ক্রিকেট বিশ্বকাপকে চিরদিনের মত বিদায় জানালেন যারা…

অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ের দ্বারা ২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপ আসর অবশেষে ইতি টানল। অনেক অনেক ঘটনার জন্ম দিয়েছে এবারের বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের ইতিহাসের প্রথম ডবল সেঞ্চুরি, দ্রুততম দেড়শ রান, বিশ্বকাপের মত আসরে কোন দলের ৪০০ এর বেশি রান…কি ঘটেনি এবারের বিশ্বকাপে? বেশিরভাগ ঘটনাই আনন্দ বয়ে এনেছে। তবে সেই সাথে এইসব রেকর্ডের পিছনের অনেক কারিগরকে যে পরবর্তী বিশ্বকাপগুলোতে আর দেখা যাবে না সে ভাবনাও অনেকের মনে একরাশ দুঃখ বয়ে এনেছে বৈকি। এবার আসুন একটু শুনে নেই তাঁদের কথা।

নিজের শেষ ম্যাচে দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়ছেন মাইকেল ক্লার্ক

প্রথমেই শুরু করা যাক এবারের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক-কে দিয়ে। বয়স ৩৩ হয়ে গেছে কিন্তু ব্যাটিং টা ঠিক আগের মতই ক্ষুরধার। একদিনের ম্যাচে ব্যাটিং গড় প্রায় ৪৫! অধিনায়কত্ব চিরাচরিত অসিদের মত অ্যাগ্রেসিভ স্টাইলের। চাইলে দলকে আরও বছরখানিক নেতৃত্ব দিয়ে যেতে পারতেন অনায়াসেই। কিন্তু সে পথ আর মাড়ালেন না তিনি। ফাইনালের আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে এটা হতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তাঁর শেষ একদিনের ম্যাচ। আর সেই ম্যাচে পাহাড়সম চাপের মধ্যে ৭২ বলে ৭৪ রানের অসাধারন একটি উইনিং ইনিংস খেলে দলকে বিশ্বকাপ জিতিয়েই তবে বীরের মত অবসরে গেলেন এই অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি। রঙিন পোশাকে আর তাই কখনই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাঠ মাতাতে দেখা যাবে না ‘pup’ কে।

ড্যানিয়াল ভেট্টোরিকে আর দেখা যাবে না রঙিন পোশাকে

এবার আসুন ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডের লেফট-আর্ম অর্থোডক্স স্পিনার ড্যানিয়াল ভেট্টরির দিকে একটু তাকাই। নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে এই ব্যাক্তিটির অবদান বলে শেষ করা যাবে না। টেস্টে ইতিহাসের অষ্টম খেলোয়াড় হিসেবে ৩০০০ এর উপর রান এবং ৩০০+ উইকেট আছে তাঁর দখলে। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ২৯১ টি একদিনের ম্যাচ খেলেছেন। মাঝে ২০১১ বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্বও দিয়েছিলেন তিনি। ওই বিশ্বকাপের পর তিনি একদিনের ম্যাচ থেকে অবসর নেন। কিন্তু পরে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড ২০১৫ বিশ্বকাপে তাঁকে আবার ফিরিয়ে আনে। আর তার ফলও তারা  পেয়েছে হাতেনাতে। এবারই প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠে নিউজিল্যান্ড। তবে এই বিশ্বকাপ শেষে ঠিকই সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিচ্ছেন তিনি। আজকের পর থেকে কোন ধরনের ক্রিকেটেই তাই আর দেখা যাবে না এই অসাধারন খেলোয়াড়টিকে।

শ্রীলঙ্কার এই দুই কিংবদন্তিকে অনেকদিন মনে রাখবে ক্রিকেটবিশ্ব

আরকজন ক্রিকেটার যাকে ক্রিকেট বিশ্ব খুব মিস করবে তিনি হলেন শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা। শ্রীলঙ্কার হয়ে একদিনের খেলায় ১৪,২৩৪ রান নিয়ে তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান স্কোরার তিনি। কিপিংয়ে  ৫০১ টি ডিসমিসাল নিয়ে একদিনের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ডিসমিসালও তাঁর। এবারের বিশ্বকাপেও তিন তিনটি সেঞ্চুরি করেছেন। হাতে যে ধার অবশিষ্ট আছে তা দিয়ে চাইলে খেলাটা আরও কয়েক বছর চালিয়ে যেতে পারতেন। তবে ভবিষ্যতের কথা ভেবেই হয়ত একদিনের ক্রিকেট থেকে চিরদিনের জন্য বিদায় নিয়ে নিলেন ৩৭ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি খেলোয়াড়। ওইদিকে শ্রীলঙ্কারই আরেক কিংবদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধনেও এই বিশ্বকাপের দ্বারা সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে ৩৮ বছর বয়সী তিলাকারত্নে দিলসান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও এটা অনেকটা নিশ্চিতভাবেই বলে দেয়া যায় যে ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে রঙিন জার্সিতে শ্রীলঙ্কার হয়ে তাঁকে মাঠ মাতাতে দেখা যাবে না আর।

মিসবাহ এবং আফ্রিদির শেষ বিশ্বকাপ ছিল এটা

তারপর তাকান পাকিস্তানের অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকের দিকে। বয়স ৪০ পার হয়ে গেছে। টেস্ট এবং একদিনের ম্যাচ – উভয় ফরম্যাটেই গড় চল্লিশের উপর। দলের জন্য এপর্যন্ত কম করেননি। পুরো দল বিপর্যস্ত হয়ে গেলেও তিনি পাহাড়ের মত অটল ছিলেন সবসময়। হয়তোবা পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সবচেয়ে লয়্যাল খেলোয়াড়দের একটা তালিকা করা হলে নিঃসন্দেহে তাঁর নামটাই সবার উপরে থাকবে। তো এই ব্যাক্টিটিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন ২০১৫ বিশ্বকাপের দ্বারা। আর ওইদিকে আরেক পাকিস্তানি কিংবদন্তি শহীদ আফ্রিদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন এই বিশ্বকাপের দ্বারা।

জিম্বাবুয়েকে ফাঁকা করে অবসরে চলে গেলেন ব্রেন্ডন টেলরও

এঁরা ছাড়াও এবারের বিশ্বকাপের ৪র্থ সর্বোচ্চ রান স্কোরার জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেলর মাত্র ২৯ বছর বয়সেই একদিনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছেন। জিম্বাবুয়ে তাঁকে অদুর ভবিষ্যতে নিশ্চিতভাবেই খুব মিস করবে। ওইদিকে নিউজিল্যান্ডের গ্রান্ট এলিয়ট, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, নাথান ম্যাককালাম; অস্ট্রেলিয়ার ব্র্যাড হাডিন, জর্জ বেইলি, মিচেল জনসন, শেন ওয়াটসন; ইংল্যান্ডের ইয়ান বেল, জেমস অ্যান্ডারসন; ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল, মারলন স্যামুয়েলস; আয়ারল্যান্ডের অ্যালেক্স কুসাক, ও’ব্রায়ান ভাতৃদ্বয়; ভারতের মাহেন্দ্র সিং ধোনী এবং বাংলাদেশের মাশরাফি বিন মর্তুজা-রা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে হয়ত কিছু বলেননি, কিন্তু তাঁদের বয়সের দিকে তাকালে বলতে হবে যে এঁদের ৯৫ ভাগ খেলোয়াড়দেরই ২০১৯ বিশ্বকাপের মঞ্চে হয়তো আর দেখা যাবে না!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four + twenty =