ড্যারেন লেম্যান :অমর কীর্তির সামনে

অ্যাশেজ সিরিজ অসিদের কাছে অতি মর্যাদার, সম্মানের। আড়াই মাসের ভেতর দুই সিরিজ হয়েছিলো ২০১৫ বিশ্বকাপকে স্বাগত জানাতে গিয়ে। এ ঘটনা ২০১৪ এর। প্রথমটিতে ইংলিশদের কাছে নাস্তানাবুদ হয় অসিরা, মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে ছিল হোমওয়ার্কগেট কেলেংকারি। এর জের ধরে রাগি হেডমাস্টার মিকি আর্থার দল থেকে ওয়াটসন সহ আরও তিনজনকে পত্রপাঠ বিদায় দেন। এই সিরিজে গো হারা হারার পর সম্বিত ফেরে অসি ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের, ক্রিকেটকে রসাতলে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে প্রথমেই খেয়ে ফেলা হয় রাগি হেডমাস্টার মিকির চাকরি। দায়িত্ব দেওয়া হয় এমন একজনকে, যার পক্ষে সেসময় বাজি ধরার লোক খুব বেশি ছিলনা। বলা চলে বড় ধরনের জুয়া খেলেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। লোকটি কিন্তু রাগারাগির ধারেকাছে দিয়েও গেলেন না, দলে ছড়িয়ে দিলেন স্বস্তির সুবাতাস। মিশতে চাইলেন ছেলেদের সাথে বন্ধুর মতো, যে কিনা সব সমস্যা শুনবে, একটু আধটু ছুটিও দেবে আবার মারাত্মক ভুল করলে হবে ইস্পাতকঠিন। লোকটি এখন দাড়িয়ে আছেন অমর কীর্তির সামনে, কালকের ফাইনালে তার ছেলেরা জিতলেই একই সাথে কোচ ও খেলোয়াড় হিসেবে স্বপ্নের বিশ্বকাপ জয়ের অমর কীর্তির কারনে ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ের পাতায় তার নাম উঠে যাবে স্বর্ণাক্ষরে। রিকি পণ্টিং এর প্রথম বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য এই সব্যসাচী মানুষটার নাম ড্যারেন লেম্যান।

তিনি যখন দায়িত্ব নিলেন, তখন অস্ট্রেলিয়ার অবস্থা, ‘ দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মত। কে আছো জওয়ান, হও আগুয়ান, হাকিছে ভবিষ্যৎ’ তা তিনি হালটা শক্ত হাতে ধরলেন। প্রথমেই খেলোয়াড়দের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেন। স্কুল বালকদের মতো শাস্তির ব্যাপারটি বলতে গেলে তুলেই দিলেন। প্রথম ফল দেখা গেলো পরের অ্যাশেজে, যখন মিচেল জনসনের গলায় বিধ্বস্ত হল ইংলিশ দম্ভ। কিভাবে হল এত বড় পরিবর্তন, এ নিয়ে ভেবে কূলকিনারা পায়নি বিখ্যাত ব্রিটিশ মিডিয়াও।

তার সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন হিসাবে স্মিথকে দেখুন। রিকির পর তিন নম্বরে বহু মানুষকে খেলিয়েছে অসিরা। কোথায় যেন তাল কেটে যাচ্ছিলো বারবার। লেগ স্পিনার আর টুকটাক ব্যাটিং করতে পারা স্মিথ আট নম্বরে খেলতেন, সেখান থেকে তাকে তিন নম্বরে তুলে নিলেন। দেখে অনেকের চোখ কপালে উঠলেও নেমে যেতেও সময় লাগেনি। স্মিথ এই সেদিনও ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিতে দুর্দান্ত শতক হাঁকিয়ে দলকে ফাইনালে নিলেন। এতে কি তার আগের কীর্তি চাপা পড়বে? মোটেই না। ভারতের বিপক্ষে ব্যাট হাতে টেস্ট সিরিজে যা করেছেন, তা রুপকথার নায়কও অনেক সময় করতে পারে না। লেম্যান তো এখন বলতেই পারেন, তিনি স্মিথকে না তুলে আনলে এমন কি আর হতো!?

তলিয়ে যেতে থাকা একটা দলকে সুখী পরিবারে পরিনত করা অভিভাবক লেম্যান দাড়িয়ে অসাধারণ এক কীর্তির সামনে। পারবেন তার প্রাণপ্রিয় ছেলেরা তাকে স্বপ্নের বিশ্বকাপ উপহার দিতে?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

17 − 14 =