‘এলিট’ গ্রুপে যায়গা করে নিলেন ইস্কো-ডিসকো!

রিয়াল মাদ্রিদ দলে ‘দ্য আনটাচেবলস’ নামের একটা গ্রুপ আছে। আরেকটু পরিষ্কার করে বলতে গেলে অ্যানচেলত্তি মাদ্রিদে এসে এই গ্রুপটি তৈরি করেছেন। এই গ্রুপের মেম্বারদের প্রিভিলেইজ হল গিয়ে তাঁরা যদি খেলার জন্য ফিট থাকেন তাহলে তাঁরা অবশ্যই প্রথম একাদশে খেলবেন তা সেখানে যতই ‘ব্যাকআপ’ থাকুক না কেন। অর্থাৎ তাদের গায়ে কোনভাবেই ‘সাবস্টিটিউট’ বা ‘ব্যাকআপ’ খেলোয়াড়ের তকমা লাগানো হবেনা। তো এতদিন ধরে এই এলিট গ্রুপের সদস্য ছিলেন মাত্র তিনজন। সংক্ষেপে BBC খ্যাত এই ত্রয়ী হলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, করিম বেনজেমা এবং গ্যারেথ বেল। অ্যানচেলত্তির কথা ছিল একটাই, “এই তিনজন ফিট থাকলে যতকিছুই হোক না কেন এরা নিয়মিত প্রথম একাদশে খেলবে”

 এতক্ষণ ধরে এসব বলার উদ্দেশ্য হল যে এবার এই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। গত পরশুই এই ‘এলিট’ গ্রুপে আরেকজন খেলোয়াড়ের নাম যুক্ত হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রে অ্যানচেলত্তি সোজাসাপ্টা বলে দিয়েছেন, “সে যদি এমন ঝলক ধরে রাখতে পারে তাহলে সে নিয়মিতই খেলবে”। আর সেই খেলোয়াড়টির নাম হামেস, মদ্রিচ বা ক্রুস না; খেলোয়াড়টির নাম ইস্কো অ্যালকারন!

তাঁর খেলায় অ্যানচেলত্তি এতটাই মুগ্ধ যে তিনি তাঁকে বিবিসির আসনে বসিয়ে দিয়ছেন। ‘দ্য আনটাচেবলস’ নামক এলিট গ্রুপে যায়গা দিয়ে দিয়েছেন। অবশ্য যায়গা না দিয়ে উপায়ও যে ছিল না! এই সিজনের শুরু থেকেই তিনি যে ঝলক দেখাচ্ছেন তাতে এটা তাঁর একরকম প্রাপ্যই ছিল। মদ্রিচের ইঞ্জুরির আগ পর্যন্ত (১৬ নভেম্বর পর্যন্ত) দলের মোট প্লেয়িং মিনিটের ৫৪ শতাংশ সময় মাঠে কাটিয়েছেন তিনি (১৯ ম্যাচে ১৭১০ মিনিটের মধ্যে মোট ৯২০ মিনিট)। আর মদ্রিচের ইঞ্জুরির পর তো দলের মোট খেলার ৮৬ শতাংশ সময়ই মাঠে ছিলেন এই স্প্যানিশ গোল্ডেন বয় (অর্থাৎ ২১ ম্যাচে ১৮৯০ মিনিটের মধ্যে ১৬২১ মিনিট খেলেছেন তিনি)। এর সাথে আবার যোগ করুন তাঁকে নিয়ে একমাত্র রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিপক্ষের মাঠে রুটিনমাফিক মাতামাতি, স্তব এবং স্ট্যান্ডিং ওভেশান!

অ্যানচেলত্তির কাছে ইস্কো এখন ‘আনটাচেবল’!

“ইস্কোর চাইলে মদ্রিচের মতই খেলতে পারে” – মদ্রিচের ইঞ্জুরির পর আচমকা এমনটাই বলে বসেছিলেন রিয়াল বস কার্লো অ্যানচেলত্তি। একথা তিনি বেশ কনফিডেন্সের সাথেই বলেছিলেন কারন মিলানের কোচ থাকা অবস্থায় পিরলো এবং সিডর্ফকে নিয়েও তিনি একই কাজ করেছেন। ইস্কো কোচের ম্যাসেজ ভালভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন। আর তাইতো পরবর্তীতে নিজের খেলাটাকে সম্পূর্ণ অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। যে ইস্কো কিনা আগে ডিফেন্স জিনিসটাই বুঝতেন না সেই ইস্কোই পরে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ সময় প্রতিপক্ষের পা থেকে বল রিকভার করেছেন! প্রতি ১২ মিনিটে ১ বার। তাঁর উপরে আছেন কেবলমাত্র রিয়ালের ‘প্রফেসর’ এবং ‘আয়রন-ম্যান’ খ্যাত জার্মান মিডফিল্ডার টনি ক্রুস। তিনি প্রতি ১১ মিনিটে ১ বার প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়েছেন।

নিঃস্বার্থতা, ট্যাক্টিক্যাল অ্যাওয়ারনেস এবং ‘মনস্টার’ লেভেলের স্কিল – এই তিনের মিশেল দিয়ে তিনি শুধু অ্যানচেলত্তিরই নন বরং পুরো মাদ্রিদ কম্যুনিটির মন জয় করে নিয়েছেন। আর এতসবে মুগ্ধ হয়েই তাঁকে ‘নন–নেগোশিয়েবল’ খেলোয়াড়দের রেয়ার এই গ্রুপে উঠিয়ে দিয়েছেন কার্লো। ফলে এবার রিয়ালের কোন না কোন একজন খেলোয়াড়ের কপাল বোধকরি নিশ্চিতভাবেই পুড়ছে। অনেকের মতে সেই খেলোয়াড়টি হলেন ‘এইট্টি মিলিয়ন ম্যান’ হামেস রদ্রিগেজ। কলম্বিয়ান এই গোল্ডেন বয় এই মৌসুমেই রেকর্ড ট্রান্সফার ফীতে রিয়ালে নাম লিখিয়েছেন। সিজনের শুরু থেকেই রিয়ালের একাদশে নিয়মিত ছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সপ্তাহখানেক আগে ইঞ্জুরিতে পড়ে যান তিনি। আর তাঁর এই দুর্ভাগ্যের আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে মদ্রিচের ইঞ্জুরি থেকে রিটার্নের সংবাদ। আজকে লা লিগায় ভিলারিয়ালের সাথে মাঠে না নামালেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শালকের সাথে পরবর্তী ম্যাচে যে তিনি প্রথম একাদশে থাকবেন তা ইতোমধ্যেই খোলাসা করে দিয়েছেন মাদ্রিদ বস। ফলে একদিকে ক্রুস-মদ্রিচের এই অ্যানব্রেকেবল জুটির পুনঃউপাখ্যানে আর অন্যদিকে ইস্কোর ‘এলিট’ উপাধির ঘোষণায় এখন যতদূর মনে হচ্ছে যে কোপটা শেষ পর্যন্ত বর্তমানে মাঠের বাইরে থাকা হামেসের উপরই পড়বে।

মালাগায় থাকাকালীন ‘গোল্ডেন বয়’ এর পুরষ্কার হাতে ইস্কো

ওহ আরকটি কথা বলতে একদম ভুলে গেছি! আজকে লা লিগায় ভিলারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের অধিনায়কের আর্মব্যান্ডটা ইস্কোর বাহুতে থাকছে! বিবিসি বলুন আর মাদ্রিদ বলুন পুরো দলের লিড কিন্তু দেবেন আজ এই গোল্ডেন বয় খ্যাত ইস্কোই। অধিনায়ক ইস্কোকে দেখতে তর সইছে না? তবে আরেকটু অপেক্ষা করুন। বাংলাদেশ সময়ে আজ রাত ২ টায় ইয়েলো সাবমেরিনকে ডুবাতে মাঠে নামছে ‘হোয়াইট হান্টারস ফিচারিং বিবিসি অ্যান্ড ইস্কো’

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

13 − 6 =