বার্নাব্যুতে রিয়ালের জন্য আরেকটি দুঃস্বপ্ন রচনা করল শালকে ০৪

সবকিছুই কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। হচ্ছে না। রিয়াল মাদ্রিদ বারবার খেই হারিয়ে ফেলছে। এই দলটাই যে গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে তা যেন কল্পনাই করা যাচ্ছে না। লা লিগায় পরপর দুই ম্যাচে পয়েন্ট খোয়ানো, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে টানা পরাজয়, বিলবাও-র মত ছোটখাটো দলের বিপক্ষে হার; সেইসাথে যোগ করুন ঘরের মাঠে শালকের মত মাঝারি মানের একটি দলের বিপক্ষে ৪ গোল হজম এবং রীতিমত আরেকটি পরাজয়। কেন এমন হচ্ছে?

রিয়ালের ৪ গোল খাওয়ার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান এই ব্যাক্তিটির

ভাগ্য ভাল যে গতকাল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ফর্মে ছিলেন। নয়ত চার বছর পর আবারও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ত রিয়াল মাদ্রিদ। পর্তুগিজ উইঙ্গারের জোড়া গোলে এ যাত্রা পার পেয়ে গেল লস ব্লাঙ্কোসরা।

খেলা শুরু হয়েছিল ভিন্নমাত্রার এক পরিবেশে। শালকে ঠিক শালকের মত ছিল না, নিজেদের মত ছিল না রিয়ালও। দুই দলই তাদের স্রোতের বিপরীতে খেলল। সুবাদে ম্যাচের ২০ মিনিটের মাথায় বার্নাব্যুকে নীরব বানিয়ে দিলেন শাল্কের ক্রিস্টিয়ান ফুচস। তবে এই গোলে যতটা না তাঁর অবদান, ওর চেয়ে বেশী অবদান রেখেছেন জনাব ইকার ক্যাসিয়াস! যেভাবে তিনি বল ঠেকানোর বদলে তা ঠেলে নিজ জালে পাঠালেন তার জন্য তিনি বিশেষ পুরষ্কারের দাবিদার।

প্রথম গোলের পর রোনালদোর উদযাপন

প্রথম গোল খেয়ে এবার মাদ্রিদ আশঙ্কায় পড়ে গেল না জানি আরেকটি দুঃস্বপ্নের স্বীকার হতে হয়। তবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এদিন পণ করেই মাঠে নেমেছিলেন। তাঁর সমালোচকদের মুখে জুতার বাড়ি দেবার জন্যই মনে হয় পেনাল্টির বদলে কর্নার থেকে ক্রুসের পাসে দুর্দান্ত রোনালদোময় এক হেডে দলের প্রথম গোল করলেন তিনি। দল সমতায় ফিরল। তবে তা বেশিক্ষণের জন্য নয়। ৪০ মিনিটের মাথায় ক্লাস ইয়ান হান্টেলার শালকের স্কোরলাইন ২-১ করে দিলেন। এবারও বাজে ক্লিয়ারেন্সে যতটা না ক্যাসিয়াসের দোষ ছিল তার থেকে বেশী ছিল পেপের দোষ। গত কয়েক ম্যাচে এই পর্তুগিজ ডিফেন্ডারের পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছে যে তাঁর উচিত ফুটবল খেলা ছেড়ে দিয়ে বাসায় বসে পেপের বাগান দেয়া।

হেডে দ্বিতীয় গোল করে সমালোচকদের মুখে জুতার বাড়ি মেরেছেন ক্রিস্টিয়ানো

তবে ৪৫ মিনিটের সময় আবারও দলের সেভিওর হয়ে এলেন পর্তুগিজ রাজপুত্র ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এবার ফ্যাবিও কোএন্ত্রাওয়ের ক্রসে অসাধারণ এক হেড করে দলকে সমতায় ফেরালেন তিনি। প্রথম হাফে ২-২ সমতায় খেলা শেষ হল।

দ্বিতীয় হাফে ৫২ মিনিটের সময় রিয়ালকে এগিয়ে দিলেন করিম বেনজেমা। তখন ৩-২ গোলে এগিয়ে গেল রিয়াল মাদ্রিদ। বার্নাব্যুতে স্বস্তির বাতাস বয়ে গেল। কিন্তু তা মাত্রই ৫ মিনিটের জন্য। ৫৭ মিনিটের মাথায় সেইনের গোলে সমতায় ফিরল শাল্কে এবং এবারও যথারীতি অ্যাসিস্ট করলেন ইকার ক্যাসিয়াস। সেইনের দুর্বল শট দারুণভাবে জালে চলে গেল আর তা চেয়ে চেয়ে উপভোগ করলেন এই স্প্যানিশ গোলরক্ষক। অবশেষে ৮৪ মিনিটের সময় হান্টেলারের ২য় গোলে রিয়ালের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মত নিজেদের মাঠে ৪ গোল খাওয়ার ইতিহাস তৈরি হয়ে গেল। এর আগেরটি ছিল আরেক জার্মান দল বায়ার্ন মিউনিখের।

ম্যাচে হান্টেলার দুই গোল করেন

ম্যাচের শেষদিকে ক্যাসিয়াস ভাল দুটি সেভ করেছেন। কিন্তু দিনশেষে স্বাভাবিকভাবেই কেউ সেটা মনে রাখছে না। কারন শাল্কের তিন-তিনটি গোলে তাঁর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ অবদান বেশ ভালমতোই ছিল। আর ওইদিকে রিয়াল মাদ্রিদকে খেলা শিখিয়ে দিল শালকে। আরেকটু স্পেসিফিকভাবে বলতে গেলে শাল্কের আনকোরা তরুন প্লেমেকার ম্যাক্স মেয়ার। ১৯ বছর বয়সী এই ট্যালেন্ট পুরো ম্যাচ জুড়েই এমন দুর্দান্ত ছিলেন যে একসময় মনে হচ্ছিল তিনি বার্নাব্যুর মাঠে পাবলো পিকাসোর ড্রইং কিট নিয়ে নেমেছেন।

পুরো ম্যাচ জুড়েই ম্যাক্সি মেয়ার ছিলেন অসাধারণ

বরাবরের মতই গত ম্যাচেও নিষ্প্রভ ছিলেন ১০০ মিলিয়ন ম্যান গ্যারেথ বেল। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে যে বেলের আগামী মৌসুমে মাদ্রিদ ছাড়াটা প্রায় নিশ্চিত। আর আরেকদিকে জনাব স্যামি খেদিরা গতকাল যা খেলা দেখিয়েছেন তাতে তাঁর ক্লাব ছাড়াটাও শুধুই সময়ের ব্যাপার। এতকিছুর মধ্যেই মাদ্রিদিস্তাদের জন্য একমাত্র সুসংবাদ হল মদ্রিচের মাঠে ফেরা। দীর্ঘ ৪ মাস পর ম্যাচের ৫৮ মিনিটের সময় দলের হয়ে মাঠে নেমে খেদিরার থেকেও বেশী টাচ দিয়েছেন তিনি! কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত শাল্কের আক্রমণ থেকে মাদ্রিদ তাদের ডুবন্ত জাহাজটি আর রক্ষা করতে পারেনি।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

nine + sixteen =