বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদকে আটকে দিয়ে লা লিগা জমিয়ে তুলল ‘ইয়েলো সাবমেরিন’রা।

সুযোগ এসেছিল ৪ পয়েন্টের ব্যাবধান ধরে রেখে লা লিগার লিগ টেবিলে শীর্ষস্থান ধরে রাখার। কিন্তু শেষমেশ ‘ইয়েলো সাবমেরিন’ দের বাঁধায় সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে গেল রিয়াল মাদ্রিদের। ফলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বার্সেলোনা থেকে রিয়ালের পয়েন্ট ব্যবধান এখন মাত্র ২। আর তাই লা লিগা জিততে হলে ২৩ মার্চের এল ক্লাসিকো জেতাটা রিয়াল মাদ্রিদের জন্য একরকম ‘ফরয’ কাজ হয়ে গেল বৈকি।

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যাচের প্রথম থেকেই ভিলারিয়াল মুহুর্মুহু আক্রমণে রিয়ালের ডিফেন্সকে ব্যাস্ত করে রাখে। তবে মাদ্রিদও বেশ কয়েকবার আক্রমনে গিয়েছিল, বেশ কিছু সুযোগও তৈরি করেছিল, কিন্তু কেন জানি তাদের অ্যাটাকিং থার্ড ঠিকমত ওইগুলো কাজে লাগাতে পারছিল না। অনেকটা যেন একজন ‘ডেডলি স্ট্রাইকার’ এর অভাবে ভুগছিল রিয়াল মাদ্রিদ।

ম্যাচের ১৮ তম মিনিটের সময় ভিলারিয়ালের দারুণ এক অ্যাটাকে গোল প্রায় হয়েই গিয়েছিল। কিন্তু বল ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ইকার ক্যাসিয়াস। আবার ফিরতি বলে শট নিয়েছিলেন মরেনো। এটার জন্য স্বয়ং ক্যাসিয়াসও প্রস্তুত ছিলেন না। কিন্তু বারের ডান কোনা থেকে দারুণ দক্ষতায় মোরেনোর শটটি হেড করে ঠেকিয়ে বেশ বড় বাঁচা বাঁচিয়ে দেন দানি কারভাহাল।

কারভাহাল এই সেভটি না করলে হয়ত ম্যাচটি হারতেও পারত রিয়াল মাদ্রিদ

আর এর পর রিয়াল মাদ্রিদ যেন আরও তেতে উঠে। একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে তারা। কিন্তু ভাল ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলশূন্য থাকতে হয় তাদের। ফলে প্রথম হাফ শেষ হয় ম্যাড়ম্যাড়ে ০-০ স্কোরলাইন নিয়ে।

পেনাল্টিতে প্রথম গোল রোনালদোর

দ্বিতীয় হাফের  বক্সের ভিতর এরিক বেইলির ফাউলে পেনাল্টি পায় রিয়াল মাদ্রিদ। রোনালদো কোন ভুল করেননি। ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং করে দলকে লিড এনে দেন তিনি। এরপরও অনেকবার আক্রমণে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু গোল আর পাচ্ছিল না তারা। এই সুযোগে ম্যাচের ৭৭ মিনিটে রিয়ালের ডিফেন্সের ভুলের সুযোগ নিয়ে এবার গোল করে বসেন ভিলারিয়ালের জেরার্ড মোরেনো। আর এই গোলে ম্যাচে যেন নতুন করে আবার উত্তেজনা ফিরে আসে। রিয়াল আরও আগ্রাসী হয়ে যায়। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে গোলবঞ্চিত থাকতে হয় তাদের।

ভিলারিয়ালকে সমতায় ফেরান মোরেনো

পরে গ্যারেথ বেল কর্নার থেকে দারুণ একটি সুযোগ পেয়েছিলেন কিন্তু তাঁর হেডটি ছিল অফ টার্গেটে। এরপর অন টার্গেটে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দারুণ একটি হেড অসাধারণভাবে ফিরিয়ে দেন ভিলারিয়াল গোলরক্ষক সার্জিও অ্যাসেঞ্জো। সত্যি বলতে পুরো ম্যাচ জুড়েই অসাধারণ ছিলেন ২৬ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। আর ওইদিকে পেনাল্টি থেকে দলের প্রথম এবং লিগে নিজের ৩০ তম গোল পেলেও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি রোনালদো। তবে বেচারাকে দোষ দিয়েও লাভ নেই। অন টার্গেটে ছয় ছয়টি শট নিয়েও যে সার্জিও অ্যাসেঞ্জোর দক্ষতায় আর কোন গোল পাননি এই পর্তুগিজ উইঙ্গার!

বেলের এই হেডারটি ছিল অফ টার্গেটে

গ্যারেথ বেল আর করিম বেঞ্জেমা হয়ত এই ম্যাচ ভুলে যেতে চাইবেন। তাদের লক্ষণীয় নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স দলকে বেশ ভুগিয়েছে। ইস্কো এদিনও বরাবরের মতই নিজের সেরাটা দেবার চেষ্টা করেছেন। আর অপরদিকে মার্সেলোর ছিল পিউর ব্যাড লাক। বেচারা অনেক চেষ্টা করেছেন কিন্তু দিনটা যেন ঠিক তাঁর ছিল না! পড়ে অবশ্য ম্যাচ শেষে অঝোর ধারায় কেঁদেছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফুলব্যাক।

যাই হোক ১-১ গোলে ম্যাচটি ড্র হওয়াতে এবার লা লিগা জয়ের সমীকরণটা একটু কঠিন হয়ে গেল মাদ্রিদের জন্য। ২৩ মার্চের এল ক্লাসিকোতে ন্যু ক্যাম্পে এখন বার্সেলোনাকে না হারিয়ে আর উপায় নেই লস ব্লাঙ্কোসদের। আর এই টেনশন ময় পরিবেশে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সুসংবাদটি হল গিয়ে লুকা মদ্রিচের রিটার্ন। খুব সম্ভবত ১০ তারিখে শালকের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ২য় রাউন্ডের ম্যাচেই দীর্ঘ তিনমাসের ইঞ্জুরি কাটিয়ে দলে ফিরছেন এই ক্রোট মিডফিল্ডার। এখন শুধু ২৩ তারিখের অপেক্ষা।

ম্যাচ ফ্যাক্টস

রিয়াল মাদ্রিদ   ভিলারিয়াল
৬১% বল দখলের হার ৩৯%
২৫ মোট শট

গোলে শট
১০ কর্নার

৪২৩ মোট কপমপ্লিটেড পাস ২২১
২১% ক্রসিং সূক্ষ্মতা ২৫%
ফাউল

২০

হলুদ কার্ড

অফসাইড
১১ মোট ট্যাকলস

১৫

 

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

3 × 3 =