রিয়ালের তারকা ভরা আকাশে শীঘ্রই যুক্ত হতে যাচ্ছে আরেক গ্যালাক্টিকোর নাম

পল পগবা – ফুটবল খেলা দেখেন কিন্তু এই খেলোয়াড়টির নাম জানেন না এমনটা বর্তমানে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বয়স মাত্র ২১ হলেও তিনি ইতোমধ্যেই ফুটবল বিশ্বের “হটকেক”। একে জন্ম জিদানের দেশ ফ্রান্সে, সাথে আবার খেলেনও ঠিক জিদানেরই পজিশনে। ক্লাব ফুটবলে খেলছেন ইতালিয়ান কিংবদন্তি ক্লাব জুভেন্টাসের হয়ে। ওইখানে ইতোমধ্যেই কোন খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ বেতন হিসেবে বাৎসরিক সাড়ে চার মিলিয়ন ইউরো করে কামাই করছেন! জুভেন্টাসে তাঁর সমান বেতন পান আর মাত্র একজন ব্যক্তি। নাম তাঁর জিয়ানলুইজি বুফন। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ফুটবল স্টাডিজ (CIES) এর এক জরীপ অনুযায়ী এই ২১ বছর বয়সী তরুন নাকি ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলারদের ট্রান্সফার লিস্টের তালিকায় পাঁচ নম্বরে অবস্থান করছেন! আর এই বয়সেই তাঁর মূল্য নাকি ৭২ মিলিয়ন ইউরো! তাঁর উপরে আছেন কেবল ডিয়েগো কস্তা (৮৪ মিলিয়ন), ইডেন হ্যাজার্ড (৯৯ মিলিয়ন), ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (১৩৩ মিলিয়ন) এবং লিওনেল মেসি (২২০ মিলিয়ন)।

এবার আসল কথায় আসি। এতক্ষন ধরে যে এতকিছু বললাম তার উদ্দেশ্য হল গিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের ট্রান্সফার লিস্টের তালিকায় নাকি এই ইয়ংস্টার বর্তমানে এক নম্বরে অবস্থান করছে। আর ক্লাবটা যখন রিয়াল মাদ্রিদ আর তাদের প্রেসিডেন্টের নাম যখন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ তখন এই ডিল যে প্রায় নিশ্চিত তা এখনই চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায়।

আর এই ডিলের পিছনে ক্যাটালিস্ট হিসেবে কাজ করছেন ওই জিনেদিন জিদান-ই। তিনি একই সাথে মাদ্রিদ এবং পগবাকে চাপ দিচ্ছেন চুক্তি সই করার জন্য। স্পেনের নির্ভরযোগ্য এক সুত্রের দাবি অনুযায়ী জিদান নাকি গত কয়েকমাস ধরেই ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ এবং ডিরেক্টর জোসে অ্যাঞ্জেল সানচেজকে অনুরোধ করে আসছেন পগবাকে দলে ভেড়ানোর জন্য। শুধু এটা করেই ক্ষান্ত হননি তিনি। ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসের সাথে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চুক্তিতে থাকা পগবাকেও ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার ফোন করে রিয়ালে আসার জন্য জোরাজোরি পর্যন্ত করেছেন। জিদানের ভাষ্যমতে “পগবা খুবই স্পেশাল একজন খেলোয়াড়”!

ফ্রান্সের হয়ে ছুটছেন পগবা

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর পিএসজি ইতোমধ্যে পগবার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পগবা চাইলে তারা পগবার বর্তমান বেতন দ্বিগুণ করে দিতেও রাজী। তবে পগবা এদের নিয়ে ভাবছেন না। কারণ ২০১২ সালে এই ইউনাইটেডের তাচ্ছিল্যের স্বীকার হয়েই তো সেই ক্লাব ছেড়েছিলেন তিনি। সুতরাং নতুন করে আবার সেখানে যোগ দেবার প্রশ্নই উঠে না। আর পিএসজিতে যেতে না চাইবার কারন হল ফ্রেঞ্চ লিগের নিম্নমানতা। ওইদিকে আবার সপ্তাহখানিক ধরে বার্সেলোনাও নাকি পগবার জন্য জুভেন্টাসের দরজায় কড়া নাড়ছে। কিন্তু ফিফা কর্তৃক ট্রান্সফার ব্যানের দরুন ২০১৬ সালের আগে তারা কোন নতুন খেলোয়াড় কিনতে পারবে না। আর তাই এই সুযোগে জিদান, যিনি ২০১১ সালে ঠিক একইভাবে আরকে ফ্রেঞ্চম্যান রাফায়েল ভারানেকে রিয়ালে ভিড়িয়েছিলেন, ঠিক একইভাবে তিনি এখন পগবাকেও দলে ভেড়াতে চাচ্ছেন।

ওইদিকে জনাব ভারানেও পগবার বিশাল ভক্ত। তারা বেশ ভাল বন্ধুও। দুইজনেরই জন্ম ফ্রান্সে। জন্মেছেনও একই বছরে; ১৯৯৩ সালে। দুজনকেই বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা ইয়ং ট্যালেন্ট এবং ভবিষ্যৎের বিশ্বসেরা ফুটবলার ধরে নেয়া হচ্ছে এবং কাকতালীয়ভাবে দুইজনেরই একই দিনে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ঘটেছে! (২০১৩ সালের ২২ মার্চ তারিখে জর্জিয়ার বিপক্ষে)। তো ভারানেও চাচ্ছেন যে পগবা রিয়ালে যোগ দিক। কিছুদিন আগে টেলিফুটকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তরুন ডিফেন্ডার বলেন, “আমি তাকে (পগবাকে) মাদ্রিদে আসতে বলেছি”।

ভারানে এবং পগবা – ফ্রান্সের ভবিষ্যৎের সংজ্ঞা এদের মধ্যেই নিহিত

এখন কথা হল গিয়ে তাঁকে কি সত্যিই সাইন করাবে রিয়াল মাদ্রিদ? এখানে কিছু কথা বলে রাখা ভাল। পগবা খেলোয়াড় হিসেবে দারুণ ট্যালেন্টেড হলেও মাঠের বাইরে তাঁর চরিত্র এবং বিভিন্ন পজিশনে খাপ খাওয়ানো নিয়ে তাঁর বেশ দুর্নাম আছে। একই সাথে পগবার এজেন্ট মিনো রাইয়োলার অতিরিক্ত পরিমাণ মিডিয়া এক্সপোসার রিয়ালের পছন্দ নয়। এইতো কিছুদিন আগেই রাইয়োলা আর জুভেন্তাসের প্রেসিডেন্ট মিলে মিডিয়াতে পগবার ট্রান্সফার ফি নিয়ে খুব লাফালাফি করেছে। তাদের ইঙ্গিত এই মৌসুমের শেষেই পগবার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হয়ে যাবে। তবে জুভেন্টাস কিন্তু এক চিলতে ছাড় দিতেও রাজী নয়! ২০১৩ সালে ইতালির গোল্ডেন বয় খেতাব পাওয়া এই খেলোয়াড়কে তারা যে কোন মূল্যেই ছাড়বে না ঠিক এমনটাই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ক্লাবের জেনারেল ম্যানেজার বেপ্পে মারোত্তা।

তবে ফুটবলিয় ট্যালেন্ট ছাড়াও পগবার বেশ কিছু ভাল দিক আছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড়টি হল তাঁর নেতৃত্ব প্রদানের যোগ্যতা। তাঁর কথা বলার ধরন অনেকটাই মেসি বা রোনালদোর মত। একদিন বিশ্বসেরা খেলোয়াড় হতে চান এবং ব্যালন ডি অর জিততে চান- মনের এই বাসনাগুলো মিডিয়াতে প্রকাশে এতটুকু দ্বিধাবোধ করেন না। আর পগবার এসব গুনে মুগ্ধ হয়ে রিয়ালের চোখ যখন তাঁর দিকে একবার পড়েছেই তখন হয়ত শেষমেশ মাদ্রিদে এসেই ঠেকবেন পল পগবা। আর তখন হয়ত রেকর্ড গড়েই আসবেন তিনি। কিংবদন্তি জিদানের ৭১ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফী-কে ছাপিয়ে হয়ত তিনিই হবেন ফ্রান্সের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ফুটবলার!

 

 

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

20 − three =