিক এবং চেয়ারম্যান হান লি ও লি ইয়ংহং। বাকিদের নামও বলা হয়েছে উপরে। তবে কিছু ইতালিয়ান মিডিয়া দাবি করে যে এদের মধ্যে কেউ কেউ চায়নায় আর্থিক কেলেঙ্কারির সাথে যুক্ত ছিল। বিশেষ করে লি ইয়ংহং যে চার বছর আগে অবৈধ ভাবে স্টক মার্কেটে শেয়ার সেল করার দায়ে অভিযুক্ত। এমন একজন লোকের কাছে মিলানের মত ক্লাব কীভাবে নিরাপদ?? চায়নায় যেখানে তার বিরুদ্ধে এত বড় অভিযোগ সে কীভাবে প্রতি বছর ক্লাবের ট্রান্সফার এর জন্য রাফ মানি ম্যানেজ করবে যেখানে এসমস্ত ক্ষেত্রে চায়নায় আইন-কানুন খুবই কড়া। এবং তার মত লোক কি আসলেই এত বড় একটা ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের প্রধান?? আর পূর্বে কখনও তার বা তার পরিচালিত কনসোর্টিয়াম এর মেম্বারদের কোন রকম ফুটবল ক্লাব চালানোর অভিজ্ঞতা ছিলোনা যেখানে ইউরোপে মিলানের মত এত বড় ক্লাব সঠিকভাবে চালানো খুবই দক্ষতার ব্যাপার। বড় ক্লাব গুলো এ ব্যাপারে এক বিন্দুও ছাড় দেয় না। কারণ ক্লাবের সফলতার সবচে বড় অংশই লুকিয়ে থাকে কতটা দক্ষ হাতে ক্লাবটা পরিচালিত হচ্ছে বিশেষ করে ক্লাবের সেরা প্লেয়ার ধরে রাখা, কন্ট্রাক্ট রিনিউ, প্লেয়ার কেনা-বেচা এসমস্ত ক্ষেত্রে আনাড়িপনা ক্লাবকে শেষ করে দিতে পারে বা জায়ান্টদের সাথে লড়াইয়ে মুখ থুব্রে পড়বে কেননা ইউরোপিয়ান ফুটবল পৃথিবীতে সবচে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল। তাই তিনি কোন রূপ অভিজ্ঞতা ছাড়াই মিলান পরিচালনা শুরু করলে তা আখেরে ক্লাবের সর্বনাশ দেকে আনে কিনা এসমস্ত প্রশ্ন ফ্যানদের মাথায় আসলে তাদের কে খুব একটা বেশি দোষও দেওয়া যাবে না।

 

  • ট্রান্সফার উইন্ডোতে ব্যর্থতা
    নতুন মালিকদের প্রথম এবং প্রধান প্রতিজ্ঞাই ছিল মিলানকে তার পূর্বের গউরব ফিরিয়ে দেয়া। এবং এই শর্তের অন্যতম ভিত্তি ছিল ভাল প্লেয়ার নিয়ে আসা। দুঃখজনক ভাবেই তারা সেখানে শতভাগ ব্যার্থ। দু-দুটি ট্রান্সফার উইন্ডোতে মিলান কোন প্লেয়ার কিনতে ব্যার্থ হয়েছে যা লীগের মাঝপথে ক্লাবকে চরমভাবে ভোগাচ্ছে। যখন কিছু ফ্রি ট্রান্সফার, লোনি এবং কিছু ইয়াং প্লেয়ারদের নিয়ে কোঁচ মন্তেয়া দারুন কিছু করে দেখাচ্ছিলেন সেখানে ব্যাক আপ না থাকায় মৌসুমের মাঝখানে এসে ইঞ্জুরি আর নিষেধাজ্ঞায় মিলান সর্বশেষ ৫টি ম্যাচেই হারের মুখ দেখেছে। হঠাত দেখা যায় দারুন কোন প্লেয়ার এর দিকে তারা হ্যাট বাড়িয়েছে এবং কদিন পরই শোনা যায় সেই প্লেয়ার অন্য কোন ক্লাবে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গেছে যেখানে স্কাউটিংটা মিলানই আগে শুরু করে। যেটা দলের ট্রান্সফার রিলেটেড রেস্পন্সিবিলিটি এবং অনভিজ্ঞতার সিম্বল। অন্তত দুই ট্রান্সফার উইন্ডোতে এতটা নির্লিপ্ত না থাকলে আজ দলের এ ভগ্নদশাটা থাকতোনা। ফলে দেখা যাচ্ছে গ্যালিয়ানি এরার যেসকল অসঙ্গতি(যেটা মিলানকে এই অবস্থায় এনে ফেলেছে) ছিল তা এখনও বিদ্যমান থাকার সম্ভাবনা প্রবল। এই ধরনের অপেশাদার আচরণ যদি শুরুতেই দেখা দেয় তাহলে পরবর্তীতে মিলানের কপালে কতটা দুঃখ লেখা আছে তা চিন্তা করে অনেক লাল-কালো ফ্যানই এই ডিলে তাই সন্তুষ্ট হতে পারছেনা

 

  • বারলুস্কনির মানি লন্ডারিং
    যদিও এই ডিল ক্লোজিঙে ব্যার্থতার পুরো সুফলই ভোগ করছে বারলুস্কনি গং আর ফিনিনভেস্ট যার সহযোগী হিসেবেই সাইনো-ইউরোপ আগের ব্লান্ডারগুলো স্বেচ্ছায় ঘটিয়েছে। আগের প্রতিটা ফ্যাক্টোর আর বারলুস্কনির প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় দুর্নীতি একটা দিকেই নির্দেশ করে আর তা হল মানি লন্ডারিং যা একাধিকবার বারলুস্কনির উপর উঠেছিল। কারণ একসাথে এত বিশাল পরিমাণ অর্থ কখনই বারলু জাস্টিফাই করতে পারবেনা ট্যাক্স পে করা ছাড়া। দেশের বাইরেও পাঠাতে পারবেনা। ফলে সমুদয় অর্থ কোন রকম ঝামেলা ছাড়া মেরে দেওয়ার জন্মই সে এত নাটকের জন্ম দিয়েছে যাতে তাকে সাহায্য করেছে সাইনো-ইউরোপ। এবং সফল ভাবেই সাইনো-ইউরোপ এবং বারলুস্কনি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান এবং নিউট্রালাইয করেছে তাদের খোঁড়া-যুক্তিগুলো দিয়ে। কারণ আমরা লাল-কালো ফ্যানরা জানি দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং ইত্যাদি ক্রাইমে তার হাত রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা অবস্থা থেকেই পাকা।

যদিও অবশেষে সব অনিশ্চয়তা কেটে যাচ্ছে বলে আশা করা যায়। কারণ সাইনো-ইউরোপ নিজেরাই রিসেন্টলি মিডিয়ার সামনে ডিল ক্লোজিং এর ডেট এগিয়ে আনবে বলেছে। নতুন স্টেডিয়াম বানানোর কাজে হাত দিয়েছে এবং ইউথ একাডেমিতে ৩০০ মিলিওন বিনিয়োগ করার পরিকল্পনায় হাত দিয়েছে যেটা নতুন মিলান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খুবই জরুরী। এবং এই সিদ্ধান্ত গুলো ক্লাবকে নিয়ে কনসোর্টিয়ামের দূরদর্শী চিন্তাভাবনার প্রতিফলক। সুপার কোপার জন্য বোনাস দেওয়ার মাধ্যমে প্লেয়ারদের উজ্জীবিত রাখার প্রচেষ্টাকেও অন্তত আমি অনেক পজিটিভ্লি নিয়েছি। কিন্তু শুরুতে তাদের অদূরদর্শিতা আর অপেশাদার আচরনের জন্য লীগের মাঝপথে মিলানের এখন যে দুর্দশা তার দায়ভার থেকে তারা কখনই মুক্ত হতে পারবেনা।বিশেষ করে যারা ডিলের প্রতিটি পদক্ষেপ এর পরবর্তী কন্সিকুয়েন্সগুলো মিলানের ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। এবং আমি আশংকা করছি সামনের মাসে ক্লোজিং এর আগে যেন আর কোন ঝামেলা না হয়। নতুন মালিক এবং ম্যানেজমেন্ট প্রতিশ্রুতিমত মিলানকে তার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনুক সবার মত আমারও একি প্রত্যাশা। যদিও আমি রুপকথায় বিশ্বাস করিনা কারণ কথায় আছে “ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়।”

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

5 × four =